Taslima Nasrin (Bengali: তসলিমা নাসরিন) is an award-winning Bangladeshi writer, physician, secular humanist and human rights activist, known for her powerful writings on women oppression and unflinching criticism of religion, despite forced exile and multiple fatwas calling for her death. Early in her literary career, she wrote mainly poetry, and published half a dozen collections of poetry between 1982 and 1993, often with female oppression as a theme. She started publishing prose in the early 1990s, and produced three collections of essays and four novels before the publication of her 1993 novel Lajja (Bengali: লজ্জা Lôjja), or Shame. Because of her thoughts and ideas she has been banned, blacklisted and banished from Bengal, both from Bangladesh and West Bengal part of India. Since fleeing Bangladesh in 1994, she has lived in many countries, and lives in United States as of July 2016. Nasrin has written 40 books in Bengali, which includes poetry, essays, novels and autobiography series. Her works have been translated in thirty different languages. Some of her books are banned in Bangladesh.'
তসলিমা নাসরিনকে ব্যক্তিগতভাবে আমি অপছন্দ করি। কিন্তু এই বইটা পড়তে গিয়ে অনেক আগের তসলিমা সম্পর্কে জানলাম, সত্যি বলতে মায়া লেগেছে খুব। বকুলি কথা বলুক না বলুক, তসলিমার কলমের ধার বোঝা গেলো এই বইটাতেও। অনেক বিখ্যাত মানুষ সম্পর্কে অনেক কিছু আছে, পড়তে গিয়ে অবাক হলাম। দেশান্তরী হয়ে যাওয়া, ফেসবুকে উদ্ভট লজিক দিয়ে বডিশেমিং করা একই মানুষের লেখা যে পড়ছি বিশ্বাস হচ্ছিলো না। তসলিমা খুব সাহসী এটা মানতে হবে অবশ্যই। তবে একপাক্ষিক কিছু পড়ে অবশ্যি কাউকে নিয়ে রায় দেয়া যায় না। রুদ্র তসলিমার ব্যাক টু ব্যাক কবিতা লিখে ঝগড়া-ঝামেলা, তার পার্সোনাল লাইফের অনেক খুটিনাটি, ডাক্তারজীবনের গল্প, পরিবার-বন্ধুবান্ধব, ঢাকার জীবন, স্বনির্ভরতা সবকিছু মিলিয়ে আমার মনে হয়েছে মানুষটা অসম্ভব জেদী এবং একগুঁয়ে। তার অনেক কিছু দেয়ার ছিলো, কলমের ধার ছিলো। জেদে আর স্বেচ্ছাচারিতায় অনেকটাই নষ্ট করেছেন। তার বাবার একটা কোটেশন খুব ঘুরে বেড়ায়- "আমার মেয়ে কলম হাতে নিয়েছে খুব শক্ত করেই, কিন্তু ধরেছে উলটো"। তসলিমার লেখা পড়ে তার বাবা ভদ্রলোকটি সম্পর্কে একদমই উচ্চধারণা পোষণ করি না, কিন্তু কথাটা সত্যি। উলটো কলমই সব সর্বনাশ করে দিলো।
বইয়ের নাম "ক" দেখে আপনার মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে বইটা কী নিয়ে! বইটিকে তসলিমার আত্মজীবনীও বলা যায়। এখানে উনি উনার নিজের জীবনের কিছু সময় নিয়ে লিখেছেন। ময়মনসিংহে কথা বলতে বলাকে "ক" বলে। সেটাকে বিবেচনায় রেখেই বইটির নামকরণ করা হয়। কীভাবে তসলিমা সবার সামনে পরিচিত হতে থাকে, কীভাবে উনার বিরুদ্ধে মৌলবাদীরা ক্ষেপে উঠে, কীভাবে উনার পক্ষে-বিপক্ষে লেখালেখি চলে, আনন্দ পুরষ্কার পাওয়া, তসলিমা কয়টি বিয়ে করেছেন, কয়জনের সাথে শুয়েছেন সবকিছু উনি এই বইয়ে অকপটে বলে গিয়েছেন। এছাড়াও বাংলাদেশের কয়েকজন বিখ্যাত লেখকের ভেতরের রূপ সম্পর্কেও জানতে পারবেন। তসলিমা সম্পর্কে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গাতে উলটাপালটা আগেও ছড়ানো হতো এখনো ছড়ানো হয় যাতে নিউজের কাটতি বাড়ে। সেসব আজেবাজে ভুয়া খবরে কান না দিয়ে নিজেই এই বইটি পড়ে ফেলতে পারেন।
যখন নির্বাচিত কলাম পড়েছিলাম তখন আমার বয়স ছিল ১৩। বয়ঃসন্ধিতে পা দিয়ে গোপন কুঠুরি থেকে এই বই আবিষ্কার করে গোপনেই পরে ফেলাটা যতটা দুধর্ষ ছিল তার থেকে বেশি অবাক হয়েছিলাম কিশোরী মেয়ে হিসেবে যেসকল বৈষম্যমূলক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি সেটা প্রতিদিন দেশের সবখানেই বেশিরভাগ মেয়েদের সাথেই ঘটছিল কিন্তু সেগুলো প্রকাশ্যে কেউ আলোচনা করেনা তা জেনে। যে বৈষম্য আমি মানতে চাইছিনা, প্রতিদিন আত্মীয়দের সাথে রাগ দেখাচ্ছি এবং আব্বু এলেই জানাচ্ছি সেগুলো যে ঠিকই আছে সেটা এই বই না পড়লে আমিও অন্যদের মত "মেনে নাও, মানিয়ে নাও" এর চক্রে পড়ে যেতাম। স্বভাবতই এরপরে 'আমার মেয়েবেলা' পড়ি। দ্বিখন্ডিত যখন হাতে আসে তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। কিছুদূর পড়বার পরে আর পড়া হয়না। আর এরপর এতবছর পরে যখন শুরু করি তখন আমি বয়সের মধ্য দুপুরে। এতটা সময় পাড়ি দিয়ে এসে এই বইয়ে বর্ণনা করা লেখকের জীবন আর তার লড়াই কেমন লেগেছে আমার?
