কথাসাহিত্যিক শাহাদুজ্জামানের নানাবিধ আগ্রহের বিষয়ের একটি চলচ্চিত্র। তিনি দীর্ঘদিন চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আশির দশক থেকে চলচ্চিত্রবিষয়ক মননশীল প্রবন্ধ লিখে আসছেন পত্র পত্রিকায়। সম্প্রতি একটি টিভি চ্যানেলে তিনি উপস্থাপন করছেন সাক্ষাৎকারভিত্তিক চলচ্চিত্র চর্চার ধারাবাহিক অনুষ্ঠান ‘বায়োস্কোপ।’ বিভিন্ন সময়ে লেখা চলচ্চিত্র বিষয়ক প্রবন্ধ এবং টিভি অনুষ্ঠান বায়োস্কোপের নির্বাচিত কিছু সাক্ষাৎকার নিয়ে এই বই ‘চলচ্চিত্র, বায়োস্কোপ, প্রভৃত।’ চলচ্চিত্রমোদী যে কোন পাঠকের জন্য এই বই প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হবে।
সূচিপত্র-
১) মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্যচিত্র ২) সত্যজিৎ রায়ের শেষ সৃষ্টি ৩) আন্দ্রেই তারকোভস্কি : ভিন্ন মাত্রার চলচ্চিত্রকার ৪) চলচ্চিত্রের নন্দনতত্ত্ব ৫) বিবিধ ৬) বায়োস্কোপ
Shahaduz Zaman (Bangla: শাহাদুজ্জামান) is a Medical Anthropologist, currently working with Newcastle University, UK. He writes short stories, novels, and non-fiction. He has published 25 books, and his debut collection ‘Koyekti Bihbol Galpa’ won the Mowla Brothers Literary Award in 1996. He also won Bangla Academy Literary Award in 2016.
চলচ্চিত্রে বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী চমৎকার বই! বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আন্দোলনের গোঁড়া থেকে শুরু করে এর বিকাশ, তৎকালীণ ঘটনাপ্রবাহ এবং চলচ্চিত্রের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের সম্পর্কে বলা হয়েছে বইটিতে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গন নিয়েও আছে আলোচনা। ভালো লেগেছে চলচ্চিত্র নির্মাণের কিছু মৌলিক বিষয়ের উপর গবেষণধর্মী তথ্যবহুল এই লেখা।
টাইম উইদিন টাইম' অনুবাদ ভালো লেগেছে। লেখকের টিভি উপস্থাপনাকালে আমন্ত্রিত অতিথি ও টপিক ইন্টারেস্টিং। অন্যান্য শিল্পের পাশে ফিল্মের অবস্থানসহ কয়েকটি 'গুরুত্বপূর্ণ' লেখা পড়া বাকী ছিলো। এখন আর নাই।
"চলচ্চিত্র সমলোচনা" পড়তে বসে খুব করে মনে পড়েছে জীবনের তাগিদে আমরা হারিয়ে যাচ্ছি কেমন করে। লেখকের সমলোচনা কিছু জায়গায় হৃদয় তাড়িত করে আবার কিছু জায়গা পড়লে মনে হয়, লেখার জন্য তিনি শুধু লিখেছেন। আর নিজেকে সুসজ্জিত প্রমাণ করার জন্য কিছু লেখকের লেখা কোর্ট করেছেন। এটা তো চলচ্চিত্রের চিন্তানন্দনতাকে বিশ্লেষণ করে না।
লেখক ফাহমিদুল হক ১৩ টি বেস্ট আর্ট ফিল্মের সমলোচনা দিয়ে সাজিয়েছেন বইটি। বিভিন্ন পত্রিকায় ছাপানো সমলোচনা গুলো একত্র করে বই আকারে তিনি প্রকাশ করেছেন। বাংলা আর্ট ফিল্মের ধারা মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক অধিকাংশ। এতে মুক্তিযুদ্ধকে পরিচালক কখনো অতি আবেগী হয়ে প্রকাশ করে আবার কখনোবা নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে গিয়ে খেই হারিয়ে পেলে। সমলোচনা করতে হলে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান প্রয়োজন। আর সাথে প্রয়োজন চলচ্চিত্র বোঝার মতো দক্ষতা। যা লেখকের অধীক পরিমাণে রয়েছে।
লেখক রানওয়ে সিনেমার সমলোচনায় জঙ্গিবাদের উত্থান প্রসঙ্গে যা বলেছেন তা বিস্তারিত গবেষণা করে তিনি বলতে পারতেন। কারণ পর্যাপ্ত পরিমাণ রেফারেন্স ছাড়া ঠুনকো মন্তব্য দাঁড় করানো উচিত নয়। কিছু জায়গায় তিনি অসাধারণত্বের পরিচয় দিয়েছেন। যেমন, শব্দ প্রয়োগ এবং আবহ সঙ্গীতের বিষয় গুলো লেখক সুন্দর করে উপস্থাপন করেছেন। সাধারণ মানুষ যেমন আর্টধর্মী ছবি গুলো দেখে না তেমনি তার সমলোচনা খুব একটা মানুষ মনযোগ দিয়ে পড়বে না। কারণ কাঠিন্যতা দিয়ে প্রকাশ করা কোনো কিছুর মূল ধারা বর্ণনা করে না। আবার সবাই চলচ্চিত্রে থাকা সব টার্ম বোঝার সক্ষমতা রাখে না।
তিনি অসাধারণত্ব দিয়েছেন প্রতিটি সমলোচনার মাঝে। এইসব জিনিস থেকে যারা পরিচালক হতে ইচ্ছুক তারা নিজেদের ভুল শুধরাতে পারবে বলে আমি আশাবাদী।