শেখ আবদুল হাকিম জন্ম ১৯৪৬, পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায়। ৪ বছর বয়সে বাংলাদেশে আসেন। অসংখ্য গোয়েন্দা উপন্যাস লিখেছেন ও অনুবাদ করেছেন। কর্মজীবনের প্রায় পুরোটাই সেবা প্রকাশনীতে লেখালেখির কাজে ব্যয় করেছেন। মাসিক রহস্য পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ছিলেন বহু বছর। নিজের রচনা আর অনুবাদ মিলিয়ে বইয়ের সংখ্যা কয়েক শ।
শেখ আবদুল হাকিমের 'জাকি আজাদ' যে মাসুদ রানা'রই ছায়া, সেটা যে কেউ পড়লেই বুঝে যাবে। হওয়াটা স্বাভাবিকও, কারণ এখন সেবা'র পাঠকরা সবাই জানেন যে, মাসুদ রানা'র অনেকগুলো বই শেখ আবদুল হাকিমেরই লেখা। আইনি দিকে না যাই, কিন্তু এটা খুবই সম্ভব যে, মাসুদ রানা'র মূল স্রষ্টা কাজীদা হওয়াতে সেই চরিত্রকে নিয়ে বই লিখলেও স্বীকৃতিটা আবদুল হাকিম পাচ্ছিলেন না বলেই হয়তো একই আদলে আরেকটা চরিত্র সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু রানা ততদিনে তুমুল জনপ্রিয়, এদিকে এটাও ধরে নেয়া যায় যে, এই চরিত্রের দু'-একটা বই ছাপালেও প্রতিদ্বন্দ্বী এবং একই আদলের আরেকটা চরিত্রকে সেবা-ও প্রমোট করতে চায়নি, আর পাঠকপ্রিয়তাও পায়নি যতটা বোঝা যায়। আমি নিজে যেটা পড়েছি, খুব একটা সুবিধের লাগেনি। যা-ই হোক, এই বইটাও গড়পড়তা, নতুনত্ব তো নেই-ই, রানা'র পেছনে যে যত্ন, সেটাও চোখে পড়লো না। টেনেটুনে ২ দেয়া যায়, দেড়-ই বরং সঠিক রেটিং। আর হ্যাঁ, সেবা'র এই দুই দিকপাল জীবনের শেষ প্রান্তে এমন একটা লড়াইতে জড়িয়ে না পড়লেই ভক্ত হিসেবে ভাল লাগতো, কিন্তু কি আর করা, দুনিয়া জায়গাটাই হতাশাজনক।
সাহারা মরুর সিংহ খান খানান মহব্বত জান। চাইছে পুরো সাহারা জুড়ে ইসলামি শরিয়া শাসন প্রতিষ্ঠা করতে। লোকবলের কোন অভাব নেই। চাই শুধু আধুনিক অস্রশস্র। সেটা পাওয়ার উপায় হিসেবে কিডন্যাপ করলো সুইডিশ অস্র ব্যাবসায়ী ডুসেল সেবাস্তিয়ান এর পুত্র র্যাদার সেবাস্তিয়ান আর প্রেমিকা সুলেখা নাজনীনকে। সুলেখা নাজনীন যে কিনা জাকি আজাদের ফুপাত বোন। খবর পেয়েই এক দল মারকুটে মার্সেনারি নিয়ে ছুটলো মৃত্যুপুরী সাহারায়। ঝটিকা হামলা চালিয়ে বন্দীদের উদ্ধার করে পালাচ্ছে ওরা। কিন্তু পালিয়ে যাবে কোথায়। মাথার উপর তাপ বিলোচ্ছে সাহারার উত্তপ্ত সূর্য আর পিছনে ধাওয়া করছে একপাল নেকড়ে। শুরু হলো মরণপণ এক লড়াই।