শিশুদের মন জগত একেবারে অন্যরকম, অনেক বেশী রঙ্গিন।শিশুদের পৃথিবী থাকে কল্পনায় ভরপুর। তারা তাদের চারপাশের সবকিছু নিজের মত কল্পনা করে নেয়।
ক্ষুদে তিমি শিকারি তেমন এক বই যার পাতায় পাতায় আসে শৈশবের হাতছানি। শিশুদের মন জগতের সুনিপুণ বর্ননা।এক ছোট্ট শিশু যে কল্পনায় উত্তাল সমুদ্রে ভেসে বেড়ায়, হারপুন দিয়ে শিকার করে বিশাল বিশাল তিমি। আছে তার আশেপাশে প্রকৃতির রুপ, ছেলেবেলার হায়িরে ফেলা ববন্ধুত্ব আবেগ। এমন হাজারো কল্পনা থাকে প্রতিটি শিশুর। একই সাথে আছে অনেক মজার মজার তথ্য। লেখকের অসাধারন লেখনীতে সবকিছু চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠেছে সাথে আছে দারুন উপমা প্রয়োগ।
বইটি মূলত ছোটদের হলেও বড়দের সমান ভালো লাগবে।পড়ার সময় এতটুকু বোর লাগবে না। মনে হবে সেই হারিয়ে যাওয়া শৈশবে আবার হেটে বেড়াচ্ছি। সেই স্বর্নালী দিন গুলোয় আবার ফিরে গেছি। কল্পনার জগতটাকে আরেকবার ছুয়ে আসতে পড়ে ফেলুন বইটি। অদ্ভুত ভালোলাগার বই। একই সাথে পড়তে যেমন ভালো লাগে তেমনি অনেক কিছু জানাও যায়।
১৭ বই মেলায় অনলাইন থেকে কয়েকটি বই কিনে ছিলাম। ক্ষুদে তিমি শিকারি সেই বই গুলোর একটি। বইটি পড়ে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। আসলে নতুন কিছু জানতে পারলে সবাই মুগ্ধ হয়। অনেক অনেক অজানা তথ্য জানতে পেরেছিলাম বইটি থেকে। এমন সব তথ্য যা আমার শিক্ষক মা-বাবা ও জানতেন না। আমি বইতে পড়া তথ্য গুলো তাদের জানাতে থাকলাম। নিজেকে কেমন শিক্ষক শিক্ষক লাগছিল। আমি ভাব নিয়ে বলতাম,'কে যে তোমাদের শিক্ষক করলো! কিছুই জাননা তোমারা আর দেখ আমি কত কিছু জানি।' আমার কাজিনদের বইতে পড়া গল্প গুলো আর তথ্য দিয়ে চমকে দিতে পেরেছিলাম। কত সহজ ভাবেই না লেখক শিখিয়ে ছিল মজার মজার সব গল্প, ইতিহাস আর কত কিছু। আজ একবছর পর মনে হলো প্রায় সব তথ্য যখন ভুলে গেছি তাই আবারও নিয়ে বসে পড়লাম মিলন গাঙ্গুলীর ক্ষুদে তিমি শিকার বইটি। কতকিছুই না জানতে পারলাম। তিমি শিকারিদের জীবনযাত্রা, তিমি নিয়ে মজার তথ্য, কোথা থেকে জন্ম হলো লেখার, মানুষের জন্ম হলো কেমন করে, কোকা-কোলা নিয়ে মজার সব তথ্য, কেমন করে এল ডাক টিকেট আরো অনেক অনেক কিছু জানতে পেরেছি মাত্র ৯৬ পৃষ্ঠার এই ছোট্ট বই থেকে। ক্লাস ৩-৫ বাচ্চাদের উপহার দেয়ার জন্য এর চেয়ে ভালো কোন বই হতেই পারে না। মুগ্ধতা। 
আমি যে শহরটাতে ছোট বেলায় থাকতাম সেটা ছিল ভারি নিঝুম এক শহর। তত বেশি দালানবাড়ি ছিল না। বেশ ফাঁকাফাঁকা। অনেক বেশি ঝোপঝাড় আর গাছপালা ভর্তি। আর ছিল দীঘল ঘাসে ভর্তি বিশাল এক মাঠ। তারপর ও শহরটা আমার পছন্দ হত না। কারন এখানে আপেল গাছ নেই। আর শীতকালে বরফ পরে না। আমাদের বাড়িতে সবুজ মোটা টিনের একটা তোরঙ্গ আছে। ওটার ভেতরে উলের জামা কাপড় রাখি আমরা। সাদা সুন্দর ঘ্রানওয়ালা ন্যাপথালিন দেয়া থাকে। শীত এলে মা বের করে দেয় । তখন গায়ে উলের জামা পরলে উম লাগে। তো সেই তোরঙ্গের ভেতরে দারুন কিছু বই আছে। রাশিয়ান লেখকদের লেখা। রাশিয়ান লেখকদের নাম গুলো কেমন যেন- ধস্তাধস্তি ,কুস্তাকুস্তি। বা আনাতল নিখলাই পাউরুটিভস্কি।বা মিলনজান্দার রাস্কিন। ওদের লেখা একটা বই পড়ে মনে মনে ঠিক করলাম বড় হয়ে তিমি শিকারী হবো। তারপর......?