মেঘলীনা"র কাহিনী চিত্রকর নীলের। একটি ‘মাস্টারপিস’ আঁকবার স্বপ্ন নিয়ে যার অর্হনিশ ফেরারী জীবন যাপন। জীবন বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দুতে যার কেবল আর কেবল একটি মাস্টারপিস। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন, আপনজন থেকে ভীষণ দূরত্বে উশৃঙ্খলতার অন্ধকারে নিজেকে সর্মপন করা এক পুরুষ নীল আহসান।
এই গল্প এক কুহকিনীরও, নিজেকে তিলে তিলে নিঃশেষ করে ভালোবাসার পুরুষটিকে যে আগলে রাখে পরম মমতায় । সমাজ ব্যবস্থার কর্দয নিয়মগুলো যাকে পর করে দিয়েছে আপন জীবন থেকেই। অন্ধকারের আবরণে আগাগোড়া ঢাকা যার অস্তিত্বের ছায়া ।
সৃষ্টিশীল মানুষের দ্বিবিধ জীবন যাপনের এই কাহিনী এটি। গল্প নিজেকে ভালোবাসার, আবার নিজেকেই ঘৃনা করবার। নতুন করে আপন স্বত্তাকে আবিষ্কার করতে গিয়ে ভেঙেচুড়ে নিজেই নিঃশেষ হবার গল্প।
গল্পটা বয়সে তরুণ অনিন্দ্য সুন্দর এক চিত্রশিল্পীর, নীল আহসান যার নাম। আপাত বেকার এই শিল্পীকে মাঝেমধ্যেই ফরমায়েশি ছবি আঁকতে হয় 'পেটপূজো' চালাতে। আছে এক অপরূপ সুন্দরী প্রেমিকাও, যাকে খুব শিগগির বিয়ে করার স্বপ্নও দেখে নীল। পাশাপাশি তার শিল্পী মনও স্বপ্ন দেখে মাস্টারপিস এক চিত্র আঁকার। যুগ যুগ ধরে যা সমাদৃত হবে মানুষের উচ্ছ্বাসের মাঝে। ভালোবাসায় পরিতৃপ্ত এক নারীর আলুথালু বেশের চিত্র। জীবন্ত সেই মুহূর্তকে নীল আরও বেশি জীবন্ত করে তুলতে চায় রং আর তুলির আঁচড়ে....
গল্পটা মেঘলীনারও, একহারা গঠনের শ্যামবর্ণের এক তরুণী, মাথাভর্তি দীঘল কালো চুল আর দীর্ঘ আঁখিপল্লব যাকে করে তুলেছে স্নিগ্ধ, মোহনীয়। মেঘলীনার মদ্যপ স্বামী আছে, সংসারও আছে, তবে তা শুধু নামেই, সেখানে কোনো ভালোবাসা নেই।
গল্পের শুরু কিন্তু ঠিক এভাবে নয়....শুরুটা হয়েছিলো আরও আট বছর আগে। একজোড়া কিশোর-কিশোরী হাত জড়াজড়ি করে পালিয়ে এসেছিল ভালোবাসার টানে, যার যার আপনজনকে ছেড়ে। কিশোরের চোখে তখন বড়মাপের শিল্পী হওয়ার তীব্র বাসনা। আর কিশোরী সেই বাসনাকেই বাস্তবে রূপ দিচ্ছিলো একটু একটু করে। নীল আর মেঘলীনা...জীবনে প্রথম ভালোলাগার, ভালোবাসার সবটুকু নির্যাস উজাড় করে দিয়েছিল একে অপরকে.... তবে বাস্তব আজ এতো নিষ্ঠুর কেনো? দুজনার একপথ কার খেয়ালে বিভক্ত হয়ে গেলো চিরতরে? আর নীলের বহুকালের সেই লালিত স্বপ্ন, কিভাবে বাস্তবরূপ পাবে মেঘলীনাকে ছাড়া? নীল হয়তো জানে না, তবে মেঘলীনা জানে....কিভাবে বিলীন হয়ে যেতে হয় ভালোবাসা নামক মেঘের মাঝে....
'মেঘলীনা' গল্পকথক রুমানা বৈশাখী আপুর দ্বিতীয় উপন্যাস। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাকে হরর লেখিকা হিসেবেই জানতাম। তার এতো দারুণ আবেগী লেখা পড়ে সত্যি চমকিত হয়েছি। সাথে একটা অভিযোগও আছে, এই 'নীল আহসান'কে আমার একটুও ভালো লাগেনি, বোকার হদ্দ একটা আর অনেক অনেক স্বার্থপর। -_- ওর কথা বাদ, বাস্তবে মেঘলীনা অনেক অনেক ভালো থাকুক, এই দোয়াই করি।