Jump to ratings and reviews
Rate this book

গঙ্গা

Rate this book
গঙ্গা সমরেশ বসু রচিত একটি ধ্রুপদী বাংলা উপন্যাস। ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত নদীকেন্দ্রিক এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য বিষয় দক্ষিণবঙ্গ, বিশেষত অবিভক্ত ২৪ পরগনা জেলার মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের (মাছমারা) জীবনসংগ্রামের কাহিনি। এই উপন্যাসখানি লেখক তথা বাংলা উপন্যাস সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা বলে বিবেচিত হয়। দেশ পত্রিকার বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ ২৪টি বাংলা উপন্যাসের তালিকাতেও স্থান পায় গঙ্গা।

208 pages, Hardcover

First published January 1, 1957

8 people are currently reading
117 people want to read

About the author

Samaresh Basu

123 books65 followers
Samaresh Basu (Bengali: সমরেশ বসু) was born in December 22, 1924. He spent his early childhood in Bikrampur, Dhaka. He also wrote under the pen-name of Kalkut.

He would in later days recall the deep impressions that the Brata-kathas (fantastic folk-tales recited by women while performing certain religious rites) narrated by his mother left on him as a child. His adolescent years were spent in Naihati, a suburb of Kolkata, in West Bengal. His life was rich with varied experiences. At one point, he used to hawk eggs from a basket carried on his head; later, he worked for meager daily wages. From 1943 through 1949 he worked in an ordnance factory in Ichhapore. He was an active member of the trade union and the Communist Party for a period, and was jailed for during 1949-50 when the party was declared illegal. While in jail, he wrote Uttaranga,his first published novel. Soon after his release from the jail, he began to write professionally, refusing to join the factory even when offered his old job.
When he was only 21, he wrote his first novel Nayanpurer Mati, later published in Parichay. it was never published as a book. Adab was his first short story published in Parichay in 1946.
A prolific writer with more than 200 short stories and 100 novels, including those written under the aliases "Kalkut" and "Bhramar", Samaresh Basu is a major figure in Bangla fiction. His life experiences populated his writings with themes ranging from political activism to working class life to sexuality. Two of his novels had been briefly banned on charges of obscenity. The case against one of these, Prajapati (Bangla:প্রজাপতি), was settled in the Supreme Court of India which overturned, in 1985, the rulings of the two lower courts.
Among other intellectuals, Buddhadeva Bose, himself once accused of similar charges for his রাত ভ'রে বৃষ্টি, came out strongly in support of Samaresh. To quote from Sumanta Banerjee's recent translation Selected Stories (Vol.1), Samaresh Basu "remains the most representative storyteller of Bengal's suburban life, as distinct from other well-known Bengali authors who had faithfully painted the life and problems of either Bengal's rural society or the urban middle class. Basu draws on his lived experience of Calcutta's `half-rural, half-urban,' industrial suburbs."
While the pen-name "Kalkut" was adopted in 1952 for the immediate need to publish an overtly political piece, the real "Kalkut" can be said to have been born with the publication of Amritakumbher Sandhane, a hugely popular, semi-autobiographical narrative centered around the Kumbha-mela. The many subsequent books by Kalkut had depicted the lives of the common people from all over India and all walks of life (including those who live on the periphery of the "mainstream") with their varied cultures and religious practices in a unique style that was Kalkut's own. He also drew upon the recollections of the Puranas and Itihas; Shamba (Bangla:শাম্ব), an interesting modern interpretation of the Puranic tales, won the Sahitya Akademi Award in 1980.
Samaresh Basu breathed his last on March 12, 1988.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
14 (25%)
4 stars
20 (37%)
3 stars
16 (29%)
2 stars
4 (7%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 10 of 10 reviews
Profile Image for Sumaîya Afrôze Puspîta.
232 reviews299 followers
January 12, 2026
সুঁদুরীবনের ডাকাত হতে পারত সে। কিন্তু হলো না। মাছ মারতে গিয়ে দক্ষিণ রায়ের কাছে হাপিস হয়ে গেল। হতেই হবে। যে মারে মাছ, তাকে মারে অন্য কেউ। এ মরণ থেকে নিস্তার নেই। তবু না এসেও উপায় নেই।
"যদি মাছমারা হ‌ও, তবে মাছের পিছে পিছে আসতে হবে। সে জলে, তুমি ডাঙায়। তার মরণ, তোমার জীবন। এই নিয়ম। জীবন মরণের পাশাপাশি বাস।"

