Jump to ratings and reviews
Rate this book

সাধারণ লোকের কাহিনী

Rate this book
দিনযাপনের তুচ্ছাতিতুচ্ছ ঘটনাক্রমের ধারায় বয়ে চলে যে সাধারণ জীবন তার আড়ালে থাকে জীবনের আরেক বড় সত্য। আপাত নিস্তরঙ্গ জীবন প্রশান্ত মহিমায় ধারণ করে দূর অতীতের তরঙ্গভঙ্গ উত্তালতা। আকস্মিক ঘটনাসূত্রে খুলে যাওয়া স্মৃতির ঝাঁপি সেই সত্যরূপের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয় উপন্যাসের পত্র-পাত্রীদের। ন্যায়-অন্যায়ের বিচার করাটা বুঝি ঔপন্যাসিকের দায়িত্ব নয়, তাঁর উদ্দিষ্ট সেই মানবিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে অনুভব করা, যেখানে আলোছায়ার খেলায় কতো-না বৈপরীত্যের টানাপোড়নে ক্ষতবিক্ষত প্রতিটি হৃদয়। এই বিদীর্ণ মানবাত্মার স্বরূপ-সন্ধানী লেখক রশীদ করীম, সাধারণ লোকের কাহিনী মেলে ধরেছেন আশ্চর্য পরিমিতিবোধ ও গভীর সংবেদনশীলতা নিয়ে এবং এভাবে পৌঁছে গেছেন বোধের সেই অতলে, যা স্পর্শ করা একজন শিল্পীর পক্ষেই কেবল সম্ভব। আমরা অনুভব করি অন্তরের গহিনে বহন করা অপূর্ণতার বেদনাবোধ নিয়ে পূর্ণতাসন্ধানী মানুষের অভিযাত্রা, ন্যায়-অন্যায়, সুখ-দুঃখের অতীত এক মানবিক ভূমিতে উপনীত হই এবং উপলব্ধি করি মানবসত্তার অপার মহিমা। রশীদ করীম, আমাদের অগ্রণী কথাসাহিত্যিক, সাধারণের মোড়কে এমন এক অসাধারণ জীবনোপলব্ধির কাহিনী উপহার দিয়েছেন, যা কেবল মহৎ লেখকেরাই পারেন।

136 pages, Hardcover

First published June 1, 1981

1 person is currently reading
14 people want to read

About the author

Rashid Karim

18 books17 followers
Rashid Karim was born in Kolkata, West Bengal in 1925. He did his BA from the Calcutta Islamia College (now Maulana Azad College), an affiliated college of the University of Calcutta. After the partition of the sub-continent in 1947, his family moved to Dhaka.

He began writing during the British period, continued during the Pakistan period but wrote his major novels during the Bangladesh period. It was in independent Bangladesh that his career as a writer reached its zenith. Rashid Karim penned his first story at the age of fourteen. So he began quite early. But his first story was published in 1942 in Mohammed Nasiruddin's Saogat. After that he did not write till 1961, when began the second phase of his writing career. His first novel Uttam Purush was published that year. It made him widely known and brought him the prestigious Adamjee Award. Two years later Prashanna Pashan instantly turned him into a major novelist of the Bengali language. Again he went into hibernation, this time for a decade. After the liberation of Bangladesh in 1971, he published his epic novel, Amar Jato Glani, in 1973. This novel helped his fame reach its peak. Till this period he was known as a gifted writer who wrote less but wrote very well. But from then on he wrote and published regularly. Prem Ekti Lal Golap was published in 1978.

Rashid Karim had battled paralysis for nineteen years before his death. He could not write a single word during that long period and died at Ibrahim Cardiac Centre in Dhaka on 26 November 2011.

