১৯৭৯ সালে শাদা ঘোড়া ও ১৯৮৬-তে হীরু ডাকাত, তারপর গৌর যাযাবর, আমাজনের জঙ্গলে, বরফের বাগান, গরিলার চোখ প্রভৃতি ছোটদের বইয়ের লেখক, শিশুসাহিত্যে বিদ্যাসাগর ও সাহিত্য অকাদেমি-সহ বিবিধ পুরস্কারে ভূষিত অমরেন্দ্র চক্রবর্তীর কয়েকটি বই ইতিমধ্যেই বহু ভাষায় অনূদিত। তাঁর ভ্রমণকাহিনি ‘সুমেরুবৃত্তে ভ্রমণ’, ‘বন্ধুভরা বসুন্ধরা’-র পাশাপাশি তাঁর ছোট গল্প সংকলন ‘নিমফুলের মধু’-র পর ২০১৩ সালে লেখকের প্রথম উপন্যাস ‘বিষাদগাথা’ ধারাবাহিক প্রকাশের সময় থেকেই বহুজনের প্রশংসাধন্য। ‘কবিতা-পরিচয়’, ‘কর্মক্ষেত্র’, ‘ভ্রমণ’, ‘কালের কষ্টিপাথর’, ‘ছেলেবেলা’ ইত্যাদি পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক, ওয়ার্ল্ড এডিটর্স ফোরামের প্রাক্তন এক্সিকিউটিভ মেম্বার অমরেন্দ্র চক্রবর্তী বিশ্বের নানা দেশ ঘুরেছেন। বিভিন্ন দেশের ওপর তাঁর হাতক্যামেরায় ভিডিও চিত্র টেলিভিশন চ্যানেলে নিয়মিত সম্প্রচারিত। ২০১৪ ও ২০১৬-য় কবি, কথাসাহিত্যিক, চিত্রশিল্পী অমরেন্দ্র চক্রবর্তীর একক চিত্র-প্রদর্শনী বহু বিশিষ্টজনের প্রশংসাধন্য। কবিতা, কিশোরসাহিত্য, গল্প, উপন্যাস, ভ্রমণকথা- সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তাঁর স্বচ্ছন্দ বিচরণ।
আমার নিজের ডাকনামও ঋষি। সেই কারণেই আরও বেশি করে এই বইটা পড়তে বসা। ছোট্ট ছেলে ঋষি বড্ড কল্পনাপ্রবণ। সে প্রকৃতি ভালোবাসে, পাখি ভালোবাসে, তার নরম মন, তার মধ্যে একটা সহজাত সাহিত্য কাজ করে। এহেন ঋষিকুমারের কয়েকটি দুষ্টুমিষ্টি কাণ্ডকারখানা নিয়ে এই বইটি। খুবই সুন্দর, খুবই মিষ্টি, একেবারে "কাব্যময় গদ্য" যাকে বলে আর কী! এই বইটার রিভিউতে অনেকেই একতারা বা দু'তারা দিয়েছে দেখলাম। একেবারেই তা অনুচিত!
কল্পনাপ্রবণ ছোট্ট ঋষিকুমার। পশুপাখি কীটপতঙ্গের সঙ্গে তার বড়োই আলাপ। চম্বলের ডাকাত ভেবে ছেলেধরার দলের সঙ্গে অবলীলায় চলে যায় সে। বাঁশিওয়ালার সুর তার বুকে ধাক্কা দিয়ে তার সঙ্গলাভে আস্কারা দেয়। আর সেই বাঁশিওয়ালার থেকেই সে পেয়ে যায় একখানা কলম, আপন সুর এবার তুলবে ঋষি!