শফিক পাখি হয়ে জন্মালে কী হতো? শফিকের জন্ম শহরে। আর শহুরে পাখি হচ্ছে কাক। তাহলে শফিক পাখি হলে কাক হয়েই জন্মাতো। দিনের আলো হচ্ছে কাকদের অফিস টাইম। কাকস্য জীবনে শফিকের ডিউটি শুরু হতো ভোর থেকে। ডিউটি মানে শহরের কোনো নোংরা ডাস্টবিনের দেয়ালে বসে বসে খাবার খোঁজা।
গাছের ডালে খড়কুটোর বাসায় শফিকের একটা বউও থাকতো।
খুব ভোরে শফিকের কাক বউটা একটা কম্বাচওড়া হাই তুলে বলত, "দ্যাখো, আমি আজ খাবার খুঁজতে পারবো না। আমার খুব মুরগীর পঁচা নাড়ি-ভুঁড়ি খেতে ইচ্ছে করছে। তুমি যেখান থেকে পারো নিয়ে এসো।"
শফিক মুখ শুকনো করে বাড়ি থেকে ডানা মেলে উড়াল দিতো।
এজি মাহমুদের কোন বই ইতিপূর্বে পড়া হয় নি, এবং তুলনামূলকভাবে নতুন হওয়াতে কি আশা করব নিশ্চিত ছিলাম না। বইটির সন্ধান বলতে গেলে ফেসবুকের একটি গ্রুপ থেকে পেয়েছি। দংশক বইটিতে কয়েকটা অতিপ্রাকৃতীক গল্প লেখা হয়েছে। প্রত্যেকটি গল্পই রোমাঞ্চকর এবং উপভোগ্য। আমার মতে সরীসৃপ, পরী ও নরক নন্দিনী গল্পগুলো সবচেয়ে ভালো লেগেছে। হয়তো সকল পাঠকের পছন্দ হবে না। অতিপ্রাকৃতীক গল্প সবার পছন্দ না হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবুও আশা করছি এই প্রকারের গল্প যারা পড়ে থাকেন তারা বইটিকে একবার সুযোগ দিবেন।