আফ্রিকার গ্রেট রিফট উপত্যকার সিংহ আর বিষমাখানো তির হাতে পিগমি অধ্যুষিত বনাঞ্চল, ভয়ংকর কমোডো ড্রাগনের দ্বীপ, মিশরের জাদুকরী দেবী 'থথ' এর প্রাচীন মন্দির, অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রতলে অক্টোপাসের গুহা, আবার কখনো বা বোর্নিওর মৃত আগ্নেয়গিরির কন্দর ! অদেখা পৃথিবী, অদেখা মানুষ, বিচিত্র প্রাণীর খোঁজে সুদীপ্ত-হেরম্যানের পাঁচটি রোমাঞ্চকর অ্যা্ডভেঞ্চার উপন্যাস এক মলাটে সংকলিত।
সূচী -
বুরুন্ডির সবুজ মানুষ সুন্দাদ্বীপের সোনার ড্রাগন শেবা মন্দিরের সিংহ মানুষ অক্টোপাসের লাল মুক্তো আহুল
হিমাদ্রী কিশোর দাশগুপ্তের অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র নিয়ে বলার কিছু নাই, যারা অ্যাডভেঞ্চার ভালোবাসে তাদের জন্য দুর্দান্ত বই। এর প্রতিটি গল্পই চমৎকার। কি কি গল্প আছে ? - বুরুন্ডির সবুজ মানুষ,সুন্দাদ্বীপের সোনার ড্রাগন, শেবামন্দিরের সিংহ মানুষ, অক্টোপাসের লালমুক্তো আর আহুল এই মতো ৫টি গল্প।
(১) বুরুন্ডির সবুজ মানুষ : হেরম্যানের এবারের অভিযানও এক ক্রিপটিডের সন্ধানে।এবার তারা পাড়ি দিয়েছে সুদূর আফ্রিকায়। বুরুন্ডির উত্তর পশ্চিম সীমান্তে গ্রেট রিফট উপত্যকায় রুভ্ভু নদীর বনাঞ্চলে নাকি এক দানবাকৃতির সবুজ বানর আছে।মানুষের মতোই দুপায়ে চলা ফেরা করে সে।যে গহীন বনাঞ্চলে ওই সবুজ বানর থাকে, সে অঞ্চলে পিগমিদের একটা অসভ্য গোষ্ঠী বাস করে।তারা আবার ওই প্রাণীটিকে পুজো করে এবং বিষাক্ত তীর হাতে ওই বনাঞ্চল পাহারা দেয়।বাইরের কোনো মানুষকে তারা সে অরণ্যে প্রবেশ করতে দেয় না।আফ্রিকার এরকম দুর্গম অঞ্চলে ওই সবুজ মানুষের সন্ধানে চলেছে হেরম্যান ও তার সঙ্গী সুদীপ্ত। জঙ্গল পরিক্রমণের সময় আফ্রিকার কত জানা অজানা বন্য জন্তুদেরও ( আন্টিলোপ, হিপো, উইল্ডা, জলহস্তী, জেব্রা, সিংহ, শিম্পাঞ্জি, গোরিলা ইত্যাদি ) দেখা মিলল - সে এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি। শুধু আফ্রিকা দেশের অ্যানাকোন্ডাকে মিস করেছি।
(২) সুন্দাদ্বীপের সোনার ড্রাগন : ক্রিপ্টোজুলোজিস্ট হেরম্যান, এবারে এসেছেন ইন্দোনেশিয়ায় সোনার কোমোডো ড্রাগনের সন্ধানে।তারা যায় কোমোডো দ্বীপের আশি মাইল দক্ষিণে একটি দ্বীপে, কোমোডোর মতো ওটাও সুন্দাদ্বীপের অংশ।যদিও ওই দ্বীপ ম্যাপে উল্লেখ নাই, সুন্দা ধীবররা বলে 'ওরা দ্বীপ'। 'ওরা' কথার অর্থ গোসাপ। কোমোডো ড্রাগনকে 'ওরা' বলেও ডাকা হয়। ওরা দ্বীপ জনমানবহীন, ওখানে নাকি প্রাচীন পুরোহিতদের প্রেতাত্মারা থাকে।দ্বীপের ভিতর থেকে ঘণ্টাধ্বনি ভেসে আসে। ওই দ্বীপের গা ঘেঁষে একটা দ্বীপে অসভ্য মানুষের বাস।ওদের তীরে অনেক ধীবরের প্রাণ গিয়েছে। হেরম্যানের আগের সব অভিযান ব্যর্থ হলেও বহু রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছিল। সেই রোমাঞ্চের খোঁজে এই ইন্দোনেশিয়াতেও হেরম্যানের সঙ্গী হয় সুদীপ্ত।
(৩)শেবামন্দিরের সিংহমানুষ : হেরম্যান ও সুদীপ্তর পরবর্তী অভিযান মিশরে, ইজিপ্টের হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন নগরীতে সিংহ- মানুষের সন্ধানে যাত্রা।সেখানকার উপজাতিদের মধ্যে অনেক জনগোষ্ঠীর বিশ্বাস প্রেতাত্মারা রক্ত পানের লোভে সিংহ মানুষের রূপ ধারণ করে।কোনো কোনো সময় জাদুকররাও নাকি এ রূপ ধারণ করে।সাধারণত এদের দেহটা সিংহের মতো হয়,তবে ইচ্ছা করলে তারা পরিপূর্ণ মানুষ বা সিংহের রূপ ধারণ করে। হেরম্যান ও সুদীপ্ত কি সত্যিই দেখা পায় সেই সিংহ মানুষের ?
