Jump to ratings and reviews
Rate this book

যে দেশে মানুষ বড়

Rate this book

142 pages, Hardcover

First published January 1, 1968

4 people are currently reading
97 people want to read

About the author

Jasim Uddin

56 books86 followers
Jasimuddin (Bangla: জসীম উদদীন; full name: Jasimuddin Mollah) was a Bengali poet, songwriter, prose writer, folklore collector and radio personality. He is commonly known in Bangladesh as Polli Kobi (The Rural Poet), for his faithful rendition of Bengali folklore in his works.

He obtained his BA degree in Bengali from the University of Calcutta in 1929 and his MA in 1931. From 1931 to 1937, Jasimuddin worked with Dinesh Chandra Sen as a collector of folk literature. Jasimuddin is one of the compilers of Purbo-Bongo Gitika (Ballads of East Bengal). He collected more than 10,000 folk songs, some of which has been included in his song compilations Jari Gaan and Murshida Gaan. He also wrote voluminously on the interpretation and philosophy of Bengali folklore.

Jasimuddin started writing poems at an early age. As a college student, he wrote the celebrated poem Kabar (The Grave), a very simple tone to obtain family-religion and tragedy. The poem was placed in the entrance Bengali textbook while he was still a student of Calcutta University.

Jasimuddin is noted for his depiction of rural life and nature from the viewpoint of rural people. This had earned him fame as Polli Kobi (the rural poet). The structure and content of his poetry bears a strong flavor of Bengal folklore. His Nokshi Kanthar Maath (Field of the Embroidered Quilt) is considered a masterpiece and has been translated into many different languages.

Jasimuddin also composed numerous songs in the tradition of rural Bengal. His collaboration[4] with Abbas Uddin, the most popular folk singer of Bengal, produced some of the gems of Bengali folk music, especially of Bhatiali genre. Jasimuddin also wrote some modern songs for the radio. He was influenced by his neighbor, poet Golam Mostofa, to write Islamic songs too. Later, during the liberation war of Bangladesh, he wrote some patriotic songs.

Jasimuddin died on 13 March 1976 and was buried near his ancestral home at Gobindapur, Faridpur. A fortnightly festival known as Jasim Mela is observed at Gobindapur each year in January commemorating the birthday of Jasimuddin. A residential hall of the University of Dhaka bears his name.

He was honored with President's Award for Pride of Performance, Pakistan (1958), DLitt. by Rabindra Bharati University, India (1969) Ekushey Padak, Bangladesh (1976), Independence Day Award (1978).

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
8 (20%)
4 stars
12 (30%)
3 stars
18 (45%)
2 stars
1 (2%)
1 star
1 (2%)
Displaying 1 - 9 of 9 reviews
Profile Image for Onu Tareq.
29 reviews210 followers
Read
July 18, 2022
সোভিয়েত ইউনিয়ন ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিয়ে পল্লীকবি জসীম উদদীনের ভ্রমণ কাহিনী ‘যে দেশে মানুষ বড়’ প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে। সত্যি বলতে সেই সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নে সরকারি ভাবে যাওয়া হাজার হাজার বিদেশি অতিথির চেয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা খুব একটা আলাদা নয়, সোভিয়েত সমাজ ব্যবস্থার জয়গান করানোই ছিল হয়তো সেই সমস্ত দাওয়াত করে নিয়ে যাওয়ার অন্যতম মুখ্য উদ্দেশ্য। কবি শুধু মস্কো নয়, সোভিয়েত ইউনিয়নের সদস্য উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দ ও ঐতিহাসিক সমরখন্দ, সেই সাথে তাজিকিস্তান ভ্রমণ করেন। সেই হিসেবে তাঁর ভ্রমণ কাহিনীর অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য মূল্যবান, কারণে খুব কম বাংলাদেশের লেখকই ঐ অঞ্চলগুলোতে যাবার সুযোগ পেয়েছিলেন।

বইয়ের শুরুতেই, রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ নেবার ক্ষেত্রেও কবি বেশ দৃঢ় ভাবে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিজের পছন্দের কথা জানিয়েছেন তাঁর রুশ বন্ধুকে, “ আমাকে যদি নিমন্ত্রণ করেন তবে আমাই একলাই যাহাতে আপনাদের দেশে যাইতে পারি সেই ব্যবস্থা করিবেন। দলবদ্ধ হইয়া গেলে আমি আমার সফর ভালভাবে উপভোগ করিতে পারিব না। ইতিপূর্বে দলবদ্ধভাবে বিদেশে ভ্রমণ করিয়া আমি কিছুই ভালোমতো দেখিতে পারি নাই। আমি হয়ত কোথাও কিছু ভালোমতো দেখিবার জন্য অপেক্ষা করিতে চাহিয়াছি, বন্ধুরা আমাকে টানিয়া অন্যত্র লইয়া গিয়াছেন। তাছাড়া দলবদ্ধ ভ্রমণ পূর্ব হইতেই নির্দিষ্ট রুটিন অনুসারে নিয়ন্ত্রিত হয়। আমি চাই আপনার দেশে আমি যেন যেখানে খুশী যাইতে পারি।“