নিয়মের চক্করে নিবারণ সাইদার গেল হারিয়ে। তার পুত্র বিলাসকে নিয়ে খুড়ো পাঁচু এখন গঙ্গায় চলেছে। তার শেষ সম্বল। কিন্তু যুবকের রক্তে যে বড় দোষ লেগেছে। দক্ষিণের ফিসফিসে বাতাসে সে উন্মাদ হয়ে ওঠে। ভাব-বিভ্রম মন নিয়ে, উথালি-পাথালি বুক নিয়ে, গঙ্গায় এসে তাকে মরণ ধরেছে। সেই মরণ, সেই কুহকিনীর‌ও আবার সমুদ্রের ঘ্রাণ নেবার সাধ। যে সাধে পুড়েছিল আরো একজন।
"কিন্তু কই, যাওয়া হল না তো, মনের সাধ কি কোনওদিন মেটে? মেটে না।"

মাছমারার জীবন চলতে থাকে। সে কঠিন, সে বিষে দগ্ধ, শরীরী-যাতনায় অস্থির, অশান্ত–কিন্ত খুড়োর শেষবাণীতে সে প্রাণ ফিরে পায়। তার মনের মানুষটির খোঁজ পেয়ে যায়। আসলেই পায়?
"মাছমারার জীবনে মনের মতো কোনও দিন কিছু পাওয়া যায়নি। মানুষ হয়ে কে বলতে পারে, মনের মতনটি সব পেয়েছে সে।"

▫️▫️▫️

অনেকদিন পর ব‌ই পড়ে বুকটা হু হু করে উঠল। ইলিশের রক্তমাখা চোখ তখন থেকেই বড় আরাধ্য। জেলেদের সমাজ, সংসার, মহাজনের জাঁতা, জলের বিপদ, ডাঙার কামড়, রক্তের উচ্ছৃঙ্খলতা এত বিস্তৃতভাবে আদিম বর্ণনায় আর কোনো ব‌ইয়ে আছে কিনা জানা নেই। দুঃখ-সুখ-খুনোখুনি-মন্বন্তর-প্রেম–হ্যাঁ, প্রেমের কথায় মনে পড়ল, এই যে ইদানিংকার এত ব‌ই পড়ছি তাতে কী এই বিষয় কম আছে? কিন্তু মন টানে ক‌ই? এই ব‌ইগুলো হঠাৎ হঠাৎ পাই, আর এক একবার জীবনটাকে অন্যভাবে দেখি। মাথায় যেন আপনাতেই বেজে ওঠে—
আমার কিছুতে নাই মন ।
আমি ভাসব অকুল পাথারে হে
এই আমার মতি বিলক্ষণ ।
1 review1 follower
Read
May 17, 2018
নদীর ধারেই ছিল চাষ এবং বাস। পূর্বপুরুষের জীবিকা ছিল নদীকেন্দ্রিক কাজেই নদী টানে সবসময়েই।নদীর ধারে বসবাসকারী মানুষ তাদের জীবনযাপন , মরাবাঁচার লড়াই এর মধ্যেই মানুষ হয়েছি। কাজে কাজেই পদ্মা নদীর মাঝি , তিতাস একটি নদীর নাম , হাঁসুলি বাঁকের উপকথা , ধীরে বহ ডন এই সব বই পড়তে পড়তে একাত্ম হয়ে গেছি । কিন্তু সবচেয়ে বেশি টানে সমরেশ বসুর গঙ্গা উপন্যাসটি। অদ্বৈত মল্লবর্মন নিজেই জন্মেছিলেন জেলে পরিবারে কাজেই তাঁর আঁকা চরিত্রগুলি স্বচ্ছ এবং জীবন্ত। পদ্মা নদীর মাঝির সঙ্গে পরিচয় বেতার নাটকের মাধ্যমে নেহাত শিশুবয়েসে । পরে কুবির কপিলা মালা আর হোসেন মিঞাতে বুঁদ হয়ে গেছিলাম। গৌতম ঘোষের ছবিটি হয়েছিল চমৎকার । ক একটি দৃশ্য মনে গেঁথে গেছে । ঝড়ের দৃশ্যের শুরুটা , নদীর উপরে মেঘের ছায়া , ধীরে ধীরে পাড় ভেঙে পড়ছে। আর কপিলাকে আনতে গেছে কুবির, নৌকায় ফিরছে আর একটা গান ছিল , একেবারে ফাটাফাটি। "হাঁসুলি বাঁকের উপকথা " এই উপন্যাসে নদী তীরবর্তী মানুষের দারিদ্র সংঘর্ষ প্রেম বিষয়ক উপকথা । পুরোনো মূল্যবোধ ভাঙার বিষয়টি নায়ক করালীর মধ্যে প্রতীয়মান।জীবনের তাড়নায় পুরানো জীবিকা ছেড়ে শহরে , কারখানার শ্রমিক। কিন্তু মাটির টান থেকেই যায় । আবার সে ফিরতে চায় সেই নদীর ধারে , অন্যরূপে। তপন সিংহের সিনেমাটি অসাধারন এবং করালীতে কালী ব্যানার্জি অনবদ্য।

