লাইটাস সম্পূর্ণ নতুন একটা গ্রহ। এই গ্রহে আগে কোনোদিন কোনো নভোচারী অবতরণ করে নি। নভোচারী ইনি প্রথম অবতরণ করেছে এই গ্রহে। ইনির মূল উদ্দেশ্য লাইটাস গ্রহে একটি আলোর রেখার রহস্য উন্মোচন করা। অবতরণের পর পরই ইনি বুঝতে পারল আলোর রেখাটি তার দিকে এগিয়ে আসছে। সে যতই দূরে সরে যেতে চাচ্ছে আলোটা ততই তার কাছে আসছে। একসময় সে আর পারল না, পরাস্ত হলো আলোর গতির কাছে। আলোটা তাকে ধীরে ধীরে পেচিয়ে ফেলল। তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করে উঠল ইনি। একসময় আর পারল না। জ্ঞান হারাল সে। জ্ঞান ফিরলে বুঝতে পারল তার শরীরে সে ছাড়াও অন্য একজন আছে। এই অন্য একজন হলো অজানা গ্রহের প্রাণি জিরি। জিরি এতদিন নিঃসঙ্গ ছিল। ইনিকে পেয়ে তার নিঃসঙ্গতা দূর করতে চায়। ইনির সাথে চলে আসতে চায় পৃথিবীতে। কিন্তু এটা যে রীতিবিরুদ্ধ। পৃথিবীতে অজানা অচেনা কোনো প্রাণীকে নিয়ে আসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তাই স্পেসশিপের সবাই সিদ্ধান্ত নেয় ইনিকে না নিয়েই তারা ফিরে যাবে পৃথিবীতে। শেষ পর্যন্ত ইনি কী মুক্ত করতে পেরেছিল নিজেকে? আর কী ঘটেছিল জিরির জীবনে? তার নিঃসঙ্গতা কী সত্যি দূর হয়েছিল? নাকি আবার সে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছিল?
মোশতাক আহমেদ (English: Mustak Ahmed) ৩০ ডিসেম্বর ১৯৭৫ সালে ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী ডিপার্টমেন্ট হতে এম ফার্ম ডিগ্রী অর্জন করেছেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ হতে এমবিএ এবং ইংল্যান্ডের লেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে ক্রিমিনোলোজিতে মাস্টার্স ডিগ্রী লাভ করেন। কর্ম জীবনে তিনি একজন চাকুরীজীবি। তাঁর লেখালেখির শুরু ছাত্রজীবন থেকে। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীতে তিনি অধিক আগ্রহী হলেও গোয়েন্দা এবং ভৌতিক ক্ষেত্রেও যথেষ্ট পারদর্শীতার পরিচয় দিয়েছেন। তার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে- রোবটিজম, ক্লিটি ভাইরাস, নিহির ভালভাসা,অতৃপ্ত আত্না, নীল মৃত্যু, লাল শৈবাল, জকি, মীম, প্রেতাত্মা, রোবো, পাইথিন, শিশিলিন ইত্যাদি। সায়েন্স ফিকশন সিরিজ- রিবিট, কালোমানুষ, রিবিট এবং ওরা, রিবিটের দুঃখ, শান্তিতে রিবিট, হিমালয়ে রিবিট। প্যারাসাইকোলজি- মায়াবী জোছনার বসন্তে, জোছনা রাতরে জোনাকি ইত্যাদি। ভ্রমণ উপন্যাস- বসন্ত বর্ষার দিগন্ত, লাল ডায়েরি, জকি। স্মৃতিকথা- এক ঝলক কিংবদন্তী হুমায়ূন আহমেদ। মুক্তিযুদ্ধ- নক্ষত্রের রাজারবাগ, মুক্তিযোদ্ধা রতন। তিনি কালি কলম সাহিত্য পুরস্কার ২০১৩, ছোটদের মেলা সাহিত্য পুরস্কার ২০১৪, কৃষ্ণকলি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৪ পুরস্কার পেয়েছেন।