Prafulla Roy was a Bengali author, lived in West Bengal, India. He received Bankim Puraskar and Sahitya Akademi Award for his literary contribution in Bengali.
উপন্যাস মনে করে বইটি হাতে নিলেও এক/দুই পাতা উল্টিয়েই বুঝতে পারলাম এটা আসলে গল্প সংকলন। প্রফুল্ল রায়ের বই আগে তেমন একটা পড়া হয়নি বলে কৌতূহল নিয়েই শুরু করা বইটা।
বইয়ের শুরুতেই লেখকের কথায় আছে দেশভাগ তার জীবনে বড় প্রভাব ফেলেছে। আর তাই দেশভাগের পটভূমিতে তিনি লিখেছেন বেশ কিছু গল্প আর এই বইয়ে সেরকম বারটি গল্প একসাথে প্রকাশিত হয়েছে। দেশভাগ নিয়ে বিভিন্ন ভারতীয় বাংলা লেখকের লেখা পড়ার সুযোগ হয়েছে এবং সেগুলো সাধারনত সব একি ধাঁচে লেখা। এখানেও আমি তেমন কিছুই আশা করছিলাম। কিন্তু প্রথম গল্পেই এই ধারনা ধাক্কা খেল। গল্পটির প্রধান চরিত্র একজন মুসলিম মাঝি যার কণ্ঠের ভাটিয়ালি গানে লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন সেসময়ের পরিস্থিতি। এরপর একটির পর একটি গল্পে এমন সব চরিত্রের সাথে পরিচয়। কখনও বাংলার মাঝিদের সংগ্রাম, কখনও গ্রামীণ এক চারণ কবির বাহান্নর ভাষা আন্দোলনে অংশ নেয়ার গল্প, আবার আরেকটি গল্পে মুক্তিযুদ্ধের পর মিরপুরে আটকে পরা বিহারীদের কথা, চরিত্র আর কাহিনীর দিক দিয়ে বৈচিত্র্যের অভাব নেই। সব গল্প আবার দেশভাগের সমসাময়িক সময়েরও নয়। একটি গল্পে এসেছে দাঙ্গায় হারিয়ে যাওয়া মেয়ের সাথে বাবার পুনর্মিলন তো আরেক গল্পে আছে ঢাকা থেকে শৈশবের বন্ধুদের খোঁজে কলকাতায় আসা আলতাফ হোসেনের কথা।
কিন্তু এই বইয়ের রিভিউ লিখতে বসার যে কারন, আগে কখনও কোন ভারতীয় বাংলা লেখকের লেখায় বাংলাদেশী মুসলিম চরিত্র গুলোকে এত স্বাভাবিক লাগেনি। তারা যখনি এমন কোন চরিত্র লেখেন সেগুলো সব কেমন যেন ওয়ান ডাইমেনশনাল, তাদের কলমে ঢাকা শহরকে কেমন যেন ট্যুরিস্টের চোখে দেখা শহর লাগে। অথচ এই বইটিতে সব স্থান কাল পাত্র সব খুব স্বাভাবিক, খুব স্বতঃস্ফূর্ত। বইটি পড়তে গিয়ে বারবার এই কথাটাই ঘুরে ফিরে মাথায় আসছিল। এখানেই বোধহয় লেখকের সার্থকতা। এই বইটির শেষ গল্পটির উপসংহার নিয়েও আলাদা করে বলতে হয়, শেষ কয়েক লাইনে আলতাফ সাহেবের উপলদ্ধিটাই দিন শেষে দেশভাগের সবচেয়ে বড় সত্য।