সে এক গেরো, বাঙালিরা সেই সময়েও এবং এখনো অধিকাংশই ঝাঁকের কই হয়ে ভ্রমণের নামে চেক-ইন দিতেই পছন্দ করে থাকেন, দলবদ্ধ যাবার সামান্য সুবিধা থাকলেও ভ্রমণসঙ্গী মনের সঙ্গী না হলে শেষ পর্যন্ত আখেরে খুব একটা স্মৃতি জমা হয় না, ক্রশ চেক দেবার মত কিছু কিছু জায়গা কেবল কোনমতে যাওয়াটায় সম্পন্ন হয় শুধু।

যাত্রার শুরু হলো মহানগরী মস্কো থেকে, সেখানের নানা স্থান বিশেষ করে বলশেভিক বিপ্লবের কেন্দ্রগুলো ঘুরে কবি বিখ্যাত জাদুঘর হেরমেতাশের ( এককালে জারের প্রাসাদ , এখন বিশ্বসেরা জাদুঘরগুলোর একটি) আসেন এশীয় সংস্কৃতি কেন্দ্র দেখতে।
এখানে কবির সাথে সেখানে বাংলা ব্যকরণ নিয়ে গবেষণারত রুশিদের দীর্ঘ আড্ডা হয়, এবং সেই সময়ের বাংলা সাহিত্য ও পূর্ববর্তী ইতিহাস নিয়ে তথ্যবহুল সব ঘটনা উঠে আসে বিশেষ করে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে পূর্ব-বাংলায় বাংলা ভাষায় সাহিত্য কোন দিকে যাচ্ছে, কারা কারা কাণ্ডারির ভূমিকা পালন করছেন, কয় ধরনের ধারার জন্ম হয়েছে এই নতুন দেশে, উর্দুফার্সি ঘেঁষা ফররুখ আহমদ ঘরানার কবিদের দাপট কেমন আবার শহীদুল্লাহ কায়সারের লেখনী কতটা প্রভাবশালী, সেই সময়ের সামান্য আলাপ আজকের জন্য সেইকালের দর্পণ এখনের পাঠকের জন্য।

নানা জায়গায় অতিথি হিসেবে ঘোরার সাথে সাথে কবি শিশুদের স্কুল পরিদর্শন করেন, নিজের লেখা কবিতার বাংলার জীবন ও নিসর্গ সেই রুশিদের কাছে তুলে ধরেন, সেই সাথে সোভিয়েত শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে লিখেন,

“ আমাদের দেশে যেমন শিশুরা ইতিহাসের ক্লাসে বাবা আদমের কাহিনী হইতে মানুষের জন্মান্তরের ঘটনা শিখিতে আরম্ভ করে, আবার বিজ্ঞানের ক্লাসে যাইয়া ইভোলিউশনের থিউরী শিখিয়া দুই বিপরীত ঘটনা লইয়া মুশকিলে পড়ে, এদেশের শিক্ষায় তেমন হইতে পারে না। বিজ্ঞানের গবেষণা-যন্ত্রে যে তথ্য টেকে না তাহা সোভিয়েত দেশ বিশ্বাস করে না। ছাত্রদিগকে তাহা শিক্ষা দেওয়া হয় না। “

অসীম কৌতূহল থেকে কবি যেমন সোভিয়েত কৃষকের বাড়ি গেছিলেন, সেখানে যন্ত্রকৌশল দেখে মুগ্ধ হয়েছেন তেমনই আবার বর্ণনা করেছেন মস্কোর বলনাচের। বোঝা যাচ্ছে উনি একেবারেই যেখানে ইচ্ছে সেখানে না যেতে পারলেও নানা বৈচিত্র আনার চেষ্টা করেছেন বিভিন্ন আব্দারে নানা জায়গায় যেতে।

