সন্ত্রাসবাদীদের টার্গেট ভারত। ওদের হাতে এসে গেছে টেক্সাসের ল্যাবে সৃষ্টি করা মারণ ভাইরাস। জঙ্গলে তন্ময় একটা সবুজ রঙের বল কুড়িয়ে পেল। বলটি কি জীবন্ত? বিজ্ঞান সুবাসিত রুদ্ধশ্বাস দুটি উপন্যাস।
কিশোর ভারতী পত্রিকার শারদীয়া ২০১৪-য় প্রকাশিত “রহস্য যখন মাইক্রোস্কোপিক” আর ওই একই পত্রিকার শারদীয়া ২০১৫-য় প্রকাশিত “ ‘ক’এবং কয়েকজনঃ এই দুটি উপন্যাসিকা শক্তপোক্ত দু’ মলাটের মধ্যে ধরা পড়েছে এই বইটিতে। (১) রহস্য যখন মাইক্রোস্কোপিকঃ দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত রাজুকে নিয়ে কেন উত্তেজিত যুগন্ধর বিজ্ঞানী মিঃ পাই? সন্ত্রাসবাদীদের হাতে এসেছে এক ভয়াবহ ভাইরাস। অনিলিখা কি পারবে সেই ভাইরাসের ভারতে ঢোকা আটকাতে? তার থেকেও বড়ো কথা, সেই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সে নিজে বাঁচবে কীভাবে? রুদ্ধশ্বাস এই কাহিনিতে লেখক শুধু যে সন্ত্রাসবাদ, বিজ্ঞান, আর প্রযুক্তির কথা বলেছেন তাই নয়, বরং “সবার উপরে মানুষ সত্য” কথাটিকে মূর্ত করে তুলেছেন তিনি অসামান্য কিছু চরিত্র আর সংকটের সমাধানের মধ্য দিয়েও। খুনখারাপি আর শঠতা-প্রতারণা-র অনেক উপরে নিয়ে গেছেন তিনি এই লেখাটিকে তাঁর নিজস্ব পদ্ধতিতে। পাঁচে পাঁচ।
(২) ‘ক’ এবং কয়েকজনঃ পুরোদস্তুর গথিক রহস্যের ধাঁচে শুরু হওয়া এই কাহিনি খুব শিগগিরি ডালপালা বিস্তার করে এমন চেহারা নেয়, যেখানে পৃথিবী এক ভয়াবহ বিপদের সম্মুখীন। রাষ্ট্রযন্ত্র এ বিষয়ে কিছু করার আগেই ঘটনায় জড়িয়ে পরে অনিলিখা, মিঃ পাই, এবং অনিলিখার বন্ধু তন্ময়। কল্পবিজ্ঞানের মোড়কে, কিন্তু আসলে ‘বেঁচে থাকা’ আর ‘ফুরিয়ে যাওয়া’ নিয়ে লেখা এই সম্পূর্ণ আলাদা স্বাদের গল্পটি শারদীয়া সংখ্যায় পড়ার সময়ে আমার একটু আক্ষেপ ছিল গল্পের শেষটা নিয়ে, কারণ সাধারণ গল্পের আদি-মধ্য-অন্ত দিয়ে নয়, বরং গল্পটা শেষ হয়েছিল আরও এক ঝাঁক সম্ভাবনার জন্ম দিয়ে। বই আকারে প্রকাশের সময়ে লেখক এতে একটু সংযোজন করেছেন ঠিকই, কিন্তু ‘গেম থিওরি’ নিয়ে বাংলায় লেখা এই প্রথম উপন্যাসটি পাঠককে ভাবাতে বাধ্য। পাঁচে চার।
অতঃপর কী ঠিক করলেন? বইটা পড়বেন কি? অবশ্যই পড়বেন, কারণ চাঁদ-রোবট-লেসার গান-এলিয়েনঃ এসবের বাইরে, সত্যিকারের ‘কল্প’বিজ্ঞানের তথা মানুষের এমন ভালো গল্প পড়ার সুযোগ হারালে শুধু আপনার নয়, আমারও মন খারাপ হবে যে।