Novelist Abu Rushd was his elder brother.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
1 (12%)
4 stars
7 (87%)
3 stars
0 (0%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 3 of 3 reviews
Profile Image for Rehan Farhad.
255 reviews14 followers
April 27, 2025
রশীদ করীমের ‘সাধারণ লোকের কাহিনী’ উপন্যাস শুরু হয়েছে মনসুর ও ফাতেমা দম্পতির বাসা বদলের ঘটনার মধ্য দিয়ে। বাড়িওয়ালা মিজান সাহেব বাড়িভাড়া বাড়াতে না পেরে পানি সংকট সৃষ্টি করে ভাড়াটিয়া দম্পতিকে বাধ্য করেন চলে যেতে। নতুন এলাকা, নতুন বাসার সাথে এবার নতুন বারান্দার দেখা পায় মনসুর। নতুন বারান্দা দিয়ে একজন সাধারণ মানুষের চোখে অসাধারণ সব ঘটনা দেখতে থাকে সে। গল্পকথক মনসুরের বয়ানে আমরা দেখতে পাই অনুন্নত, বৃক্ষশোভিত, বিস্তৃত অঞ্চলে একের পর এক নতুন বিল্ডিং উঠছে। নগরায়নের কারণে ধীরে ধীরে এলাকায় বসতি গড়ছে ডাক্তার, এডভোকেট, পুলিশ, ইঞ্জিনিয়ার—প্রায় সব পেশার মানুষ। শহুরে পরিবেশে বসে মনসুর ফিরে যায় তার শৈশবের স্মৃতি-বিজড়িত মেদিনীপুরে। সাদা-কালো সিনেমা-বায়োস্কোপের সেই যুগে ছোটরা ভয় পেলে চুপিচুপি বলত, ‘রাম-লক্ষণ সাথে আছে।’ শৈশবের স্মৃতি থেকে মনসুর ফিরে আসে তার বন্ধু ইউনুস ও তার স্ত্রী আসেমার সাথে খুলনায় কাটানো দিনগুলিতে। এরপরই আমরা জীবনের ছোট-বড় সব ঘটনার আড়ালে থাকা জীবনের আরেক বড় সত্য দেখতে পাই।

উপন্যাসের প্রথমভাগ কথক পঞ্চাশোর্ধ মনসুরের দৈনন্দিন জীবনযাপনের অতিসাধারণ ঘটনায় এগিয়েছে। একদিকে বর্তমানের মনসুরের চোখে সমাজের উঁচু-নিচু সব স্তরের মানুষের জীবনচিত্র ফুটে উঠে; অন্যদিকে অতীতের স্মৃতিচারণে বর্তমানের ক্রমাগত পরিবর্তন আমাদের সামনে ভাসতে থাকে। একটা সময়ে আমরা দেখতে পাই, একই মানুষের অতীত ও বর্তমানের বাস্তবতা দুটো ভিন্ন সমাজে মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে। সমাজের পরিবর্তন টিনের চাল থেকে শুধুমাত্র পাকা দালানে রূপ পেয়েছে। ভেতরের অন্তর্নিহিত মজ্জা একই রকম নাজুক, দুর্বল হয়ে আছে। সমাজের মতো স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ভিত্তিতেও পরিবর্তন আসছে। স্ত্রী ফাতেমার কাছে সরল স্বীকারোক্তি ‘অবিনশ্বর ভালবাসা বলে কোনো জিনিস নেই’ বলার মধ্য দিয়ে আমরা মনসুরের চোখে মানব জীবনের তিক্ততার কথা শুনতে পাই। ফাতেমা ও মনসুরের পরস্পরের প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসার মধ্যে অন্তর্দাহ হয়ে দাঁড়ায় সন্তানহীন সংসারজীবন। সময়ের সাথে মনসুর তার জীবনকে খোলা মনে মেনে নিলেও, নারী হয়ে ফাতেমা নিজেকে দোষী ভাবতে দ্বিধা করে না।

উপন্যাসের দ্বিতীয়ভাগে, প্রায় উনত্রিশ-ত্রিশ বছর আগে মনসুরের খুলনা জীবনের ঘটনাগুলো আমরা দেখতে পাই। কাঁচা পয়সার মালিক বন্ধু ইউনুসের সাথে ঘটনাক্রমে দেখা হয়ে তার বাসায় অতিথি হিসেবে থাকতে শুরু করে মনসুর। অসৎ, মদখোর, জুয়াড়ি, নারীলিপ্সু ইউনুসকে সহ্য করে তার সংসার আলোকিত করে রাখে স্ত্রী আসেমা। অসামান্য রূপসী আসেমার অপরিণত হৃদয় সামান্য একটু ভালবাসা পাবার জন্য ব্যাকুল হয়েও পায় না। উল্টো রবীন্দ্রসংগীত চর্চার কারণে আসেমাকে খাঁটি মুসলমান মনে করে না ইউনুস। অন্যদিকে দেখা যায়, ইউনুস হিন্দু ধর্মাবলম্বী খগেন মাস্টারের মেয়ে মালতির বিয়ের জন্য নিঃস্বার্থভাবে অর্থ সাহায্য দেয়। একই ব্যক্তির চরিত্রে দ্বিমুখিতা দেখে আসেমা, মনসুর সবাই অবাক হতে থাকে। তরুণী আসেমার অপরিণত বয়সের শুদ্ধতম প্রেম ও স্বামীভক্তি খুব কাছ থেকে দেখে মনসুর। পরিণত বয়সী ফাতেমা এবং তরুণী আসেমার মধ্যে আপাতদৃষ্টিতে কোনো বড়সড় মিল খুঁজে পাবেন না পাঠক। অথচ ভিন্ন নামের দুই নারীর ভালবাসা খুঁজে বেড়ানোর মধ্যে আশ্চর্য রকমের মিল পাওয়া যায়।