তিনি সমগ্র পুরুষজাতির বিরুদ্ধে লড়াই করছিলেন কিংবা তিনি পুরুষবিদ্বষী এরকম অনেক সমালোচনাই তার বিরুদ্ধে রয়েছে। এই বইয়ে তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি গুছিয়ে লিখতে পারেন না, তাই তার বইয়ে গুণগত ও শিল্পগত মান নেই। জানিয়েছেন তিনি সমস্ত পুরুষজাতির বিরুদ্ধে লড়ছেন না। কেবল সমাজের নষ্ট নিয়ম, নারীকে দাসী/পণ্য/যৌনসামগ্রী হিসেবে ব্যবহার করা, নারীকে মানুষ হিসেবে মর্যাদা না দেয়ার জন্য সমাজ, রাষ্ট্র আর ধর্মের রীতি-নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন। তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সিদ্ধান্ত দেবার ক্ষমতা তাকেও পুরুষতান্ত্রিক আচরণ করে যেতে উদ্বুদ্ধ করেছে, সেকারণে তিনিও তার বাবার মতন মায়ের উপর রাগ ঝাড়তেন কিংবা আদেশ দিতেন। বিতর্ক হবার নানাবিধ কারণ থাকা সত্ত্বেও বিখ্যাত লেখক/সাহিত্যক/কবিদের ব্যক্তিগত চারিত্রিক দূর্বলতা নিয়ে লিখেছেন। তিনি চাইলেই তার চরিত্রের দুর্বল দিকগুলো লুকিয়ে যেতে পারতেন, পারতেন তার যৌনসঙ্গীদের কথা আড়াল করতে। সেটা তিনি করেননি।
লেখিকার সাহিত্যের গুণগত ও শিল্পগত মান নিয়ে অনেক সমালোচনা রয়েছে। তবুও ক্রিশ্চান বেস যেমন বলেছেন "তসলিমা লিখতে যদি নাই পারে, ভাল যদি নাই লেখে তবে এত লোক কেন ক্ষেপেছে? নিশ্চয়ই তিনি সমাজের কোন এক জায়গায় একটা আঘাত করেছেন যে আঘাত সকলে করতে পারেনা। ভাল সাহিত্যের যেমন মূল্য রয়েছে তেমন সমাজ পাল্টানোর জন্য আঘাত করারও মূল্য রয়েছে।"
তিনি আমার জন্য কিশোরী বয়সে মুক্তচিন্তার দ্বার খুলে দিয়েছিলেন, মেয়েদের প্রতি অন্যায়/বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে উৎসাহ দিতে পেরেছিলেন। এখন এই সময়ে (২০২১ সাল) এসে যখন তার সময়ের (আজ থেকে ২০-৪০ বছর আগের) অভিজ্ঞতা পড়ছি তখন দেখি থেকে যেসব ক্ষেত্রের বৈষম্য তিনি তুলে ধরেছেন তার অনেকক্ষেত্রেই মেয়েদের পক্ষে সমাজ এবং দেশ অগ্রসর হয়েছে। তবুও কী পুরোপুরি এগিয়ে যেতে পেরেছে দেশ, পুরোপুরি নারীবান্ধব হতে পেরেছে আমাদের সমাজ? এখোনো কী দেশের সকল মেয়েদের জন্য সম্পদের সুষম বন্টন চালু হয়েছে? নারীকে দাসী/পণ্য/যৌনসামগ্রী হিসেবে ব্যবহার করা বন্ধ হয়েছে? বাসে/ভীড়ে মেয়েদের শরীরে অযাচিত স্পর্শ করা বন্ধ হয়েছে? ধর্ষণ কিংবা হত্যা বন্ধ হয়েছে?
লজ্জা হয়, কষ্ট হয় যখন পড়ি সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিরুদ্ধে লেখবার জন্য তার বই নিষিদ্ধ হয়েছে, তাকে দেশ ছাড়া হতে হয়েছে। তিনি লিখেছেন জনপ্রিয় হবার জন্য তাকে অনুসরণ করে লিখতে শুরু করেছিলেন হুমায়ুন আজাদ। অনুসরণ করেছেন কীনা জানিনা তবু ধর্মীয়/সমাজের নষ্ট নিয়মের বিরুদ্ধে লেখার জন্য হুমায়ুন আজাদ এমনকি অভিজিৎকে খুনও হতে দেখেছি। এ এক বিষম দায়!