কিন্তু গঙ্গা উপন্যাসে মাছমারাদের জলের জীবন সম্পর্কে যে ডিটেল বিবরণ রয়েছে তা অনবদ্য। এমনিতেই সমরেশ বসু গঙ্গাপাড়ের মানুষ। তৎসত্বেও এই উপন্যাস লেখার জন্য এক বছরকালীন তিনি জেলে মানে ইলিশ মাছমারাদের সঙ্গে কাটিয়েছিলেন নৌকায়। বিলাসের জেদ ক্রোধ , অতৃপ্তি , না পাওয়ার বেদনা তাড়া করে নিয়ে বেড়ায় । হিমির সঙ্গে প্রেমের বিষয়টি ছিল এমনই যা আমি অন্য কোথাও পাইনি। বছরের বিভিন্ন সময়ে নদী , জল এবং জলের চরিত্রের সঙ্গে নৌকায় মাছমারাদের জীবন যাপন এবং অর্থনীতির পরিবর্তনের বিষয়টি লেখক এমন মুন্সিয়ানার সঙ্গে এঁকেছেন যে মুগ্ধ হতে হয়। বিলাসের কাকা পাঁচু , যে দাদা নিবারণ সাইদার কে গুরু মানত , বিলাসের মধ্যে তার ছায়া দেখে। কিন্তু বিলাস তার বাবাকে ছাপিয়ে যায় , সে হয় সাইদার আর হিমি তার মহাজন ।সমুদ্র তাকে টানে । তেঁতলে বিলেস সমুদ্রে যায়।

বইটা শেষ হলেও না বলা কতকিছু থেকে যায়।রাজেন তরফদার বইটির চলচিত্রায়িত করেন ।হিমির চরিত্রে রুমাগুহঠাকুরতা অসাধারন কিন্তু বিলাসের ভূমিকায় নিরঞ্জন রায় কে আমার তেমন ভালো লাগেনি। বইটার যেমন গভীরতা ছিল সিনেমা দেখে তেমন তৃপ্তি পাইনি, যেমন পেয়েছিলাম পদ্মা নদীর মাঝিতে।
Profile Image for প্রিয়াক্ষী ঘোষ.
364 reviews34 followers
December 1, 2023
যাদের জীবন ও জীবিকার পুরোটা জুড়ে রয়েছে নদী, সেই সব মানুষদের নিয়েই সমরেশ বসুর এই ক্ল্যাসিক উপন্যাস "গঙ্গা "।

নদী ও জেলেজীবন নিয়ে বাংলা সাহিত্যে বেশ কিছু কালজয়ী সৃষ্টি আছে, তার মধ্যে এই বইটাও একটি।

