সাক্ষাৎকার? উঁহু। শ্রদ্ধাঞ্জলি বা ইংরেজি দৈনিকের ভাষায় "অবিচুয়ারি" ? সেটাও পুরোপুরি বলা যাবে না। এ তো আসলে দুই মলাটে হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগানো ভালোবাসা...
তারাদের শেষ চিঠি এক নিঃশব্দ প্রস্থানযাত্রার নস্টালজিক দলিল — না, এটি স্রেফ স্মৃতিচারণ নয়, বরং এক একটি মর্মপীড়িত চিঠি, লেখা জীবনের ওপারে চলে যাওয়া তারকাদের উদ্দেশে। গৌতম ভট্টাচার্যের এই গ্রন্থ পাঠের অভিজ্ঞতা যেন এক অলৌকিক আত্মীয়তাবোধের সঙ্গে সাক্ষাৎ—যেখানে আমরা রাজেশ খান্না, দেব আনন্দ, অটল বিহারী বাজপেয়ী, চণ্ডী গাঙ্গুলিদের বিদায়ী হাসি আর না বলা কথাগুলি শুনতে পাই, একান্ত নির্জনে।
ভাষা সরল অথচ কাব্যিক, কখনো কর্কশ বাস্তব, আবার হঠাৎই রূপ পায় হৃদয়-ভাঙা ছন্দে। সাংবাদিকিক ছাঁদে তথ্য থাকে, কিন্তু সেটি কখনোই আবেগকে ছাড়িয়ে যায় না। বইয়ের কাঠামোতেও অভিনবত্ব—প্রতিটি লেখা যেন শেষ চিঠি, যেখানে লেখক একা বসে বিদায় জানাচ্ছেন, একদম পাঠকের মনের ভাষায়।
গতকাল, বইটি পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল — জীবনের মূল্যবান মুহূর্তগুলো ঠিক কবে ফসকে যায় আমাদের হাত থেকে? লেখক যেন আমাদের হয়ে সেই ফসকে যাওয়া মুহূর্তগুলিকে স্পর্শ করার চেষ্টা করেছেন। প্রতিটি চরিত্র জীবিত থেকেও মৃত, মৃত থেকেও জীবিত।
যদিও কিছু অংশে অতিরিক্ত আবেগপ্রবণতা লেখাকে নাটকীয় করে তোলে, এবং তথ্যনিষ্ঠ পাঠক কিছু তারকার ক্ষেত্রে গভীরতায় খুঁত খুঁজে পেতে পারেন, তবুও এই বই এক অসামান্য পাঠ্যভ্রমণ—একটা হৃদয়-ছোঁয়া ঘোর।
শেষমেশ, এটি শুধু তারাদের কথা নয়—এটা পাঠকের নিজের ভেতরের মানুষটার সঙ্গেও এক অন্তর্মুখী আলাপ। একবার পড়া শুরু করলে আপনি আর পাঠক থাকেন না, হয়ে ওঠেন শ্রোতা—একটা শেষ চিঠির প্রাপক।