১ তারা কম দিতে হল কারণ লেখিকা মনে করেন তিনি ছাড়া আমাদের সমাজের এই বৈষম্যের বিষয়ে তার আগে কেউ বলেনি বা লেখেননি। অথচ বেগম রোকেয়া তারও বহু আগে লিখেছেন। অনেক পরে এসে জেনেছি তাকেও তার সমকালীন সমাজে অবরুদ্ধ হতে হয়েছে। এইটুকু বাদ দিলে তার এই লেখাটা সময়ের ঐতিহাসিক দলিল হয়েই থাকবে।
ক এর প্রথম গল্পটা আসলেই সুন্দর। সত্যি জীবন থেকে নেয়া হয়ে থাকলে সদ্য ডাক্তারের মনো-চাঞ্চল্য আর বাস্তবের রণ-ডমরু উপভোগ্য গল্প সাজিয়ে তুলেছে।
ক যখন পড়েছি ক তখন নিষিদ্ধ। ক যখন পড়েছি তখন আমি কিশোর। ক যখন পড়েছি বইটি তখন কুড়িয়ে পাওয়া। ক যখন পড়েছি তখন তার ভেতর প্রথম নীল ছবির সিডিও কুড়িয়ে পাওয়া।
ক) ছোট, খ) লোভী, গ) হিংস্র, ঘ) অথবা স্রেফ নির্বোধ।
সব পুরুষ খারাপ? নাকি আপনি নিজেই toxic pattern-এর repeat offender?
এক জায়গায় মনে হয়, উনি শুধু breakup করতেই প্রেমে পড়েন— যেন heartbreak একটা ধরণের literary fuel, আর প্রেমিকরা just ক্ষণস্থায়ী মোমবাতি।
৩. নারীবাদ না—selective victimhood: তসলিমার feminism মাঝে মাঝে liberation-এর চেয়ে victimhood-এর ব্র্যান্ডিং বেশি করে। যেখানে feminism মানে:
নিজের শরীর নিয়ে খোলামেলা লেখা মানেই প্রতিবাদ
যৌন স্বাধীনতা মানে বাকি সমাজকে অপমান
নিজের trauma মানে একমাত্র সত্য
এটা নারীবাদ না, এটা একরকম "pain olympics"-এর অংশগ্রহণ যেখানে উনি gold চায়, এবং সবাই bronze।
৪. ভাষা ও গদ্য – blunt force trauma, not art: তসলিমার গদ্যে সামান্যতম finesse নেই। ওনার কলম যেন ঘুষি মারে—আদর করে না। আমরা পাঁড় পাঠক। হাজার বছরের সাহিত্যের স্মৃতি বুকে রাখি। আমাদের সঙ্গে এসব তঞ্চকতা চলে ?
কিছু কিছু জায়গায় যে কয়েকটি আবাল mistake ঘটেছে, সেগুলি হলো:
ক) পুনরাবৃত্তি
খ) দুর্বল সংলাপ
গ) diaristic ভাষা
ঘ) বিরক্তিকর self-congratulation
এই বই লিখতে গিয়ে লেখিকা নিজেই প্রায় character হয়ে যান— যেমন বললেন, তেমনই সই। কোনো introspection, contradiction, vulnerability? Nah.
৫. গভীরতা না থাকলে সাহসও ফাঁপা লাগে: লেখিকা নিজেকে সাহসী ভাবেন, ঠিকই— কিন্তু সাহস তখনই মূল্যবান, যখন তার ভিত্তি থাকে বোধ, দার্শনিকতা, ও দৃষ্টিকোণ। "দ্বিখণ্ডিত" বইটাতে সেই গভীরতা খুবই কম।
It's like shouting in a room full of whispers and then claiming you're a prophet.
তাহলে শেষে কী বলার রইলো ? "দ্বিখণ্ডিত" একটা বালিশ—যার কভার feminist, কিন্তু ভিতরটা পুরনো তুলো।
বইটা স্রেফ Overrated নয়—this is a literary stunt !!
আরে তসলিমা দিদিভাই, লেখা মানে confession না, আর যে যত বেশি প্রেম করেছে, সে তত বড় লেখক—এই logic জিরো।
তসলিমা এখানে নিজেকে কেন্দ্র করে একটা বয়ান নির্মাণ করেন, যেখানে অন্য সব চরিত্র শুধু তার প্রতিপক্ষ বা পদলেহী।
তসলিমা-ভক্তরা এই লেখা পড়লে বলবে: "তুমি পিতৃতন্ত্রের দালাল!"
আমি বলি: "না আমি পাঠকের representative, আর আমি চোখে ঠুলি পরা নারীবাদী নই।"
আমি প্রীতম। চামুণ্ডার দক্ষিণহস্তে বাস আমার। আমি মিথ্যাচার করিনা।