দক্ষিণবঙ্গের জেলেদেন জীবনচিত্র মূলত জল ও জাল নিয়ে। বংশপরম্পরায় জলের টানে ও জীবনের চাহিদা মেটাতে এরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পেশায় জড়িত। যেখানে জীবনের নিশ্চয়তা নাই, ঘর থেকে বের হতে হবে পরিবার প্রিয়জন ছেড়ে, ফেরা না ফেরার এক আশঙ্কা বুকে নিয়ে। এরই সাথে আছে ধারদেনা, অভাব, মহাজনের কাছে প্রতিনিয়ত নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে চলা।
একই সাথে জলের প্রতি গভীর এক টাল, পরিবারের ভালোবাসা, প্রকৃতির সাথে সংগ্রাম করে টিকে থাকার এক অদম্য উচ্ছাস।

উপন্যাসে প্রতিটি চরিত্র যার যার জায়গা থেকে বলিষ্ঠ।বিলাস, পাচু, হিমি, দামিনী প্রধান চরিত্র হিসেবে মনে হলেও
বিলাসের বাবা, পাঁচুর বড় দাদা নিবারণ সাইদার অন্যান চরিত্র গুলোকে ছাপিয়ে গেছে।

অতীত স্মৃতি আর বর্তমানের ঘটনাবহুল কাহিনি নিয়ে এগিয়ে গেছে " গঙ্গা "।
অসাধারণ এক উপন্যাস বলার অপেক্ষা রাখে না।
Profile Image for Paromita.
174 reviews32 followers
November 29, 2024
অদ্ভুত সুন্দর একটি উপন্যাস। কাহিনীর কেন্দ্র গঙ্গা নদী ও তাকে ঘিরে মাছমারাদের জীবন। গঙ্গার ওপর তারা সবাই নির্ভরশীল। নদী উত্তাল হলে তাদের জীবিকা, তাদের ও তাদের পরিবারের ভবিষ্যত, তাদের প্রাণ - সবই সঙ্কটময়। এই অনিশ্চিত, বিপদসংকুল, ভবঘুরে জীবনই মাছমারার নিত্যদিনের কাহিনী। ভরসা নদী - তবে সে শুধু নদী নয় - সে মাছমারার মা - গঙ্গা।

মাছমারার স্থলে বেশিদিন মন টেকে না। পৃথিবীতে দুর্লভ - কোন মানুষের নিঃস্বার্থ, একনিষ্ঠ ভালবাসা - তাও ধরে রাখতে পারে না তাকে। সে ফেরার প্রতিশ্রুতি দেয়, আপ্রাণ চেষ্টাও করে সেই প্রতিশ্রুতি রাখার কিন্ত যেতে তাকে হবেই। কীসের এই নিবিড় টান! লেখক ফিরে গিয়েছেন মহাভারতের সূচনার কাহিনীতে - রাজা শান্তনু, দেবীরুপে গঙ্গা ও তাদের বীরপুত্র ভীষ্মের কথায়। সেই কাহিনীর পরিসমাপ���তি আমরা জানি, সেই থেকেই কি নদীর সঙ্গে কিছু মানুষের গভীর সংযোগ?

জীবিকা অর্জনের কারণেই জীবন বিপন্ন করে মাছমারার নদীতে নামা কিন্ত ধীরে ধীরে যেন জল তার চিরসঙ্গী হয়ে ওঠে। তাই শত ঝুঁকি সত্বেও মাছমারা নদীতে নামে। এমনকী দুর্ভাগ্যক্রমে মৃত্যুবরণ করতে হলেও সে মাতৃক্রোড়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে পেরে আশ্বস্ত হয়, শুধু রেখে যায় মা গঙ্গার কাছে তার পরবর্তী প্রজন্মের মাছমারার শুভজীবনের প্রার্থনা।

গঙ্গার ঢেউয়ের মতন মাছমারার জীবনে এই উত্থান-পতনের চক্র চলতেই থাকে।
অসাধারণ, অভিনব একটি উপন্যাস। পড়ে মুগ্ধ হয়েছি।
29 reviews6 followers
January 3, 2022
বইঃ গঙ্গা
লেখকঃ সমরেশ বসু

