ছোটদের প্রিয় অনলাইন পত্রিকা “জয়ঢাক”-এর পক্ষ থেকে আয়োজিত গল্প-প্রতিযোগিতায় প্রথম দশটি স্থানাধিকারী ১৩টি গল্পের সংকলন এই বইটি প্রচুর উৎসাহ নিয়ে পড়া শুরু করেছিলাম ঠিকই, কিন্তু কয়েকটা গল্প ছাড়া বাকিগুলো আমায় বেশ হতাশ করল| এমনিতে বইটা চমৎকার দেখতে| প্রচ্ছদ এক ও অদ্বিতীয় শিবশংকর ভট্টাচার্যর, অলংকরণ এই সময়ের অন্যতম প্রতিভাবান আঁকিয়ে শ্রী শাম্বের, হযবরল ওরফে সৃষ্টিসুখের প্রকাশনা-মাণও বেশ ভালো| কিন্তু দুটো জিনিস খুব বেশি করে চোখে লাগে: (১) লেখকের নাম স্রেফ সুচিপত্রে আছে, গল্পের সঙ্গে নেই; (২) কোন লেখক-পরিচিতি নেই, ঠিকানা না থাকলেও তাঁদের ই-মেইল এড্রেসটি পেলে পাঠকের পক্ষে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করাটা সহজ হত| এবার আসি গল্পের কথায়| ১. অনিরুদ্ধ সেনের “পেঁচোর সাত-সতেরো”: প্রথম স্থান পাওয়া এই গল্পটা আমার বেশ ভালো লেগেছে, কারণ এতে শুধু জ্ঞান না দিয়ে বরং বুদ্ধির গোড়ায় ধোঁয়া দেওয়া হয়েছে| (৪/৫) ২. প্রকল্প ভট্টাচার্যর “পালিয়ে”: গল্পটা বেশ ভালো ভাবে শুরু হয়েও শেষে যেভাবে নীতিকথা হয়ে গেল, সেটা হতাশাদায়ক| প্রকল্পের ঝকঝকে গদ্যের সঙ্গে ফেসবুক মারফৎ আমরা পরিচিত, তাই তাঁর কাছ থেকে একটা আধুনিক গল্প আশা করেছিলাম, কিন্তু হায়! (১/৫) ৩. পুষ্পেন মন্ডলের “বাউটম্যানের বাংলো”: একই গল্পে ইতিহাস, কল্পবিজ্ঞান আর রহস্য মেশান চাট্টিখানি কথা নয়, কিন্তু সেই কাজটা লেখক বেশ ভালো ভাবেই করেছেন| (৩/৫) ৪. রঞ্জন রায়ের “ঐরাবত ঐ আসছে তেড়ে”: ধুর, স্রেফ নীতিকথা আর জ্ঞান| (০/৫) ৫. সত্যজিৎ দাশগুপ্তর “ক্লাইম্যাক্স”: সলিড! সত্যজিৎ রায়ের অমর সৃষ্টি তারিনীখুড়োর ঘরানায় এমন আরো কিছু গল্পের আশায় রইলাম| (৫/৫) ৬. পিয়ালী চক্রবর্তীর “ডাকাবুকো ডুগডুগি”: বেশ ভালো গল্প, যেটা নবনীতা দেবসেন আর দীপান্বিতা রায়ের গল্পের কথা মনে করিয়ে দেয়| (৪/৫) ৭. শংকর সেনের “রূপকথা”: ধুর! তেনালি রামা থেকে ঝেড়ে দেওয়া নীতিকথা কী করে প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পায়, আমার সত্যিই বোধগম্য হয় না| (১/৫) ৮. অদিতি সরকারের “ভয়”: খুব সহজ কথা দিয়ে একের পর এক চিত্রকল্প বানিয়ে লীলা মজুমদারের ঘরানার একটা টানটান গল্প আমরা পেলাম, তবে একটা রহস্য গল্প পেলে আরও খুশি হতাম| (৩/৫) ৯. অপর্ণা গাঙ্গুলির “কেজো ভূতের গল্প”: রাবিশ| (০/৫) ১০. মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্যর “ভূত জোলাকিয়া”: বেশ মজার গল্প, তবে এক অনুচ্ছেদের একটা জোক-কে নিয়ে গল্প বানালে সেটা একবারের পর আর পড়া যায়না| (৩/৫) ১১. মৌমিতা-র “রাপ্পা ও একটি তারা”: এই গল্প আজকের ছোটরা পড়বে, এমনটা আমি বিশ্বাসই করতে পারছিনা, তাই গল্পের গুণমাণ বা সেটির পুরস্কার-পাওয়ার ভিত্তি নিয়ে মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন| (১/৫) ১২. দোয়েল বন্দোপাধ্যায়-এর “সলিউশন এক্স”: আমার অত্যন্ত প্রিয় এই লেখিকার লেখা বেশ কিছু গল্পের মধ্যে এটি কোনমতেই ওপরের দিকে থাকবে না, সে যতই না লীলা মজুমদারের ঘরানায় গল্পটা লেখা হোক| তবু, নিখাঁদ মজার গল্প এই গল্পগুচ্ছে একটিই, এবং তেমন গল্প লেখার জন্যে লেখিকাকে আন্তরিক ধন্যবাদ দিই| (৪/৫) ১৩. রাখী নাথকর্মকার-এর “হারানো সুর পথের বাঁকে”: গল্পের ছলে আবার জ্ঞান! ক্লাস ওয়ান বা টু-র খোকাখুকুও এই গল্পে আকৃষ্ট হবে বলে মনে হয়না, অথচ .......! (১/৫)
তাহলে শেষ অবধি কী দাঁড়াল? ১৩টা গল্প মোট ৩০ পয়েন্ট পেয়েছে, অর্থাৎ গড়ে ২.৩ পয়েন্ট| কাজেই টু-স্টার দিয়েই ইতি টানলাম|