বাচ্চা অবস্থাতেই মা-বাপ হারিয়েছে পল হান্টার। একজন বন্ধু পেয়েছিল, তাকেও ওরা মেরে ফেললো। অক্লান্ত পরিশ্রম করে অগাধ টাকা করেছে পল কিন্তু আর পাচজনের মত স্বাভাবিক জীবন-যাপন তার কপালে নাই। ধরল কাল ব্যাধি ক্যান্সার। নিরিবিলিতে মরতে এসেছিল পশ্চিমে। কপাল মন্দ, টিনা ক্রমওয়েলকে সাহায্য করতে গিয়ে জড়িয়ে পড়ল মহা ঝামেলায়। তারই স্ত্রী পোলীন তাকে খুন করবার জন্যে লেলিয়ে দিল প্রফেশনাল বন্দুকবাজ ববকে। এবার কি ঘটবে? টিনার র্যাঞ্চটা বেদখল হয়ে যাবে, নাকি পল পারবে সেটা ঠেকাতে?
কাজি মাহবুব হোসেনের লেখা দিয়ে ওয়েস্টার্ন সিরিজের যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৩ সালে। কাজি মাহবুব হোসেন ওয়েস্টার্ন সিরিজ ছাড়াও পিশাচ কাহিনী ও অনুবাদের বেশ কিছু বই লিখেছিলেন যা অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। এবং তাঁর প্রথম বই অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছিলো ১৯৮২ সালে।
'যে লোক একা টিকে থাকতে পারে, সে -ই সবচেয়ে শক্তিশালী'। মানুষ সংঘবদ্ধ প্রাণী। আদিকাল থেকেই পৃথিবীর বুকে বুকে টিকে থাকতে মানুষ সংঘবদ্ধভাবে বসবাস শুরু করে। সেই অদৃশ্য নিয়মের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে পৃথিবীর বুকে একা নিজেকে টিকিয়ে রাখা মোটেও সহজ নয়। তবে মানুষ চাইলে সেটা অসম্ভবও নয়।
◼️ কাহিনী সংক্ষেপ -
ক্যাপোলোচিয়ানমের পশ্চিমে 'রাইডার' এক আতঙ্কের নাম। তার বুদ্ধি এবং সাহসিকতার কথা জানে না এমন মানুষ খুবই কম। পনেরো বছর আগে এক সন্ধ্যায় খুন করা হয় রাইডার কে। তার সাথে ছিল এক বাচ্চা ছেলে। হুট করেই সেখান থেকে ভোজবাজির মতো উধাও হয়ে যায় রাইডার ও সেই বাচ্চা ছিল। কোথায় গিয়েছিল তারা? কি হয়েছিল তাদের শেষ পরিণতি?
পৃথিবীর বুক থেকে চিহ্ন না রেখে দুবার অদৃশ্য হয়েছে পল হান্টার। প্রথমবার অদৃশ্য হয়েছিল জীবন বাঁচাতে আর পুনরায় সেই কাজ করছে শান্তিতে মৃত্যুকে বরণ করে নিতে। পল হান্টারের নিজের জন্ম পরিচয় জানা নেই। রাস্তা থেকে রাইডার তাকে তুলে এনে জায়গা দিয়েছিল, নামটাও রাইডারেরই দেওয়া। তারপর একটি বাচ্চা ছেলেকে শিক্ষা দিয়ে গড়ে তুলে একটা নির্দিষ্ট সময় পর তার মধ্যে বেঁচে থাকার, লড়াই করার এবং টিকে থাকার অঙ্কুরিত বীজ বপন করে তাকে নিজের জীবন সাজিয়ে নেওয়ার জন্য ছেড়ে দিলো রাইডার।
নিরিবিলি জীবনের শেষ সময় পশ্চিমে কাটাতে এলেও পল হান্টার জড়িয়ে পড়ে এক ঝামেলায়। টিনা ক্রমওয়েলের রেঞ্জ কিছু লোক বেআইনিভাবে দখল করতে চায়। পল লড়াই করে টিনার হয়ে। অতঃপর জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে সংঘঠিত হতে থাকে একের পর এক দুর্ধর্ষ যুদ্ধ।
◼️ পাঠ প্রতিক্রিয়া ও পর্যালোচনা -
'রাইডার' বইটা পড়ার শুরুতে আমি আগ্রহী ছিলাম পল হান্টারকে জানতে। এক আমার জানার আগ্রহ হয়ে ওঠে রাইডার নামক এক দুর্ধর্ষ ব্যক্তি। অনেক লোকে তাকে খারাপ বলে, খু/নও করে ফেলে। কিন্তু যেই লোক এতো চমৎকার শিক্ষা দিতে সে কখনো এতোটা খারাপ হতে পারে না।
পল হান্টার নিজেকে নিজের শক্তি রূপে তৈরি করেছে। সবার এ ক্ষমতা থাকে না। কিন্তু অতিরিক্ত বিচক্ষণ মানুষ জীবনের কোনো না কোনো ক্ষেত্রে ভুল করে পল তার আরেকটা উদাহরণ। যদিও যে ভুলের বৃদ্ধির সুযোগ দেয় না, মূলসহ উপড়ে ফেলতে জানে।
শুরু থেকে এই বই আমাকে আটকে রেখেছিল পরবর্তী পৃষ্ঠা জানার জন্য।পলের বুদ্ধিমত্তার তার কর্মকাণ্ডে মুগ্ধের সাথে সাথে উপভোগ করছিলাম। সেই সাথে পুরো বইয়ের আমার সবচেয়ে প্রিয় অংশ হলো শেষ টুকু। যাদের পরিণতি জানার জন্য উদগ্রীব ছিলাম তাদের সমাপ্তি পেয়েছি যা ছিল সাধারণের মাঝেও অসাধারণ। অনুভূতি প্রকাশের জন্য লাইনের পর লাইন বলার প্রয়োজন হয় না, দুটো শব্দের মাধ্যমেও প্রকাশ করা যায়। এখন পর্যন্ত ওয়েস্ট্রান বইয়ের মধ্যে আমার সবচেয়ে পছন্দের বইয়ের তালিকায় নাম লিখিয়ে নিয়েছে 'রাইডার'।
বুদ্ধি এবং পরিশ্রমের জোরে অগাধ টাকার মালিক হয় পল। টাকা থাকলেও তার ছিল না কোনো বন্ধু সঙ্গী। নিঃসঙ্গতা দূর করতে বিয়ে করলেও সেই জীবন তার সুখকর হলো না। মৃত্যু আসন্ন জেনে পল চলে যায় নিরিবিলি এক জায়গায়, যেখানে শান্তিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে পারবে। কিন্ত সেখানেই গিয়েও পল জড়িয়ে পড়ে নতুন এক ঝামেলায়।