এই আত্মজীবনীর মূল সমস্যা হল অতিশায়ন। লেখক একজন সুদক্ষ সেনা কর্মকর্তা ছিলেন সন্দেহ নেই,কিন্তু নিজের কথা বলতে গিয়ে কোথাও অল্পে থামেন নাই। তিনি সৈনিক জীবনের খুঁটিনাটি বেশ সুচারুভাবে লিখে গেছেন,কিন্তু বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে তাঁর যে হাইলাইট- সেই ওয়ান ইলেভেন প্রসঙ্গ সযত্নে এড়িয়ে গেছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সেনাবাহিনীর হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রদান,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের পর কারফিউ,সামরিক বাহিনীকে দিয়ে সিভিলিয়ান ডিউটি করানো এবং জনমনে/সামরিক বাহিনীতে সেটার প্রভাব- এসব নিয়ে তিনি প্রায় কিছুই বলেন নাই। মিলিটারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স নিয়েই ভদ্রলোকের কোন মতামত দেখলাম না।
দিনশেষে বইটা আত্মগর্বে স্ফীত এক সাবেক সেনাপ্রধানের সুসময়ের স্মৃতিচারণের বেশি কিছু হয়নি।
* ঢাবিতে যে মারামারির ফলে সেনাবাহিনীকে যে পিটানি দিয়েছিল ভার্সিটির পুলাপান, ১/১১ এর কাহিনী, আলু কাহিনী সযত্নে এড়িয়ে গিয়েছিলেন... পুরোই রাজনীতিবিদ স্টাইলে।
তথ্যবহুল নয়, আত্মজীবনী বলা যায়। সমসাময়িক রাজনীতি সম্পর্কে লেখক সচেতন ভাবে তার মতামত প্রকাশ করা থেকে বিরত থেকেছেন। এবং অতি সরলীকরণ এর মাধ্যমে নিজের মতামত প্রকাশ করেন নি বরং নিজ কর্মের জাস্টিফিকেশন দার করিয়েছেন।
ফক্রুদ্দিনের শাশনামল আমার কাছে ভালই লেগেছিল। যদিও পেছনে থেকে অনেকটা ভূমিকা পালন করেছেন জেনারেল। ওনার কারনেই নেশন্যাল আইডেন্টিটি কার্ড পেয়েছে বাংলাদেশ, এটা একটা বড় ভূমিকা ওনার।