প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পদ ছাড়াও কিংবদন্তির আকারে অসংখ্য কাহিনী ছড়িয়ে আছে সুন্দরবন ও বারো-ভাটি অঞ্চলের নানাস্থানে। গাজী পীরের খনিয়া, দক্ষিণা রায়ের ব্রাহ্মণ্যনগর, খানজাহান আলীর খলিফাতাবাদ, প্রতাপাদিত্যের ধুমঘাট, পাঠান, মোগল, মগ, ফিরিঙ্গীর দ্বন্দ্ব-সংঘাত ও কীর্তি-কাহিনীর নিদর্শন এবং সর্বোপরি দুঃসাহসী বাওয়ালীদের বিচিত্র জীবনধারায় সমৃদ্ধ হয়ে সুন্দরবন যে গৌরবময় বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে তার তুলনা বিরল।
Mohammad Toha Khan was a Bangladeshi journalist, non-fiction writer and amateur naturalist. মোহাম্মদ তোহা খান সাংবাদিক, লেখক ও প্রগতি চিন্তার এক সচেতন মানুষ ছিলেন। তোহা খান ১৯২৭ সালের ১ এপ্রিল তাঁর নানাবাড়ি, বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার হাকিমপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। লেখাপড়া করতে তিনি সাতক্ষীরা প্রাণনাথ হাইস্কুলে ভর্তি হন এবং ১৯৪৩ সালে তিনি প্রবেশিকা পাস করে কলকাতা ক্যাম্বেল হসপিটাল কলেজে চিকিৎসাবিদ্যা অধ্যয়নে আত্মনিয়োগ করেন। প্রকৃতি, জীবজগৎ তাঁকে এতটাই আকর্ষণ করত যে তিনি চিকিৎসা বিদ্যা অধ্যয়ন ছেড়ে এসকল বিষয়ে মন দেন। কর্মজীবনে তিনি পূর্বপুরুষের রাজনীতি ও সাংবাদিকতায় সম্পৃকতার সুবাদে ১৯৪৭ সালে 'দৈনিক আজাদ' পত্রিকায় যোগ দেন। ১৯৫১ সালে ঢাকায় এসে দৈনিক আজাদের সহসম্পাদকের দায়িত্ব নেন। এছাড়াও তিনি দৈনিক সংবাদ, ইত্তেফাক, গণকন্ঠ পত্রিকায় কাজ করেছেন। ১৯৪৭ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত সাংবাদিকতায় নিয়োজিত ছিলেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তাঁকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছিল এই বাংলার দক্ষিণাঞ্চলের অভূতপূর্ব প্রাকৃতিক সম্পদ ‘সুন্দরবন’। আশির দশকের প্রথম দিকে সরকারি অর্থানুকূল্যে সুন্দরবন ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করে জগৎজোড়া সুন্দরবনের প্রচারে সহায়তা করেছেন তিনি । ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত তোহা খান নিরন্তর সুন্দরবন সফর করেছেন। সুন্দরবনকে নিখুঁতভাবে অনুসন্ধান ও অনুধাবন করার চেষ্টা করেছেন বলেই একাধিক গ্রন্থ, রূপসী সুন্দরবন, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সুন্দরবনের বাওয়ালী, বাঘের সন্ধানে সুন্দরবনে ইত্যাদি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর জনপ্রিয় নাটক গাজী কালু চম্পাবতী, যা বাংলাদেশ বেতারে প্রচারিত হয়। অনুবাদক হিসেবেও তাঁর খ্যাতি ছিল। ১৯৮২ সালে খুলনা প্রেসক্লাব তোহা খানকে শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে সংবর্ধনা প্রদান করে। ১৯৯০ সালে সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় ‘মাহবুবউল্লাহ-জেবুন্নেছা স্বর্ণপদক’ লাভ করেন। ১৯৯৬ সালের ১৪ এপ্রিল তোহা খানের মৃত্যু হয়।
ভয়ংকর সুন্দর বনভূমির ভূমিপুত্ররা বাঘ কুমির সাপের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে আছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম, শত কষ্টেও তাকে ছেড়ে যায় না তারা। বনবিবি, বদর গাজী, কল্পনার রাজ্যে থেকে কখনো স্নেহ কখনো শাসন করে চলেছেন। গাজী পীর, মা চম্পা, রহস্যময় দক্ষিণারায়, এখানে জীবনের অংশ। রাজা প্রতাপাদিত্য, বারভূঁইয়া, খান জাহান আলী, মোগল, পাঠান, পর্তুগীজ, মগ, কত শক্তির উত্থানপতন দেখেছে এই দক্ষিণবঙ্গ। দুঃসাহসী বাওয়ালী, কাঠুরে, শিকারী জনগোষ্ঠী রক্ত ঘাম দিয়ে জ্বালানি দিচ্ছে দেশের অর্থনীতিতে। সুন্দরবন দিয়ে চলেছে, আর আমরা আরো কত নেওয়া যায় সেই চেষ্টায় আছি। ষাটের দশকে মোহাম্মদ তোহা খান সুন্দরবন ভ্রমণ করে মানুষের এই নির্লজ্জতা উপলব্ধি করেছিলেন, আর আজকের অবস্থা দেখলে তিনি কি বলতেন চিন্তার বাইরে। সোনার ডিম পাড়া হাঁসের পেট কেটেই আমরা ক্ষান্ত হব।
অসাধারণ । নানা ব্যাস্ততায় এতদিন শেষ করতে পারি নাই । সুন্দরবনের বাদা , বাঘ, হরিণ , মানুষ আর তাঁদের জীবন যাপন নিয়ে এত সুন্দর বই মনে হয় আর হবে না । সেইসাথে সুন্দরবনের ইতিহাস তো আছেই