PATLA SAMAGRA VOL-II A Collection of Bengali Short Stories By SAKTIPADA RAJGURU
প্রচ্ছদ ও অলংকরণ - রঞ্জন দত্ত
সুখে থাকতে ভূতে কিল মারে বলে বাংলায় একটা প্রবাদ আছে। মানে, সং সারে বেশ কিছু মানুষ আছে যারা সুখে সান্তিতে থাকতে চায় না। যেভাবেই হোক কোনো একতা অশান্তিকর ব্যাপারে জড়িয়ে পড়বেই। কথাটা আমাদের বন্ধু পটলা সম্বন্ধে বিশেষভাবে বলা চলে। সে নিজে তো অশান্তিতে জড়াবেই, আর সেই সঙ্গে পঞ্চপাণ্ডব ক্লাবের আমাদ্রের বাকি চারজনকেও জড়াবে ।...
সমী, গোবরা, হোঁৎকা, ফটিক এবং পটলা, এই পাঁচজনকে নিয়ে পঞ্চপাণ্ডব ক্লাব। পটলা এমনই এক ছেলে যার সুখে থাকতে ভূতে কিলোয়। সবসময় কোন না কোন ঝামেলায়, গণ্ডগোলে সে জড়িয়ে পড়বেই। আর সেই সব ঝামেলা- ঝঞ্ঝাটের ব্যাপারের মধ্যে নানা মজাদার কাণ্ডকারখানা। তবে পটলা এণ্ড কোং কোনো ব্যাপারেই পিছু হঠার পাত্র নয়। তারাও ঝাঁপিয়ে পড়ে। ফেলুদা, ঘনাদা, টেনিদা, পিনডিদার মতো পটলাও তো তোমাদের খুব প্রিয় চরিত্র। সেই পটলার নানা কাণ্ডকারখানা নিয়ে বহুদিন ধরেই লিখছেন শক্তিপদ রাজগুরু। পটলার সেই সমস্ত অভিযানগুলোকে দু’মলাটে বন্দি করে তোমাদের জন্য সাজিয়ে দেওয়া হল। সেগুলো পড়ে তোমরা খুব মজা পাবে। আর হ্যাঁ, পটলা যেমন নানা মজাদার কাণ্ডমাণ্ড করে, সে কিন্তু অনেক ভালো কাজও করে। তোমরা যদি এমন কোনো কাজ করতে পারো, দেখো তোমাদের খুব ভালো লাগবে।
সূচী-
পটলার বসন্তোৎসব পটলার ম্যাজিক দীপক রাগ ও ফটিকচন্দর পটলার সুমতি পটলার সঙ্গীত সাধনা পটলার দেবদর্শন পটলাকে নিয়ে প্রবলেম লক্ষ্যভেদ হোঁৎকার বুদ্ধি কুষ্মাণ্ড মাহাত্ম্য পটলার ভবিষ্যৎ পটলার জলসা ইটের বদলে পাটকেল পটলা ও রামছাগল পিকনিক পটলার বৃক্ষরোপণ উৎসব পটলার ভ্রমণ পটলার ইন্দ্রজাল পটলার আইডিয়া পটলার অগ্নিপরীক্ষা লঙ্কাদহন পালা
Shaktipada Rajguru (Bengali: শক্তিপদ রাজগুরু) was an Indian Bengali writer. Several of his novels have been adapted for the screen including the Ritwik Ghatak-directed Meghe Dhaka Tara and the Shakti Samanta-directed Amanush. His works have been translated into Hindi, Tamil, and Malayalam.
Shaktipada Rajguru was fond of travelling and many of his novels are set in locations such as Chota Nagpur, Maharashtra, and Dandakaranya, places distant from Kolkata, where his novels are published. He was fond of describing nature in great detail and in portraying strong central characters in these locations. He cites Bibhutibhushan Bandyopadhyay and Tarashankar Bandyopadhyay as major influences.
