ঘুটঘুটে অন্ধকার রাতে ভয়ঙ্কর মানুষখেকো বাঘ মারার জন্যে কেনেথ এন্ডারসনকে রাইফেল হাতে একা বেরোতে দেখে একজন অবাক হয়ে বলল, 'সাহেব পাগল নাকি?' জবাবে বলল আরেকজন, 'খালি পাগল? পাগলের পাগল, বদ্ধ উন্মাদ!' মানুষখেকো বাঘকে পেটে লাথি মেরে পাহাড় থেকে ফেলে দিয়েছেন এরকম একজন মানুষ চৌগড়ের বাঘিনীটার কথা বলতে গিয়ে বলেছিল, 'ওটা বাঘ নয়, শয়তান কোন সাধু। রক্ত মাংসের লোভ হলেই বাঘ হয়ে গিয়ে মানুষের ঘাড় মটকায়। তবে বুঝতে পারছি শয়তানটার দিন ঘনিয়ে আসছে।' জিম করবেটকে বলেছিল সে, 'আপনি তার চেয়ে বড় সাধু, অনেক বেশি ক্ষমতা আপনার। ওই শয়তানটা আপনার সঙ্গে পারবে না।' এই দুই শিকারির সম্পর্কে এই ছিল সাধারণ মানুষের ধারণা। তবে বিবেচনা করে বলতে গেলে বলতে হয় একটুও বাড়িয়ে বলেনি তারা, বরং কমই বলেছে। তাঁদের দু'জনের অসামান্য চারটি শিকার কাহিনী সঙ্কলিত এ বইতে।
রকিব হাসান বাংলাদেশের একজন গোয়েন্দা কাহিনী লেখক। তিনি সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত তিন গোয়েন্দা নামক গোয়েন্দা কাহিনীর স্রষ্টা। তিনি মূলত মূল নামে লেখালেখি করলেও জাফর চৌধুরী ছদ্মনামেও সেবা প্রকাশনীর রোমহর্ষক সিরিজ লিখে থাকেন। থ্রিলার এবং গোয়েন্দা গল্প লেখার পূর্বে তিনি অন্যান্য কাজে যুক্ত ছিলেন। তিনি রহস্যপত্রিকার একজন সহকারী সম্পাদক ছিলেন।রকিব হাসান শুধুমাত্র তিন গোয়েন্দারই ১৬০টি বই লিখেছেন। এছাড়া কমপক্ষে ৩০টি বই অনুবাদ করেছেন। তিনি টারজান সিরিজ এবং পুরো আরব্য রজনী অনুবাদ করেছেন। তাঁর প্রথম অনুবাদ গ্রন্থ ড্রাকুলা। রকিব হাসান লিখেছেন নাটকও। তিনি "হিমঘরে হানিমুন" নামে একটি নাটক রচনা করেন, যা টিভিতে সম্প্রচারিত হয়।