বাংলা, উড়িষ্যা, আসাম, বিহারসহ ভারত ও বাংলাদেশের প্রায় সকল প্রত্যন্ত অঞ্চলে, নেপালে ও তিব্বতে, বিশেষ করে গ্রামীণ লোকজনের কাছে, খনার বচন অত্যন্ত পরিচিত ও আদৃত। এইসব বচনের সবগুলো যে একই সময় রচিত হয়েছিল অথবা কোনো পরিবর্তন ছাড়া মৌলিক ছড়াগুলোই যে আজও প্রচলিত রয়েছে সে কথা কেউ বলতে পারে না। দৈনিক গার্হস্থ্য জীবনের জন্যে প্রযোজ্য বিশেষ করে কৃষিসংক্রান্ত বাস্তবধর্মী খনার বচন আজও ‘কৃষি-নির্দেশনামা’ হিসেবে বাংলার সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণীয় ও সমাদৃত। কিংবদন্তির খনা ও খনার বচন গ্রন্থে খনা সম্পর্কে প্রচলিত বিভিন্ন কিংবদন্তি ও খনার বচনের বৈশিষ্ট্যসমূহ পর্যালোচনা করে বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহিত ৩০৫টি খনার বচন গ্রন্থের পরিশিষ্টে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এখানে।
বিজ্ঞানী, গল্পকার ও প্রাবন্ধিক। তাঁর গল্প প্রবন্ধাবলি ও বিবিধ রচনা নারী-ভাবনা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চেতনায় ঋদ্ধ। মুন্সীগঞ্জের সন্তান তিনি। শহরের এক জনপ্রিয় চিকিৎসকের কন্যা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ করেছেন ফার্মেসিতে অনার্সসহ স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা। তারপর বিদেশ যাত্রা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেডিক্যাল কলেজ অভ পেনসিলভ্যানিয়া ও ইউনিভার্সিটি অভ মিসৌরি থেকে লাভ করেছেন যথাক্রমে প্রাণ-রসায়নে এম. এস. ও পুষ্টিবিজ্ঞানে পিএইচ-ডি। বিজ্ঞানচর্চা তার পেশা। নিউইয়র্কের মেমেরিয়াল স্লোন কেটারিং ক্যান্সার সেন্টারে গবেষণা ও কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে অধ্যপনায় কেটেছে বেশ কিছুকাল। অজস্র গবেষণা-প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে সারা বিশ্বের নানা নামি জার্নালে। দীর্ঘ বিদেশবাসের পর দেশে ফিরে আসেন এক খ্যাতনামা ঔষধ প্রস্তুত প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদে। দেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক-এ স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালকও ছিলেন। সাহিত্যকর্মের জন্যে ২০০৫-এ তিনি অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
ছোটকাল থেকেই শুনে এসেছি যে ফল খেয়ে জল খাওয়া যায় না।কিন্তু কেন যায় না তা জিজ্ঞাসা করেও কোনো সদুত্তর পাইনি।এই কথাটার উৎপত্তি কোথায় তাও জানতে পারিনি।বইটা পড়তে পড়তে বুঝলাম বহুকাল থেকে চলে আসা এ উপদেশের উৎপত্তি খনার বচন থেকেই। শুধু এটিই নয়,গ্রাম-বাংলায় আবহমানকাল থেকে চলে আসা আরও অনেক প্রবাদ প্রবচন আসলে খনার বচন থেকেই এসেছে।অবশ্য এর সবগুলো যে এই খনা নামের নারীর মুখ থেকে নিঃসৃত বচন তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।খনার বচনের সাথে সেগুলো এমনভাবে মিশে গিয়েছে যে তা এখন আর আলাদা করা যায় না। ______________ কিন্তু খনা আবার কে? খনার বচনই বা কী? ____ খনা হলো উপমহাদেশের এক নারী যিনি ছিলেন একাধারে গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা এবং কৃষিবিজ্ঞানে পারদর্শী।তাকে উপমহাদেশের একেবারে প্রথমদিকের এক নারীকবি হিসেবে ধরা হয়।তার কথাকেই খনার বচন হিসেবে গণ্য করা হয়।তার এ বচনগুলো ছিল মূলত কৃষি ও স্বাস্থ্য বিষয়ক।বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, খনার কৃষিবিষয়ক বচনগুলো বিজ্ঞানসম্মত এবং আজও কৃষকরা তার বচনগুলো মেনে চলে।শুধু বাংলাদেশ নয়,ভারত এমনকি নেপালেও খনার বচনগুলো অনেক জনপ্রিয়।কিন্তু দুঃখের হলেও সত্য যে আজ আমরা এই খনার বচনগুলো ভুলতে বসেছি। _____________ পুরবী বসুর এ বইয়ে খনার জীবন ও তার বচন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।প্রতিভাবান এ নারীর জীবন নিয়ে রয়েছে নানা কিংবদন্তি, কিংবা বলা যায় তিনি নিজেই এক কিংবদন্তি! _______ কিংবদন্তির খনা ও খনার বচন বইটি বেশ ভালো।বইয়ের শেষে কয়েকশ খনার বচন সংযুক্ত করা হয়েছে।তবে বেশ কিছু খনার বচন বুঝতে পারি নি ব্যাখ্যার অভাবে।বচনের শেষে দুএক লাইন ব্যাখ্যা থাকলে মন্দ হতো না।
লোককথায় খনা নামে একজন নারী কবির অস্তিত্ব আছে। তিনি কৃষি, আবহাওয়া, খাদ্য, জ্যোতিষবিদ্যা সম্বন্ধে অনেকগুলো ছড়া বা বচন প্রদান করেছিলেন। সেগুলো মানুষের মুখে মুখে বেঁচে রয়েছে যুগ যুগ ধরে। খনা একাই কি সবগুলো বচন প্রদান করেছিল নাকি আরো অনেকের অবদান আছে এতে। খনার দেয়া বচনগুলো কি হুবহু তার দেয়া বচন হিসেবেই টিকে রয়েছে আজ পর্যন্ত নাকি যুগে যুগে বিবর্তিত হয়ে আজকের রূপে এসেছে এগুলো নিয়ে সন্দেহের অবকাশ আছে বেশ। তবে এটা নিশ্চিত যে খনা নামে কারো অস্তিত্ব অবশ্যই ছিল এবং তিনি অবশ্যই কিছু বচন প্রদান করেছিলেন। এই খনার জীবন এবং খনার শ তিনেক বচনের সংগ্রহ নিয়ে এই বই।