বাংলা সাহিত্যে একটা বড় স্থান দখল করে রয়েছে জেলেজীবন এবং নদী। জেলেজীবন নিয়ে পরিপূর্ণ উপন্যাসের মধ্যে অন্যতম একটি উপন্যাস সমরেশ বসুর গঙ্গা উপন্যাসটি। যেখানে একজন লেখক একটা সম্প্রদায়কে নিয়ে লিখতে গিয়ে সেই সম্প্রদায়ের সাথে মিশে যান, সময় দিয়ে, তাদের মতো জীবনযাপন করে, হাজারো প্রশ্ন করে তথ্য সংগ্রহ করেন সেই উপন্যাস চমৎকারই হবে। গঙ্গা যেমন বাংলা সাহিত্যের একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। তেমনই সমরেশ বসুও বাংলা সাহিত্যের একজন অন্যতম সাহিত্যিক।

"গঙ্গা" উপন্যাস রচিত হয়েছে দক্ষিনবঙ্গের মাছমারাদের অর্থাৎ জেলেদের জীবন নিয়ে। যারা গঙ্গায় আসে মাছ ধরতে। কখনো বা জলের টানে বা পেটের টানে গঙ্গা পেরিয়ে সাইদার হয়ে যায় সমুদ্রে। রাত কাটায় দিন কাটায় নদীতে বা সমুদ্রে নৌকোয়। গঙ্গা উপন্যাসের মূল চরিত্র জলোজীবন তাদেরই অভাব অনটন, ধারদেনা, মহাজনের চোখরাঙানি, জলের প্রতি গভীর টান, প্রকৃতির সাথে টিকে থাকার সংগ্রাম, প্রেম ও কামের গল্প নিয়ে জেলেদের পূর্ণাঙ্গ একটা জীবনের চিত্র।

তবুও এই উপন্যাসে উল্লেখযোগ্য কিছু চরিত্র রয়েছে যেমন বিলাস, পাচু, হিমি, দামিনী। কিন্তু সবাইকে চাপিয়ে বিলাসের বাবা, পাঁচুর বড় দাদা নিবারণ সাইদার প্রধান চরিত্র হয়ে উঠেছে গল্পে। কেনো না, বিলাস যেনো তার বাবারই প্রতিচ্ছবি। বিলাসের রাগ জেদ, সাহস সকল কর্মকান্ডেই তার বাপের মিল দেখে পাচু। অনেক বছর পরে বিলাসও বাপের মতো একই তীরে এসে ডুবতে চায়। নিবারণ শহুরে এক ফরেনি মাছ বিক্রেতা দামিনীর প্রেমে মজেছিল। দামিনী স্বপ্ন দেখতো নিবারণের সাথে অকূলে ভাসার। একইভাবে দামিনীর নাতনি হিমিও বিলাসের সাথে অকূল সাগরে ভেসে যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়‌। হিমি আর বিলাসের প্রণয় পরিণতি নিয়েও লেখক চমৎকার একটা সমাপ্তি টেনেছেন। জেলেদের জীবনেও বুকে উথালি পাথালি হয়। কার না হয়। প্রত্যেক মানুষের বুকের ভেতরেই নিজস্ব একটা উথালি পাথালি থাকে। হিমিরও কি নেই? সেই এটাকে নিয়েই বাঁচতে চায়।

একটা বিশেষ সময়ে গঙ্গায় মাছমারাদের মাছধরার আয়োজন নিয়ে গল্প এগিয়ে চলে। একই সাথে বর্তমান আর অতীতকে সঙ্গে করে গল্প এগুতে থাকে। সেই সাথে পাঠক জানতে পারে জেলেদের সংগ্রামী জীবনের হালচাল। জেলেদের বউ ছেলেমেয়ের অপেক্ষা, অনাহারে অর্ধাহারে, নির্ঘুম রাত কাটাবার গল্প। মা গঙ্গার দয়ার উপর নির্ভর করে মাছমারাদের জীবন। কখনও তিনি দেন কখনওবা ঘূর্ণি জলোচ্ছ্বাসে মাছমারাদের মারেন।

