কোন কোন লোকের জন্য এক একর জমি আর একটা কুটিরই যথেষ্টঃ অ্যালান ওসমান তাদের দলে নয় - সুদূরের তৃষ্ণা ওকে ইংল্যান্ডের শান্তনিথর হাওড় এলাকা থেকে সাগরপারের আমেরিকায় নিয়ে গেল। এ-বার সঙ্গে আছে রেবেকা, ওর মানসী। পশ্চিমের দুর্মর হাতছানিতে সঙ্গীসাথী নিয়ে অ্যালান মুখ ফেরাল ভার্জিনিয়ার নীল শৈলমালার পানে... জেমস নদীর তীরে বানালো নিজেদের কেল্লা। বেশি শান্তিতেই কাটছিল, কিন্তু একদিন... পশ্চিমে কিভাবে বসতি শুরু হয়েছিল তার দ্বিতীয় কাহিনী।
রওশন জামিল বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন লেখালেখির করার অনুপ্রেরণা। জীবনে প্রথম লেখা ক্লাস ফাইভে। স্কুল ম্যাগাজিনে। এর পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে আবার শুরু পত্রিকায় রিপোর্ট/ফিচার লেখার মধ্যদিয়ে, যখন তিনি মাস্টার্সে পড়েন। লেখালেখির পাশাপাশি তার আরো একটা পেশা আছে সেটা হলো সাংবাদিকতা। স্ত্রী গৃহিণী, দুই সন্তানের জনক তিনি। বড় ছেলে ও ছোট মেয়ে নিয়ে তার পরিবার।
সেবা প্রকাশনীতে তার প্রথম বই বই প্রকাশিত হয় কাজীদার সাথে যৌথ ভাবে ১৯৮৫ সালের জুন মাসে দাগী আসামী-১ দিয়ে। পরবর্তিতে দুইটি কিশোর ক্লাসিক হাকলবেরি ফিন প্রকাশিত হয় ফেব্রয়ারী ১৯৮৬ এবং দ্বিতীয়টি দি ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সী নভেম্বর ১৯৮৭তে প্রকাশিত হয়। এছাড়া শিশু ক্লাসিক পিটারপ্যান-ও তিনি লিখেন ১৯৮৯ সালে।
তিনি ছিলেন ওয়েস্টার্ন সিরিজে একজন সফল লেখক। প্রথম ওয়েস্টার্ন বই "ফেরা" প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালে। ওসমান পরিবার এবং সাবাডিয়া নামের সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত। সেবা প্রকাশনীতে তার একক ভাবে ৩৫টিরও বেশি ওয়েস্টার্ন বই বের হয়।
১৯৯৪ সাল পর্যন্ত নিয়মিত লিখলেও সে বছর আমেরিকায় প্রবাসী হলে বিরতিতে চলে যান তিনি। তবে সাবাডিয়ার ফেরা, না-ফেরা বই এর মধ্য দিয়ে তিনি আবার লেখায় ফিরেন ২৪ বছর পর ২০১৮ সালে। আর এর আগে ২০১২ সালের ঈদসংখ্যা ইত্তেফাকে ওসমান পরিবারকে ফিরিয়ে আনেন "সেই ওরিন ওসমান" নামে একটি উপন্যাসিকার মাধ্যমে।
'জলদস্যু' যেখানে শেষ, 'নীলগিরি' সেখানে শুরু। রওশন জামিলের আরেকটি মাস্টারপিস। দু'মলাটের ভিতর বিশাল এক সময় আর মহাকাব্যিক জীবন আর বোধকে ধরেছেন তাঁর শক্তিশালী লেখনিতে। পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিলো, বাংলায় এরকম শক্তিশালী লেখক/অনুবাদক হয়তো আর দ্বিতীয়টি নেই!
ওয়েস্টার্ন ঝাঁঝালো ঘ্রাণের চেয়ে পাইন ম্যাপলের মৃদু অচেনা-চেনা একটা ভাইব বইটায়। তখন কেবল এলান থিতু হচ্ছে ওসমানদের নিয়ে। গতআনুগতিক মারদাঙ্গা ওয়েস্টার্ন থেকে ভিন্নধর্মমী।