মেসে পৌঁছে দেখি আমার রুম খোলা... ভিতরে ঢুকলাম কিঞ্চিৎ কৌতূহল নিয়ে, দেখি আমার বাবার নতুন স্ত্রী বসে আছেন, -কি ব্যাপার এত সকালে? -তোমার জন্য নাস্তা নিয়ে আসলাম, আর দুপুরের খাবারও নিয়ে এসেছি, ইশারা দিয়ে উনি টিফিন বক্স দেখালেন। -ও আচ্ছা! আমি চেয়ার টেনে বসে আছি চুপচাপ। -বাসায় চল বাবা... -এর আগেও আমি অনেকবার বলেছি, ওখানে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না। -তুমি এসে দেখ, তোমার মা’র রুম একদম আগের মতই আছে, আমি কিছুই পরিবর্তন করিনি। আমাকেও তোমার মা ডাকতে হবেনা, না হয় আন্টি ডেকো আমাকে। -আমি যাবনা।
তাকিয়ে দেখি উনার চোখ ছল ছল করছে, আমার মার চোখও ঠিক এভাবেই ছল ছল করত যখন আমি রাগ করতাম মায়ের সাথে। কেমন জানি অস্থির লাগছে, কখনো মায়ের চোখের পানি সহ্য করতে পারতাম না, চোখ নামিয়ে নিলাম। -রাতে কোথায় ছিলে? -কাওরান বাজারের ফুটপাথে, টুকরির মধ্যে। হতভম্ব হয়ে উনি আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন কিছুক্ষন। কান্না থামানোর আপ্রান চেষ্টা করছেন। এরপর থাকতে না পেরে, "আমি আসি" বলে উঠে চলে গেলেন।
আরেকবার নাস্তা খেতে খুব ইচ্ছে করছে, উঠে উনার দেয়া নাস্তা নিয়ে বসলাম। যখন উনি চলে যাচ্ছিলেন, খুব ইচ্ছে করছিল পিছন থেকে মা বলে ডাক দেই, খুব ইচ্ছে করছিল বাসায় ফিরে যাই। কিন্তু কি এক অভিমান বুকের মধ্যে কিছুই করতে পারিনা। একদিন আমি পড়ে গিয়ে পা কেটে ফেলেছিলাম, মা’র সেকি কান্না, আমি কতবার বললাম আমার কিছু হয়নি তুমি কেঁদোনা। মা'র কান্না কোন ভাবেই থামেনা। পরে দুই জন একসাথে কেঁদেছিলাম বসে বসে।
পরোটা মাংশ ভুনা দিয়ে খাচ্ছিলাম আর বার বার চোখ ভিজে যাচ্ছিলো। উনার রান্নাও একদম মায়ের মত, ঠিক একই স্বাদ। একটা ঘোরের মধ্যে চলে যাচ্ছি, মনে হচ্ছে মা আমাকে খাইয়ে দিচ্ছেন আর বার বার চোখ ভিজে যাচ্ছে।
নীলান্ত জোছনায় (উপন্যাস) বই মেলা ২০১৬ এক রঙা এক ঘুড়ি প্রকাশনা বাংলা একাডেমি'র লিটল ম্যাগ চত্বরের ১৬ নাম্বার স্টল "মেঘফুলে" পাওয়া যাবে