এরপর পল্লীকবি পাড়ি দেন তাসখন্দ ( বর্তমান উজবেকিস্তানের রাজধানী) । মাত্র ক’মাস আগে তাসখন্দে ভ্রমণ অভিজ্ঞতা যেমন হয়েছিল, কবি সাহেবের সেই ৫০ বছর আগের ভ্রমণ অভিজ্ঞতায় খুব ফারাক নেই, সেই একই চরসু বাজার যেখানে শৈল্পিক ভাবেই সব পণ্য থরে থরে সাজানো, একই স্থাপত্য, নিরাপদ সুন্দর পরিবেশ। কবি অবশ্য বেহস তাড়াহুড়ো করে সব জায়গার বর্ণনা দিয়ে গেছেন অনেকটা ধারাবর্ণনা মতো। পরে তিনি সমরখন্দে যান, এবং সম্রাট তৈমুরের সমাধিতে চালানো খননকাজ ও গবেষণা নিয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করেন,
“ কয়েক বৎসর আগে এই কবরগুলি খুঁড়িয়া তাহার ভিতরে মাথার খুলি এবং আর যাহা কিছু বাহির করিয়া লওয়া হইয়াছে। আমাদের দেশে হইলে এই কবর খোঁড়া লইয়া কত আন্দোলন হইত কিন্তু এখানে ইহা লইয়া কেহ কোনই উচ্চবাচ্য করে নাই।“

সেই সাথে সোভিয়েত দেশে লেখকদের সমাধি কিভাবে সংরক্ষিত থাকে এই দেখে নিজের দেশের কবিদের কবরের কথা স্মরণ করে বেশ হতাশাও ব্যক্ত করেছিলেন।

পরে কবি তাজিকিস্তান ঘুরে আসেন স্বল্প সময়ের জন্য, এবং সেখানে এক ড্যাম নির্মাণের জন্য স্থানীয় অধিবাসীদের জন্য সরকার যে সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন সেটার সাথে বাংলাদেশের কাপ্তাইয়ের কথা মনে করে বেশ ক্ষোভ উদগীরন করেন,
“ এই প্রসঙ্গে আমাদের কর্ণফুলী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কথা মনে পড়ল। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করিতে কত শত শত আদিবাসী চাকমাদিগকে গৃহহারাম সম্পত্তিহারা করা হইয়াছে। যে মাটিতে তাহারা বাপদাদার আমল হইতে বসবাস করিত,যে গাছটির তলার তাহার শ্রান্ত হইয়া বসিত, বৃদ্ধদের কাছে পুরান কালের কাহিনী শুনিত, সেই মাটি ছাড়িয়া আসা কি কম বেদনাদায়ক। তাহাদিগকে যে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হইয়াছে তাহাই কি সেই বেদনার ক্ষতিপূরক? কে বলিবে যে কর্ণফুলীর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রয়োজন ছিল না? প্রয়োজন ছিল, সহস্রবার বলিব যে প্রয়োজন ছিল, কিন্তু এই পরিকল্পনার সময় কতৃপক্ষ কি চাকমাদের জীবিকার জন্য অপর কোন বিকল্প ব্যবস্থা করিয়াছিলেন?”

তবে বইটি ১৯৬৮ সালে ছাপা বলে কিনা জানি না, সেখানে আবার এক লাইন জুড়ে দিয়েছেন আইয়ুব খান সম্পর্কে, ‘ আমাদের প্রেসিডেন্ট আয়ুব খাঁকে যেভাবেই সমালোচনা করুন না কেন, তাঁর হৃদয়টি পরের দুঃখে সমবেদনায় ভরা।‘

এরপর কবি লেলিনগ্রাদে ( বর্তমান ও অতীতের সেন্ট পিটার্সবার্গ) একটি দুধের খামার ভ্রমণ করেন, এবং সোভিয়েত কৃষি ও যন্ত্র একসাথে কিভাবে এগোচ্ছে সেটা দেখে বেশ মুগ্ধতা জ্ঞাপন করেন। এর ক’দিন পর বেশ অসুস্থ হয়ে উনি হাসপাতালে ভর্তি হন, ফলে সোভিয়েত আমলের হাসপাতাল সেবা নিজের অভিজ্ঞতায় দেখার সুযোগ পান, যা এক হিসেবে বিরল অভিজ্ঞতা।

পুরো বইতেই কবি সাহেব রুশী নারীদের নিয়ে একটাই শব্দ বারংবার ব্যবহার করে গেছেন ‘ সুন্দরী’, এবং যার যার সাথেই পরিচিত হয়েছেন সকলকেই বলেছেন যে ‘ তুমি ভীষণ সুন্দরী, এবং পরিচিত শ্বেতলানা নামের রুশী তাকে ভৎসনা করে বলেছিল “ মেয়েদের সৌন্দর্য পুরুষের মনোহরণের জন্যই নাকি?”
উনার এই বিশেষণ একাধিক ভ্রমণকাহিনীতেও দেখা গেছে যা বেশ শ্রুতিকটু, আবার একই সাথে উনি নিজের ক্ষেত্রে সৎ ছিলেন বোঝা যায়, নাহলে বারবার এই কথা লিখতেন না।

