স্ত্রীর মৃত্যুর পর দশ বছরের স্যামকে পড়াশোনা শেখানোর দায়িত্ব বিল ডাইকের ওপর দিয়ে খরচের জন্য ওর কাছে তিন বস্তা সোনা রেখে পশ্চিমে গেল ম্যাক্স। দুর্ব্যবহার সহ্য করতে না পেরে বিলের ছেলে ড্যান ডাইকের নাক আর চোয়াল ভেঙে দিয়ে পাহাড়ে নিজেদের ছোট্ট কেবিনে পালিয়ে গেল স্যাম। সতেরো বছর বয়সে স্যাম নিজেও টিংকারের সঙ্গে পশ্চিমে রওনা হলো। জমে উঠল এক বিচিত্র খেলা।
কাজি মাহবুব হোসেনের লেখা দিয়ে ওয়েস্টার্ন সিরিজের যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৩ সালে। কাজি মাহবুব হোসেন ওয়েস্টার্ন সিরিজ ছাড়াও পিশাচ কাহিনী ও অনুবাদের বেশ কিছু বই লিখেছিলেন যা অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। এবং তাঁর প্রথম বই অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছিলো ১৯৮২ সালে।
স্ত্রী মারা যাওয়ার পর ছেলেকে বিল ডাইকের হাতে দায়িত্ব দিয়ে পশ্চিমের উদ্দেশ্যে রওনা হল মাক্স স্লোন। যাওয়ার আগে তিন বস্তা সোনার মোহর দিয়ে গেল খরচের জন্য। কথা ছিল দুই মোহর স্যাম স্লোনের জন্য খরচের জন্য ১ মোহর করে পাবে বিল। কিন্তু যখন বিল বুঝতে পারল যে মাক্স আর আসবে না তখন পুরো সোনা লোপাট করে দিল নিজের নামে। স্যাম বিল আর তার ছেলের বাটপারিতে অতিষ্ঠ হয়ে বিলের ছেলে ড্যান এর নাক ভেঙ্গে দিয়ে পশ্চিমে রওনা হল এক রহস্যময় টিংকারের(ফেরিয়ালা) সাথে। কিন্তু রওনা দেওয়ার সাথে সাথেই ঝামেলা পিছু নিল স্যামের। এমন অনেক কিছু জানতে পারল তার বাবার সম্পর্কে যা সে চিন্তাও করতে পারেনি কখনো।
পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ পড়ার পরে একটা কথাই মাথায় এসেছে এটা কি আসলেও কাজী মাহবুব হোসনের লিখা? বেশী রূপকথা টাইপের হয়ে গেছে। পড়তে খুব বেশী প্যারা লাগেনি বাট কাহিনী অনেক ইম্যাচিউর। মাঝে মাঝে এমন চানাচুর টাইপের লিখা অবশ্য খারাপ লাগে না।
মনে হলো ১২০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত কাজী মাহবুব হোসেন নিজে লিখেছেন, দারুণ জমজমাট কাহিনী, আর শেষ ২০ পৃষ্ঠা ছেড়ে দিয়েছেন নবিশ কোন লেখকের হাতে যার আবার ট্রেন ধরার খুব তাড়া ছিল। এজন্য ৩ দেয়া হলো।
স্যাম স্লোন, পিতা ম্যাক্স স্লোন তার মায়ের মৃত্যুর পরে তাকে রেখে যায় ডাইকের কাছে দুই বস্তা স্বর্ণ মুদ্রা সহ। যাতে ডাইক তাকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করতে পারে। কিন্তু ডাইক যখন ম্যাক্সের মৃত্যুর খবর পায় সে স্যামকে স্কুল থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে কাজে লাগিয়ে দেয় আর নিজের ছেলে ড্যান ডাইককে স্কুলে ভর্তি করে দেয়। মেরে দেয় ম্যাক্সের রেখে যাওয়া পুরো সোনা। স্যাম একদিন ডিককে মেরে নাক ফাটিয়ে দেয় আর সবার সামনে বলে দেয় সোনা চুরির কথা। এর পরে টেনেসির এই শত্রু পুরিতে থাকা আর সম্ভব নয়। সম্ভব নয় টেনেসির পাহাড়ি এলাকায় জীবনে উন্নতি করা। তাই স্যাম আর টিঙ্কার মিলে পাড়ি জমায় পশ্চিমের সমতল ভুমিতে। স্যামের পিছু নেয় তার তিন আপন মামা। যাদের উদ্দেশ্য স্যামকে হত্যা করা। টেক্সাসে পরিচয় হয় জোনাথনের সাথে যে কিনা ম্যাক্স স্লোনের বন্ধু। তার কাছেই শুনতে পায় তার বাবার পুরনো গল্প আর এক সোনা ভর্তি ডুবে যাওয়া জলদস্যু জাহাজের গল্প। যে গল্প তার বাবাও ছোটবেলায় তাকে বলেছিলো। এই জাহাজ ডুবে আছে মেক্সিকান সমুদ্রতট এলাকায়। গরু ক্রেতার ছদ্দবেশে স্যাম পাড়ি জমায় মেক্সিকোতে। সেখানে দেখা পায় পুরনো এক বন্ধুর। খুজে পায় লুকানো স্বর্ন। দেশে ফেরার পথে স্যাম বন্দি হয় মেক্সিকান জেনারেলের হাতে। এদিকে দেশে অপেক্ষা করছে অনেক গুলো পুরনো শত্রু আর ভালোবাসার মানুষ জিম ওয়াকার। স্যাম কি পারবে সব বাধা উৎরে গিয়ে তার ভালোবাসার মানুষের কাছে ফিরে যেতে?