টেনিদা, ঘনাদা, পিন্ডিদা গোত্রের চরিত্র পটলা। তবে দাদাদের বয়স বেশি আর পটলার কম, ১৬ হয়েছে কি হয়নি। পঞ্চপাণ্ডব ক্লাবের কাণ্ডারি পটলা। আর ক্লাবের সবাই স্কুলপড়ুয়া। তাদের নানা কীর্তিকলাপ নিয়েই শক্তিপদ রাজগুরুর পটলার গল্প। এবং অনেকগুলো গল্পের সমষ্টি এই দুই খণ্ডের বই। পটলা ও পঞ্চপাণ্ডব ক্লাব নিয়ে রচিত এই গল্পগুলো লঘু। টেনিদা নানা বয়সের পাঠকের জন্য হলেও পটলা কিশোরপাঠ্য। কিন্তু উপভোগ্য। পাড়ার দুই ক্লাবের মধ্যে গণ্ডগোল থেকে আরম্ভ করে বহু দূর বরযাত্রী হয়ে গিয়ে রাতের অন্ধকারে জায়গা চিনতে ভুল করার বিপত্তির গল্প আছে। তারপর আছে পাহাড়, জঙ্গলে গিয়ে চোরাকারবারিদের সঙ্গে লড়াই হওয়ার গল্প। কাকাবাবুর ভাইবও দেয়। দীর্ঘ জীবন পেয়েছিলেন শক্তিপদ রাজগুরু। লিখেছেনও অনেক। পটলার অনেক গল্প এই গত দশকে লেখা। ফলে ইন্টারনেট রেভলুশন হয়ে যাওয়ার পরও পটলাদের পাড়ার কীর্তিতে ভাঁটা পড়তে দেননি রাজগুরু। তবে গল্পগুলো আগের মতো আর জমছিল না। সেই সঙ্গে আরেকটা সমস্যা গুরুতর, প্রায় প্রতিটা গল্পে পটলা আর পঞ্চপাণ্ডব ক্লাবের ইট্রোডাকশন। পটলা বড় বাড়ির ছেলে, তার দিদিমা কথায় কথায় ক্লাবে টাকা দেন এই তথ্য প্রায় প্রতিটা গল্পেই আছে। লেখকরা নানা সময় এসব গল্প নানা পত্রিকায় লিখেছেন। ফলে এককভাবে প্রতি গল্পে হয়ত এই সূচনা-পরিচিতির প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সমগ্রে জিনিসগুলো বাহুল্য হয়ে পড়ে। তবু, পটলা এই জনরার বেশ ভালো গল্প। উপভোগ করার মতো। এটাই বড় কথা।
এক্স্যাক্টলি এই বইটাই পড়িনি এইবারে। তার বদলে নিউ বেঙ্গল প্রেস থেকে প্রকাশিত একটি মিনি সংকলন "পটলার কাণ্ডকারখানা ২" পড়লাম। তাতে রয়েছে একটি ছোটগল্প (পটলার আকাশ ভ্রমণ) এবং একটি নভেলা/বড়গল্প (পটলাকে নিয়ে প্রবলেম)। দ্বিতীয় নভেলাটি এই সংকলনে রয়েছে দেখে যাবতীয় বক্তব্য এখানে তুলে দিলাম। পটলা ও আরও চারজন কচিকাঁচাদের নিয়ে পঞ্চপাণ্ডব ক্লাব। অনেকটা টেনিদা গোছের রকবাজি মেজাজের কীর্তিকলাপ। পাঁচজনের প্রত্যেকেরই নানা গুণপনা। সবে মিলে অ্যাডভেঞ্চার। এসব ঘরানার গল্প বাংলা সাহিত্যে প্রচুর আছে। বলা চলে low effort content, কিন্তু মাঝেমধ্যে পড়তে মজা লাগে। স্বাদবদল হিসেবে। এত ছোট্ট আকারের পড়ার নিরিখে আর প্লট ডিসকাশন চলে না। তবে একটা বিষয় দেখে আশ্চর্য হলাম। শক্তিপদ রাজগুরু বেশ নামী লেখক হয়েও গল্প লেখার কায়দায় অমন জট পাকিয়ে ফেলেছেন কেন? কিছু কিছু জায়গায় সংলাপ লেখার কায়দা একেবারেই পাতে দেওয়ার মতোন না। এটা কি প্রুফজনিত ভুল? কালটিভেট করতে হবে। পটলা আরও পড়ার ইচ্ছা রইল ভবিষ্যতে।