প্রথমত বলে রাখি, বইটা একদম ছোট। মাত্র তিনটি প্রবন্ধ, প্রথমটি বড়, বাকিদুটো ছোট ছোট।
রবীন্দ্রনাথের দেশপ্রেম, মোটামুটি একটা বিতর্কের ব্যাপার। তিনি দেশপ্রেমিক ছিলেন সে বিষয়ে তার নিন্দুকরাও নিঃসন্দেহ কিন্তু তিনি ইংরেজপ্রেমী ছিলেন কিনা তা নিয়ে ভক্তসমাজেও একটু দ্বিধা আছে।
গোড়ার কথাটা হলো, রবীন্দ্রনাথ আন্তর্জাতিক। যদি তখন দূরগ্রহবাসী জীবের ধারণা তাঁর পর্যন্ত পৌঁছত বোধকরি তিনি মহাজাগতিকও হতেন। ন্যায়-অন্যায়, আদর্শ এসব বিচারে তিনি ইংরেজ-দেশীয় বিচার করতে পারতেন না। তা করা একপেশে এবং অন্যায়। যে দোষে তিনি ইউরোপীয়দের দোষী সাব্যস্ত করেছেন বহুবার। তাঁর আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে দূরদর্শিতা। একটি জীর্ণ, ক্লিষ্ট দুর্ভাগা জাতির সত্যিকারের মুক্তি যে শিক্ষা ও জ্ঞান বিজ্ঞান ছাড়া অসম্ভব, পুরাতন যুগের আচারে আবদ্ধ সমূহ বিপদ তা তিনি বুঝতেন। তাই যেনতেনভাবে স্বরাজের চেয়ে তিনি শিক্ষাকেই বেশী গুরুত্ব দিয়েছেন সবসময়। আমরা দূর্বল, এরজন্য কারো অধিকার নেই আমাদের পরাধীন করে রাখার, কিন্তু আমাদের দূর্বলতাই যে তাদের সুযোগ তৈরী করে দিলো তা অনস্বীকার্য।
অন্যদিকে ইউরোপীয় আদর্শিক দ্বিচারিতা, যেখানে একজন ভারতীয় বা নিগ্রোর সাথে একজনের ইংরেজের বিশাল বিভেদ, যেখানে তারাই আবার নিজেদের সভ্য বলে দাবী করে, তার প্রতি আছে তীব্র শ্লেষ।