পাঠক হিসেবে আমি বিভিন্ন জীবনকে যাপনের সুযোগটা উপভোগ করি। এক্ষেত্রে আমার সবচেয়ে পছন্দের জনরা জলোজীবন নিয়ে উপন্যাসগুলো। গঙ্গা জেলেদের একটা পূর্ণাঙ্গ জীবনকাহিনী বলা যায়। একরকম উপন্যাসে পাঠককে কখনোই কোন হোঁচট খেতে হয় না পড়তে গিয়ে। বরং লেখকের সুনিপুণ লেখনীতে পাঠক গল্পেরই একটা অংশ হয়ে যায়।
জীবনের রূঢ় বাস্তবতার কাছাকাছি নিয়ে যায় এসব বই। মহাজনের চোখ রাঙানিতে ঈশ্বর এখানে নির্লিপ্ত। জেলেদের পেটের জ্বালা নিবারণের ব্যবস্থা যেনো এই পৃথিবীতে কোথাও নেই। তারপরেও এখানে মানুষ বেঁচে থাকে। প্রকৃতি আর মহাজনদের মতো উপরতলার মানুষের সাথে সংগ্রাম করেই বেঁচে থাকে। থাকতে চায়।

পাঠকেরা এই চমৎকার উপন্যাস নিঃসন্দেহে উপভোগ করবেন।
5 reviews2 followers
September 19, 2021
সমরেশ বসুর 'গঙ্গা' এই উপন্যাসে গঙ্গা নদীর ওপর নির্ভরশীল মাছমারা (জেলে) সম্প্রদায়ের জীবন প্রবাহ মূল বিষয় হলেও এর বিস্তৃতি আরো গভীর আরো প্রশস্ত। এখানে পাঁচু ,নিবারণ, বিলাস, রসিক ,সারারাম দের মত যেমন অনেক মালোদের গঙ্গা কেন্দ্রিক, জীবিকা নির্ভর জীবনের ছবি ফুটে উঠেছে যা পাঠকদের কাছে নতুন তেমনি তাদের পারিবারিক জীবন, বেঁচে থাকার চেষ্টা, তার মধ্যে সাময়িক আনন্দের সন্ধান, মানসিক দোলাচলা, বন্ধুত্ব, সামাজিক সম্পর্ক এগুলোর রং ভিন্ন কিন্তু কাঠামো প্রতিটি মানুষের সাথে অভিন্ন। কেউ যদি মৎস জীবীদের জীবনের গভীরে উঁকি মেরে দেখতে চায় তবে তার জন্য এটি অবশ্য পাঠ্য আবার কেউ যদি মানুষ ভালো বাসে আর মানুষের গভীরে উঁকি মারতে চায় সেও এই মলোদের কথা পড়ে হতাশ হবে না। এখানে জীবনের শিক্ষাও লেখক দিয়েছে তাঁর গল্পের চরিত্র গুলির জীবনবোধের মধ্য দিয়ে তাতে কোনো তত্ত্ব কথা নেই কিন্তু গল্পের স্রোতে তা বুঝে নিতে পাঠকের সমস্যাও হয় না। জীবনের একটা অংশ মাত্র প্রেম সেটাই পুরো জীবন নয়- প্রেমও যেন ঠিক জীবনের একটা সুন্দর অংশর মতো এখানে ধরা পড়েছে, কোনোরকম বাড়াবাড়ি ছাড়া।

