অসহায় নিঃসঙ্গ ও বয়স্কা এক মহিলাকে তারই র্যাঞ্চে অবরোধ করেছে পিট হ্যালেটের লোকেরা। ধৈর্য ধরে বসে আছে হ্যালেট, লাগুক না-হয় কয়েকদিন, কিন্তু বুড়িকে র্যাঞ্চ ছাড়ঙ্রেক ছাড়বে। স্বর্গরাজ্যের মত বিস্তীর্ণ এক তৃণভূমি আর হ্যালেটের মাঝে শুধু রয়েছে বুড়ি ঐ মহিলা।
হঠাৎ উপস্থিত হলো এক ভবঘুরে। লোকটা কি আসলেই ভাল মানুষ? নাকি বদ মতলব নিয়ে এসেছে? পিট হ্যালেট পাঠায় নি তো? সঙ্গে আবার একটা অপূর্ব সুন্দরী মেয়েকে নিয়ে এসেছে। মেয়েটাও কি হ্যালেটের জঘন্য ষড়যন্ত্রের অংশ?
হ্যালেট শুধু বয়সটাই চিন্তা করেছে, দুর্বল ভেবেছে বয়স্কা মহিলাকে, কিন্তু সে জানে না বুড়ির আরও একটা পরিচয় আছে। সে একজন ক্যালকিন।
এমিলি টিরেল। সিওয়াশ শহরের ধারে বিশাল এক রেঞ্চে বাস করে সে। স্বামীকে খুন করে পিট হ্যালেট। এখন তার র্যাঞ্চ দখল করে নেওয়ার জন্য। এদিকে টিরেল অপেক্ষা করছে তার দুই ছেলের জন্য। তাদের দুই জনের হাতে র্যাঞ্চের দায়িত্ব দিয়ে ঝামেলা মুক্ত হতে চান। কিন্তু তারা কই আছে আদৌ বেঁচে আছে কিনা সেটাও সে জানে না।
জন ক্যালকিন। সিওয়াশ শহরে বিশ্রাম এবং খাবারের জন্য থেমেছে সে। খেতে বসে একটা মেয়ে (লিলি) নিয়ে ঝামেলায় পড়ে যায় সে। অসহায় মেয়ে দেখে সে চুপ করে থাকতে পারে না। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু নিজের সাথে রাখা সম্ভব নয় এমন মেয়েকে। খোঁজ পায় এলাকায় একমাত্র ভদ্র মহিলা হল টিরেল।
লিলিকে নিয়ে টিরেলের র্যাঞ্চে পৌছে দিতে যায়। ক্যালকিনের সাথে দেখা হয় টিরেলের। ঘটনায় জানতে পারে এমিলি একজন ক্যালকিন। পরিস্থিতি পালটে যায় সব। জন এমিলিকে বিপদে ফেলে যেতে পারেনা আর। রুখে দাঁড়ায় হ্যালেটের বিরুদ্ধে। খবর পৌছে দেয় এমিলির দুই ছেলের কাছে যে তাদের তার মা এর দরকার।
ফাইনাল শো ডাউন ঘনিয়ে আসছে। কি ঘটবে ক্যালকিনের ভাগ্যে?
ফ্রাঙ্ক টিরেলকে হত্যা করে তার র্যাঞ্চ দখল করতে চাইলো হ্যালেট। কিন্তু র্যাঞ্চের দরজায় পা রাখা মাত্র এমিলি টিরেল রাইফেলের গুলিতে হ্যালেটের দুই পা গুড়িয়ে দিলো চিরদিনের মতো। বিগত এক বছর ধরে খোড়া হ্যালেটের হাত থেকে র্যাঞ্চ রক্ষা করে আসছে এমি একাই। দুই ছেলে ব্রায়ান আর স্যাম অনেক বছর ধরে বাড়ি ছাড়া। ওরা জানে বাবা মা দুজনেই মারা গেছে আর র্যাঞ্চ বেদখল। তাই আর ফেরার ইচ্ছে হয়নি। এদিকে হ্যালেট একের পর এক লোক ভাড়া করেও বুড়ির কিছু করতে পারছেনা। হ্যালেটের জানা নেই বুড়ির আরেকটা পরিচয় আছে। সে একজন ক্যালকিন। হ্যালেট যখন এমিকে চারিদিক থেকে ঘেরাও করে রেখছে সেই চরম মূহুর্তে র্যাঞ্চে হাজির হলো জন ক্যালকিন। এসেই হ্যালেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলো জন। এদিকে আসল খবর পেয়ে দুই ভাই ব্রায়ান আর স্যাম বাড়ির পথে ছুটলো তুফান বেগে। কিন্তু ওরা আসার পুর্বেই শহরে নরক নামিয়ে আনলো জন ক্যালকিন। আমার মতে ক্যালকিন সিরিজের সেরা বই এটি।