বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে একমাত্র মুসলিম প্রধান দেশ যার সীমান্তে আর কোন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ নেই। এদেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের কিবলা পশ্চিমে, অথচ আপাতভাবে 'একই' ভাষা-সংস্কৃতি-ভৌগলিক ইতিহাস নিয়ে বেড়ে ওঠা অখণ্ড বাংলায় যতই কিবলার নিকটবর্তী হওয়া যায় (বা পূর্ববাংলা থেকে পশ্চিম বাংলার দিকে যাওয়া যায়) জনসংখ্যার অনুপাতে মুসলিমদের সংখ্যা ততই কমতে থাকে। নামযাদা সব মুসলিম শাসক, পীর আউলিয়া - এদের সংখ্যা, বিচরণ ও প্রভাব বলয় বাংলায় চেয়ে দিল্লীতেই তো বরং ছিল ব্যাপক সময় জুড়ে। এমনকি 'ইসলামী' স্থাপত্যকলা ও শিল্পের সর্বোচ্চ বিকাশও সেখানেই হয়েছে। আর্যাবর্তের বাইরে এই পাণ্ডববর্জিত পূর্ববঙ্গে তাহলে ইসলামের ব্যাপ্তির কারণ কি ছিল? কাদের হাত ধরে কবে কি উদ্দেশ্যে এখানে ইসলাম প্রসারের সূচনা? সেখান থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্ম হয়ে ওঠার পথটাই বা কেমন? এইসব বহুল আলোচিত কিন্তু বিতর্কিত প্রশ্নের জবাবকে ঘিরেই এ বইয়ের মূল আলোচনা। বিশেষত পূর্ব ও পশ্চিম বাংলায় কেন ইসলাম বিকাশের আলাদা পরিণতি দেখা গেল এটা নিয়ে লেখক নিজের কিছু পর্যবেক্ষণ দাঁড় করিয়েছেন।বাংলায় ইসলাম বিকাশের প্রচলিত 'অভিবাসন তত্ত্ব', 'পৃষ্ঠপোষকতা তত্ত্ব', ইসলামকে আগাগোঁড়া প্রতিক্রিয়াশীল ভাবা 'তরবারি তত্ত্ব' ও বহুল প্রচলিত 'ব্রাহ্মণ্য অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে' দলে দলে ইসলাম গ্রহণের 'সামাজিক মুক্তির তত্ত্বের' সীমাবদ্ধতা যেমন তিনি সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন তেমনি নিজের মতকেও যুক্তি দ্বারা সমৃদ্ধ করেছেন। মাঝে মাঝে একটু ছন্দপতন হয়তো আছে, তা বাদে বেশ চমৎকার একটি বই। এটি ঠিক কোন গবেষণা গ্রন্থ নয়, লেখক তেমন দাবীও করেননি, তবে পূর্ববাংলা তথা বাংলাদেশের মাটিতে ইসলাম-বিকাশের গতিপ্রকৃতি বোঝার জন্যে বেশ তথ্যবহুল একটা বই।