বাংলা একাডেমির এক কালের চমৎকার উদ্যোগ 'ভাষা শহীদ গ্রন্থমালা' সিরিজের অধীনে প্রকাশিত এই বইটি। সিরিজের বেশ কয়েকটি বই ছিল সংগ্রহে। তার মাঝে একটি ছিল এ এম হারুন অর রশিদ এর 'মৌলিক কণা'। ঘটনাক্রমে ২০১৫ সালের পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল পুরষ্কার গিয়েছে কণা পদার্থবিজ্ঞানে। নিউট্রিনো নিয়ে গবেষণাকারী দুই পদার্থবিজ্ঞানী বাগিয়ে নিয়েছে নোবেল। সেজন্য মনে হলো কণা পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে কিছু পড়া দরকার। বইয়ের পেছনে লেখা আছে "এক আশ্চর্য শক্তির উৎস মৌলিক কণা। মৌলিক কণা এমন এক বিশ্ব যা চোখে দেখা যায় না। সে বিষয় নিয়ে এই বই।"বইয়ের উপস্থাপনা খুব একটা মজার নয়। অল্প পৃষ্ঠায় শেষ করতে গিয়ে অনেকটা কঠিন করে ফেলা হয়েছে। বাংলা একাডেমির ঠিক এই বইটি দুর্লভ। তবে অনুপম প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত এই লেখকের 'বিজ্ঞান সমগ্র'তে বইটি স্থান পেয়েছে। কেউ চাইলে বিজ্ঞান সমগ্রতে বইটি পড়তে পারবে।
৫টা বছর আগেও বাংলা বিজ্ঞানের লেখক নেই, লেখক নেই রব ছিল। এখনো সেটা মিলিয়ে যায় নি, তবে উঠতি বিজ্ঞান লেখক বেরিয়ে আসছে- যার সাথে বইমেলায় নতুন নতুন বিজ্ঞানের বইয়েরও চল বেড়েছে। প্রফেসর হারুনুর রশীদ তার যুগটাতে হাতে গোনা কয়েকজনের সাথে বাংলায় বিজ্ঞান লেখার কাজটা চালিয়ে গেছেন। তার সমান ধৈর্য্য, পরিশ্রম এর ধারে কাছে না থেকে তার বিচার করতে পারব না। যদি প্রয়াস দেখাতে পারি তো সে ভবিষ্যতে দেখা যাবে। সপ্তম থেকে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা এ বইটির যুৎসই পাঠক শিক্ষার্থী হিসেবে। এছাড়া এর পরের পর্যায়েরও পাঠক পড়তে হলে একটু দৃষ্টি ভিন্ন করে পড়া যেতে পারে। আমি পড়েছি বইটি কিভাবে লিখেছে লেখক তেমন একটা দৃষ্টিকোণ থেকে, আমি যদি লিখি তো কী করতাম। কোন অধ্যায়টা সার্থক, কোন অধ্যায়টির আধুনিকায়ন প্রয়োজন! ইত্যাদি! ইত্যাদি! বইমেলা শেষ। বইমেলায় যেতে পারি নি, তাই মন খারাপ করেই বইটি এক বসায় শেষ করেছি। খুব কম সময়ই এক বসায় বই শেষ করি।