ক্লিওপেট্রা যারা জানতে চান তাদের জন্য ফজলে এলাহী চৌধুরীর লেখা 'ক্লিওপেট্রা' বইটি। লেখক এই বইটিতে চেষ্টা করেছেন জর্জ বার্নার্ড শ, সেক্সপিয়ার ও হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড এর ক্লিওপেট্রা কে নিয়ে লেখা বইগুলোর আলোকে একটা নির্মোহ লেখা দার করাতে।
মিশরের মেসিডোনিয়ান সম্রাজ্ঞী ক্লিওপেট্রাকে নিয়ে আগ্রহ মোটামুটি সবারই আছে। তবে এই ক্লিওপেট্রা কিন্তু দ্বাদশ টলেমির কন্যা ৭ম ক্লিওপেট্রা। এর আগেও ৬ জন ক্লিওপেট্রা ছিল, যারা ইতিহাসে কোন আচর রেখে যেতে পারেননি। তাই তাদের নিয়ে তেমন আগ্রহ ইতিহাসবিদদের ও নেই।
৭ম ক্লিওপেট্রা কে নিয়ে আগ্রহের কমতি ছিল না বড় বড় লেখকের ও। কেও তাঁকে নিয়ে নিখেছে উপন্যাস, কেউ নাটক তো কেউ অমিত্রাক্ষর ছন্দের কবিতা। জর্জ বার্নার্ড শ লিখেছেন 'সিজার ক্লিওপেট্রা' যেখানে প্রাধান্য পেয়েছে রোমান্টিসিজম। আবার সেক্সপিয়ার লিখেছেন 'এন্টোনি ক্লিওপেট্রা', যেখানে তিনি দারুণ দক্ষতায় ফুটিয়ে তুলেছেন ক্লিওপেট্রার রুপের বর্ণনা যা কাপিয়ে দিয়েছে কোটি কোটি পুরুষের মন। আবার হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড এর 'ক্লিওপেট্রা' উপন্যাসে ফুটে উঠেছে ক্লিওপেট্রার উচ্চাভিলাষ ও কিছুটা নারীসুলভ অসহায়তা।
তবে ক্লিওপেট্রা যে দারুণ দুঃসাহসী ছিলেন সেটা নিয়ে কারো কোন আপত্তি থাকতে পারে বলে মনে হয় না। জগতে যে কজন নারী প্রচণ্ডভাবে ইতিহাসের পাতায় নিজেকে জ্বলজ্বলে করে রাখতে পেরেছেন তার মধ্যে নিঃসন্দেহে ক্লিওপেট্রা অন্যতম।
ক্লিওপেট্রা কে আরো ভালো ভাবে যারা জানতে চান তারা পড়তে পারেন ফজলে এলাহী চৌধুরীর লেখা 'ক্লিওপেট্রা' বইটি। লেখক এই বইটিতে চেষ্টা করেছেন জর্জ বার্নার্ড শ, সেক্সপিয়ার ও হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড এর ক্লিওপেট্রা কে নিয়ে লেখা বইগুলোর আলোকে একটা নির্মোহ লেখা দার করাতে। যারা ওই তিনটি বই আলাদা আলাদা ভাবে পড়তে না চান তারা এই বইটা পড়ে ফেলতে পারেন। আশা করি ঠকবেন না।
খ্রীষ্টপূর্ব ৬৮ সন, মিশর তখন গ্রীক সম্রাট দ্বাদশ টলেমির শাসনাধীন।মিশর অধিবাসী তাদের চিরচেনা মিশর ফিরে পেতে উদগ্রীব।এই ক্রান্তিলগ্নে রাজটিকা সমেত জন্ম নেয় পুরোহিত আমেনেহাটের পুত্র হার্মেসিস।এক গুরু দায়িত্ব এই শিশুর উপর। একমাত্র সেই পারবে মিশরকে পুনরুদ্ধার করতে, কাজে ব্যর্থ হলে নেমে আসবে ভয়াবহ অভিশাপ। নিষ্ঠুর টলেমির হাত থেকে শিশু হার্মেসিসকে বাঁচানোও ছিল এক প্রকার অগ্নিপরীক্ষা পুর্ণাত্মা আমেনেহাটের কাছে। পরবর্তীতে মিসরের লাগাম ছিল সম্রাজ্ঞী ক্লিওপেট্রার হাতে, যার রূপ ও ক্ষমতার জৌলুসে পরাস্ত হয়েছে টলেমি, জুলিয়াস সিজার ও মার্ক অ্যান্টনির মতো মহাবীরেরা।একসময় যুবক হার্মেসিস প্রস্তুত হয় লক্ষ্য পূরণের জন্য। কিন্তু বিধি বাম!! ক্লিওপেট্রার রূপ ও প্রেমের ফাঁদে পড়ে যায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হার্মেসিস।নেমে আসে পূর্ব নির্ধারিত অভিশাপ। এই হার্মেসিস আবার শুরু করে সাধনা, হয়ে উঠে অলিম্পাস নামের সাধক। ক্লিওপেট্রার বিরুদ্ধে পুনরায় প্রতিশোধ নেওয়ার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়।হ্যা, এবারের শেষ হাসিটা হার্মেসিসই হাসে।
‘ক্লিওপেট্রা’ লেখকের কোনো মৌলিক রচনা নয়। বরং এটি লিখতে তিনি সাহায্য নিয়েছিলেন হ্যাগার্ড ,জর্জ বার্নার্ড শ , শেক্সপিয়ার সহ প্রমুখ লেখকদের। তারপরেও ক্লিওপেট্রা সম্পর্কে জানতে এই বইটি একেবারেই মন্দ নয়।
বই - ক্লিওপেট্রা লেখক - ফজলে এলাহী চৌধুরী। প্রকাশনা - স্টুডেন্ট ওয়েজ।