আমার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ওটার ওপর স্থির হয়ে আছে। ছায়ার ভেতর জন্ম নিতে দেখলাম—বৈরী, বিশ্বাসঘাতক, একজোড়া সাপের চোখ। আলোর বুদ্বুদ আবার হু হু করে উথলে ওঠার ভঙ্গিতে পিরে এল; শুরু হলো বিশৃঙ্খল, অনিয়মিত অস্থিরতা, মিশে যাচ্ছে নিষ্প্রভ জ্যোৎস্নার সঙ্গে। আলোর বুদ্বুদ বা ফোঁটা থেকে, ওগুলো যেন একেকটা ডিম, বিস্ফোরিত হয়ে বেরিয়ে আসতে শুরু করল বিকৃত ও অশুভ অশরীরী। কেউ আমাকে বলেনি, আমার মনই গেয়ে উঠল: ‘ওগুলো সব অতৃপ্ত আত্মা।’ ওগুলোর আকৃতির মধ্যে যেমন জ্যামিতিক কোনো বৈশিষ্ট্য নেই, তেমনি নড়াচড়ায়ও নেই এতটুকু শৃঙ্খলা।… এভাবে একসময় আমার মাথাকে মাঝখঅনে রেখে চক্কর মারতে লাগল ওই ভূতগুলো… একবার নরম, ঠাণ্ডা কিছু আঙুল আমার গলা টিপে ধরল…
শেখ আবদুল হাকিম জন্ম ১৯৪৬, পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায়। ৪ বছর বয়সে বাংলাদেশে আসেন। অসংখ্য গোয়েন্দা উপন্যাস লিখেছেন ও অনুবাদ করেছেন। কর্মজীবনের প্রায় পুরোটাই সেবা প্রকাশনীতে লেখালেখির কাজে ব্যয় করেছেন। মাসিক রহস্য পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ছিলেন বহু বছর। নিজের রচনা আর অনুবাদ মিলিয়ে বইয়ের সংখ্যা কয়েক শ।
জীবনে ভয় কাকে বলে সেটা হাড়ে মজ্জায় টের পেয়েছিলাম এই বইটা পড়ে। একটাও বদখত ভূত সামনে না এনে, রগরগে নৃশংস কোনো দৃশ্যের অবতারণা না করে স্রেফ লেখনীর জোরে চরিত্রগুলোর উপরে ভৌতিক পরিবেশের প্রভাব ফেলে, তাদের অসহায়ত্ব প্রকটভাবে জাহির করে যেই রুদ্ধশ্বাস অবস্থার সৃষ্টি করেছিলেন লেখক সেটা অনেকদিন মনে থাকবে।
প্রথমআলোর কোনো এক ঈদসংখ্যায় এটা প্রকাশিত হয়েছিল। প্রথমে ভেবেছিলাম শেখ আবদুল হাকিমের মৌলিক লেখা। কিন্তু উপন্যাসের শেষে লেখা ছিল "বিদেশি কাহিনির ছায়া অবলম্বনে"। মানে রূপান্তর আরকি। এটা দেখে একটু হতাশই হয়েছিলাম।