৪) অক্টোপাসের লালমুক্তো : হের ম্যানের কাজ গল্পকথা রূপকথার প্রাণীদের খুঁজে বের করে আধুনিক মানুষদের চোখের সামনে এনে প্রমাণ করা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তার সব অভিযান ব্যার্থ হয়েছে। এর আগে পর্যন্ত যা অভিযান করেছে তা সবই নয় স্থলে,এবারের অভিযান একদম অন্যরকম, এ একেবারে সমুদ্রের নীচে। তাদের গন্তব্য অস্ট্রেলিয়া।শোনা যায় সেখানকার সমুদ্রে এক গভীর জায়গায় দানব অক্টোপাসের দেখা মেলে।ধীবররা বলে ওখানে নাকি জলদানব আছে - যে শুঁড় দিয়ে নৌকাকে জলের তলায় টেনে নিয়ে যায়,জেলেদের ডুবিয়ে মারে।পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের নাবিকরা ওই দানব অক্টোপাসের অস্তিত্বের কথা কথা বলে আসছে বহুদিন ধরে। এসবই কি নিছক কল্পনা ? নাকি এর পিছনে লুকিয়ে আছে কোনো রহস্য ?
৫) অাহুল : দুই বন্ধুর এবারের অভিযান বোর্নিওর অরণ্য বেষ্টিত আগ্নেয় পাহাড়ে প্রাগৈতিহাসিক উড়ন্ত দানব আহুলের খোঁজে। এতদিন পর্যন্ত তারা যেসব প্রাণীর সন্ধানে গিয়েছে,তারা কেউ এরকম হিংস্র নয়। অাহুলের সামনে যেই পরে সে বেঁচে ফিরতে পারে না।সলক প্যাংগ্রাংগো ন্যাশানাল পার্ক - দ্বীপের সবচেয়ে গভীরতম অরণ্য, আর এটাই সুদীপ্তদের গন্তব্যস্থল। এছাড়াও এখানের জঙ্গলে আছে অসভ্য জাতির দল ও নানা বন্য পশুপাখি। শেষপর্যন্ত কি আহুল তাদের দেখা দেয় ?
বাংলায় অ্যাডভেঞ্চার সাহিত্যের ঐতিহ্য রীতিমতো স্বর্ণিম। কিন্তু মাঝে সেই লেখালেখিতে এসেছিল ভাঁটার টান। ইন্টারনেট আর টিভিতে পাওয়া গতিশীল বিনোদনের কাছে হেরে যাচ্ছিল অপেক্ষাকৃত শ্লথগতি এবং তথ্যগতভাবে নিরক্ত লেখারা। সেই পটভূমিতেই হিমাদ্রিকিশোরের আবির্ভাব। কঠোর অধ্যয়নের সঙ্গে গতিময় ও সহজ লেখনীর সমন্বয়ে তিনি পাঠকদের নিয়ে যেতে শুরু করলেন দূর-দূরান্তে। আমরা শারীরিকভাবে না পারলেও মানসিকভাবে তাঁর লেখার মাধ্যমে বলতে শুরু করলাম, "জীবন মৃত্যু পায়ের ভৃত্য, চিত্ত ভাবনাহীন।" সেই অ্যাডভেঞ্চারগুলোর মধ্যে একেবারে সেরা পাঁচটি কাহিনি স্থান পেয়েছে এই বইয়ে। ক্রিপ্টোজুলজিস্ট হেরম্যান ও তাঁর সঙ্গী সুদীপ্ত'র এই পাঁচটি উপাখ্যান হল~ ১. বুরুন্ডির সবুজ মানুষ ২. সুন্দাদ্বীপের সোনার ড্রাগন ৩. শেবা মন্দিরের সিংহ মানুষ ৪. অক্টোপাসের লাল মুক্তো ৫. আহুল এই লেখাগুলো পূজাবার্ষিকী বা ধারাবাহিক আকারে প্রকাশের সময়ই পড়েছিলাম। তবে বই হিসেবে পাওয়ার পর নতুন করে পড়লাম। দুরন্ত লাগল! আপনারাও পড়ে দেখুন।
The best of all Adventure samagra books... All stories except অক্টোপাসের লাল মুক্তা are in the list of best thrillers I have ever read... My ranking is-