রশীদ করিম আধুনিক বাংলা উপন্যাসের অন্যতম রূপকার। লেখকের সংবেদনশীল ও পরিমিত গদ্যশৈলীতে কোথাও অতিরঞ্জন নেই। আবেগ আছে, অথচ সেই আবেগে বাহুল্য নেই। লেখকের প্রত্যেকটি বাক্যে ফুটে উঠেছে সমাজ ও দাম্পত্য জীবনের বাস্তবতা। রশীদ করিমের অনুপম গদ্যশৈলীতে খুব সাদামাটা কাহিনী একদম শেষ পৃষ্ঠায় গিয়ে অসাধারণ কাহিনীতে রূপ নিয়েছে। পঞ্চাশের দশক থেকে নব্বই দশকের সব ঘটনা বলার জন্য লেখক কৌশলে স্মৃতিচারণের আশ্রয় নিয়েছেন। অতীত ও বর্তমানে বারবার পালাবদলের মধ্য দিয়ে পাঠক হারিয়ে যাবেন সেই সময় ও সমাজের মধ্যে। মনসুরের চোখে সমাজের রূপান্তর শুধু ইট-বালু-সিমেন্টের নয়; মানুষের জীবনযাত্রা ও তাদের সম্পর্কেরও। মনসুর, ইউনুস, আসেমা, ফাতেমা চরিত্রগুলোর নির্মাণে লেখকের অসাধারণ দক্ষতা আপনাকে মুগ্ধ করবে। তাদের চরিত্রের মধ্য দিয়ে দেখতে পাবেন মানব চরিত্রের অদ্ভুত দ্বৈততা। ঘটনাসূত্রে খুলে যাওয়া স্মৃতিগুলো উপন্যাসের একদম শেষ মুহূর্তে চরম সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয় উপন্যাসের চরিত্রদের। এই সাংঘর্ষিক চরিত্রায়নের মধ্যেই ফুটে ওঠে বাস্তব জীবনের জটিলতা। বাস্তব জীবনে যে মানুষটা আমাদের ছেড়ে চলে যায়, তাকে বাদ দিয়ে আমরা বেঁচে থাকি। এরপরও আমাদের নিজস্ব একটা জীবন থাকে। কিন্তু সে থাকবার সময় যে জীবনটা ছিল, সে জীবন আমাদের কেউ ফিরিয়ে দিতে পারে না। একজন হৃদয়বান, স্পর্শকাতর লোকের সুখ-দুঃখ নির্ভর করে সারা দুনিয়ার অভিঘাতের ওপর। রশীদ করীম যে মনস্তাত্ত্বিক অন্তর্দৃষ্টি নিয়ে উপন্যাসটি রচনা করেছেন, নিঃসন্দেহে তা কালজয়ী। সাধারণ এক ব্যক্তিকে কেন্দ্রে রেখে একটি জীবনদর্শন তুলে ধরেছেন, যা আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত ঘটে চলা মানুষের ভেতরকার ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ের মাঝে লুকিয়ে থাকা এক অসাধারণ জীবনোপলব্ধির কাহিনী বলতে থাকে। আমাদের সবার জীবনের আড়ালে আরেক বড় সত্য লুকিয়ে থাকে, যা আমরা অকাতরে গোপন রাখতেই পছন্দ করি।

🖍️২০ এপ্রিল, ২০২৫
Profile Image for Arifur Rahman Nayeem.
210 reviews108 followers
April 25, 2023
সাধারণ লোকের এক অসাধারণ কাহিনী এটি! শুরু এবং বেশ কিছুদূর চলছিলও খুবই সাধারণ কাহিনী হিসেবে। এরপর গল্প মোড় নেয় ভিন্ন দিকে। আর শেষটা চমকে দেওয়ার মতো। উপন্যাসের শেষটুকুর জন্যই বিশেষত ‘অসাধারণ’ অভিধা দেওয়া।

আফসোস কি বাত, গুণেমানে সমান উৎকৃষ্টতা সত্ত্বেও ‘উত্তম পুরুষ’-এর আড়ালেই থাকতে হলো (বা আমরা পাঠকরাই আড়াল হতে বের করে আনিনি) রশীদ করীমের আরও কিছু দারুণ উপন্যাসকে। যার একটি ‘সাধারণ লোকের কাহিনী’।
Displaying 1 - 3 of 3 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.