"জীবনটা ফুটো কলসি, সে কখনো ভরে না"- জীবন সম্পর্কে এই নির্লিপ্ত ভাবে এমন মন্তব্য কেবল একজন অভিজ্ঞ মানুষই করতে পারে, আর তার সারা জীবনের অভিজ্ঞতা, যদি কয়েক ঘন্টার মধ্যে একটা বই পড়ে অর্জন করা যায়, তবে কেনো নয়? বই এর বিকল্প নেই আর এমন সাহিত্যরস ও জীবনরসে ভরপুর বই তো আমাদের বাংলা সাহিত্যের সম্পদ বাঙালিদের সম্পদ।
Profile Image for Mahmudur Rahman.
Author 13 books357 followers
June 4, 2022
সমরেশ বসু কেন সমরেশ বসু বা সমরেশ বসু কেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা ঔপন্যাসিক, তার একটা ছোট উদাহরণ এই উপন্যাস।
অনেকেই সমরেশ বসুর গঙ্গাকে 'বাংলা সাহিত্যে জেলে জীবন'-এর অন্যতম উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। কিন্তু আদতে উপন্যাসটি কেবলমাত্র জেলে জীবন নয় বরং দক্ষিণ বাংলার জেলেদের জীবনের কথা হয়ে উঠেছে। পাচু এবং বিলাসের মধ্য দিয়ে জেলে জীবনের কথার পাশাপাশি এ উপন্যাসে বিলাস ও হিমির মধ্য দিয়ে প্রেমের এক নতুন ধারা রচিত হয়েছে যা সাহিত্যে দুর্লভ। অদ্বৈতর 'তিতাস' কিংবা মানিকের 'পদ্মা' থেকে সমরেশের গঙ্গা এগিয়ে থাকার আরেকটি কারণ এ উপন্যাসে জেলেদের নৌকার জীবন দেখানো হয়েছে। মাসের পর মাস তারা নৌকায় থেকে কীভাবে জীবন যাপন করে, কীভাবে মরে সে খবর আমাদের দেয় সমরেশের গঙ্গা। সেই সঙ্গে স্থানীয় ভাষার ব্যবহার উপন্যাসকে দুর্বোধ্য করলেও ওই মানুষ ও তাদের কাছাকাছি পাঠককে নিয়ে যায়।
Profile Image for Shuvescha De.
40 reviews1 follower
February 24, 2024
গঙ্গা পড়তে পড়তে মানিকের পদ্মা নদীর মাঝিকে মনে পড়বে না এমন পাঠক কি আছে ধরাধামে?

কলকাতার অদূরে এক গ্রামের মাছমারাদের অসামান্য জীবনালেখ্য গঙ্গা। মাছমারা শব্দের অর্থ জেলে। বিলাসের কাকা কে দিয়ে গল্পের যাত্রা হলেও মূল চরিত্র অবশ্যই বিলেস বা তেতলে ব���লেশ। গল্পের কাহিনী বর্ণনা করে রিভিউ ভারী করার আসলে কারণ নেই।

উপন্যাসে আঞ্চলিক হাজার শব্দের ব্যাবহার লেখকের মুন্সিয়ানার সাক্ষর বহন করে। লেখক সমরেশ বসু পাঠককে হাতে ধরে যেন ঠিক গঙ্গা নদীর পাড়ে নিয়ে যান। পাঠক ছবির মতন দেখতে পান জেলেদের মাছ ধরা, নৌকোয় উনুন ধরিয়ে রান্না বসানো, বিলাসের মহাজনের নাতিনের সাথে প্রেম, মাছমারাদের হাতে পায়ে হাজাপোকা।পাঠক যেন বিলাসের সাথে সমুদ্রে মাছ মারার ডাক পায় যে সমুদ্রের গর্ভে হারিয়ে গিয়েছিল বিলাসের এক আপন জন। তবু কি বিলাস সেই সমুদ্রে যাবে পাঠক উপন্যাসে সেই প্রশ্নের উত্তর হাতড়ে ফেরে।
Profile Image for Tokib Towfiq.
15 reviews3 followers
January 2, 2023
গঙ্গা সমরেশ বসু রচিত একটি ধ্রুপদী বাংলা উপন্যাস। ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত নদীকেন্দ্রিক এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য বিষয় দক্ষিণবঙ্গ, বিশেষত অবিভক্ত ২৪ পরগনা জেলার মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের (মাছমারা) জীবনসংগ্রামের কাহিনি।
Profile Image for Irfan Mahmud.
13 reviews1 follower
September 2, 2025
4.5/5.
অসাধারণ বই। শেষটা বেদনাদায়ক। অনেকদিন পর ভালো একটি উপন্যাস পড়লাম
Displaying 1 - 10 of 10 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.