তিনটি উপন্যাসিকা নিয়ে সাজানো হয়েছে এ সংকলন - 'কারমিল্লা', 'আতংকের দিন আতংকের রাত', 'জলাভূমির ভয়ঙ্কর'।
জোসেফ শেরিডান লে ফানু'র গথিক হরর উপন্যাসিকা 'কারমিল্লা' প্রকাশিত হয় ১৮৭১ সালে। কারমিল্লা নামে রূপসী ভ্যাম্পায়ারকে নিয়ে রচিত কাহিনিকে বলা হয় বিশ্বের প্রথম সফল ভ্যাম্পায়ার নভেলেট। বিশ্বখ্যাত হরর লেখক ব্রাম স্টোকার কারমিল্লা পড়েই অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন ড্রাকুলা লিখতে।
দ্বিতীয় গল্প 'আতংকের দিন আতংকের রাত' রচিত বিদেশি গল্পের ছায়া অবলম্বনে। এ গল্পের ওয়্যারউলফটি পূর্ণিমা রাতে চাঁদ দেখলে রূপান্তরিত হয় না, কিংবা তার রক্ততৃষ্ণাও জাগে না। তবু গোটা একটি শহরের মানুষ তার ভয়ে আতংকিত। কেন?
'জলাভূমির ভয়ঙ্কর' নামের তৃতীয় হরর কাহিনিটিতে যে পিশাচীর কথা বলা হয়েছে সে মানুষের রক্ত পান করে না। তবে গল্পের নায়িকা জিনাত হোসেন নীলুকে ভয় দেখিয়ে তার আত্মা কাঁপিয়ে দেয়। এটিও বিদেশি কাহিনি অবলম্বনে রচিত।
জন্ম ৫ ডিসেম্বর ১৯৬৯। জন্মস্থান বরিশাল, পিতা প্ৰয়াত লক্ষী কান্ত দাস। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে অনার্স সহ এম, এ করেছেন। ১৯৯৫ সালে | লেখালেখির প্রতি অনীশের ঝোক ছেলেবেলা থেকে । ছাত্রাবস্থায় তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় সাপ্তাহিক, পাক্ষিক এবং মাসিক পত্রিকাগুলোতে চিত্তাকর্ষক ফিচার, গল্প এবং উপন্যাস অনুবাদ শুরু করেন । হরর এবং থ্রিলারের প্রতি তাঁর ঝোকটা বেশি। তবে সায়েন্স ফিকশন, ক্লাসিক এবং অ্যাডভেঞ্জার উপন্যাসও কম অনুবাদ করেননি। এ পর্যন্ত তাঁর অনুদিত গ্ৰন্থ সংখ্যা ১০০’র বেশি। অনীশ দাস অপু লেখালেখির পাশাপাশি সাংবাদিকতা পেশায় জড়িত। তিনি দৈনিক যুগান্তর- এ সিনিয়র সাব এডিটর হিসেবে কাজ করেছেন । তবে লেখালেখিই তার মূল পেশা এবং নেশা ।
পড়তে ইচ্ছা করছিলো টোয়ালাইটের কোন বই। আহ ভ্যাম্পায়ার আর ওয়্যারউলফের এক নিরীহ মানবী নিয়ে টানাটানি! সিরিজের প্রথমটা পড়ার তিন বছর পরেও অন্য কোনটা হাতে নেয়ার সাহস হয় নি ভয়ংকর অনুবাদ স্মরণ করে। আবার ভ্যাম্পায়ারকেও ইগ্নোর করা যায় না। হাতের কাছে থাকা এই বইটা পড়লাম কোনভাবে স্বাদ মেটাতে। হরর হলেও তেমন ভয়ংকর লাগে নি। তবে পুরোটাই উত্তেজনায় ভরা। তিনটা উপন্যাসিকা আছে।
কারমিল্লা - এক সুন্দরী ভাম্পায়ারের মাইল্ড টাইপ রোমান্টিক গল্প। এ গল্প থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে ব্রাম স্ট্রোকার পরবর্তিতে ড্রাকুলা লেখেন।
আতংকের দিন আতংকের রাত - নি:ন্তান দম্পতি দত্তক নেয় রোরিকে। একটু বড় হওয়ার সাথে সাথে রোরির ভিতর আসে অস্বাভাবিকতা। প্রচুর লোম দেখা দেয় সারা শরীরে। আট বছর হলেও সে যেন আঠারো বছরের যুবক। একের পর এক খুন হতে থাকে শহরের মানুষ।
জলাভূমির ভয়ঙ্কর - জীববিজ্ঞানী বাবার সাথে নতুন শহরে আসে নীলু। তার নতুন ঘর খুব সুন্দর। সব যেন প্রিন্সেসের মত। নতুন শহরে পরিচয় হয় বান্ধবী শিলার সাথে। শুরু হয় এডভেঞ্চার। জলাভূমির পিশাচ রক্ত খায় না তবে নীলুকে যতভাবে জ্বালাতন করা যায় করতে থাকে।
তিনটা উপন্যাসিকাই কলেবরে ছোট। গতানুগতিক হরর গল্পের চেয়ে রোমাঞ্চকর ছিলো। অনুবাদ অনীশ দাস অপুর সব বইয়ের মতই ভালো।