শেষ দিনগুলো বর্ণনা নানা বল নাচ ও নাটকের বর্ণনা এবং শিক্ষা বিভাগের নানা অভিজ্ঞতায় পূর্ণ, বইয়ের একেবারে শেষ লাইনটি ছিল, “ বিদায় সোভিয়েতভূমি বিদা! রূপে ঐশ্বর্যে আদর্শবাদে তুমি সকল দেশের অনুকরণযোগ্য।“

১৯৬৮ সালে প্রথম প্রকাশ হলেও বইটি এখন নিয়মিত প্রকাশ করে পলাশ প্রকাশনী, দাম ২০০ টাকা ( সাদা পৃষ্ঠা) আর নিউজপ্রিন্টে ১০০ টাকা।

মুশকিল হচ্ছে এই বই পড়ে সোভিয়েত ব্যবস্থার বিশাল সব ফাঁকফোকর কিছুই ধরা পড়ে না, কবি যখন মস্কো গেছিলেন তখন ক্রুশ্চেভ জমানা পার হয়ে ব্রেজনেভের আমল চলছে, এবং আগের শাসকের একতরফা সমালোচনা করার যে একঘেয়ে রীতি চালু ছিল সোভিয়েত ব্যবস্থার তারও ছিটেফোঁটা পাওয়া যায় না। সেই সাথে প্রান্তিক মানুষের জনসংযোগ নাই, আবার ধরা যেতে পারে যে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় গেছিলেন বলে বেছে বেছে অল্প কিছু মানুষের সঙ্গেই তাকে মিশতে দেওয়া হয়েছিল। তারপরও কবিরা যে ভবিষ্যৎদ্রষ্টা হন বলে আমরা জানি, সেই বিশেষণের প্রতি কোন সুনাম পল্লীকবি এই বইতে করতে পারেন নাই। ‘যে দেশে মানুষ বড়’ বলে যে আদর্শের স্বপ্ন তিনি আঁকার চেষ্টা করছিলেন, এবং যে দেশের সকল মানুষ সমান হবার কথা ছিল, অল্প কয় দশকে সে দেশে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী ভুঁইফোঁড় বিলিওনিয়াররা দেখা দিল এবং সেই দেশকে মানুষ চিনলই কেবল দুর্নীতির জন্য- এই বিষয়টা ভাবার অবকাশ আছে। ভ্রমণকাহিনী তো আর শুধু রোজনামচা নয়, কালের, সমাজের দর্পণও।
Profile Image for Harun Ahmed.
1,667 reviews427 followers
April 14, 2024
জসীম উদদীনের মুগ্ধ হওয়ার প্রতিভায় এবার কিঞ্চিৎ সন্দেহ প্রকাশ করতেই হোলো।  কোনোকিছুর বাহ্যিক রূপ দেখে তাকে চিরন্তন ধরে নিয়ে বিশদ গুণকীর্তন করা যেমন তার কবিতায় লক্ষ্য করা যায়,গদ্যলেখাগুলোতেও সেই একই অবস্থা। গঠনমূলক সমালোচনা করা বা ভেতরে উঁকি দেওয়ার স্বভাব এ বইতেও নেই। আমরা এখন জানি, জসীম উদদীন যখন সোভিয়েত ইউনিয়ন গেছেন তখন ভেতরে ভেতরে এর স্বৈরতান্ত্রিক চেহারা দানবের আকার নিয়েছিলো ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রচণ্ডভাবে খর্ব হচ্ছিলো। কিন্তু সেই রুগ্ন দশার খবর যথারীতি এখানে নেই। প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের প্রতি লেখকের সীমাহীন শ্রদ্ধা লক্ষ্য করা যায়, যা রীতিমতো দৃষ্টিকটু (সরকারি খরচে গেছেন বলেই সম্ভবত।)
এছাড়া "হলদে পরীর দেশে"র মতো এখানেও অল্পবয়সী সুন্দরী রমণীর সাথে পরিচয় ও তার সাথে নির্দোষ রোমান্সের বিষয়টা দুই বইতে প্রায় হুবহু এক। আমি নির্দ্বিধায় কোনো একটার সত্যিকার অস্তিত্ব সম্বন্ধে সন্দেহ প্রকাশ করছি। কিছু বিষয়ে জসীম উদদীনের প্রগতিশীল মনোভাবের পরিচয় পেয়ে এবারও খুশি ও বিস্মিত হয়েছি।
Profile Image for Shadin Pranto.
1,478 reviews561 followers
October 13, 2019
সালটা ১৯৬৭,জসীম উদদীন একমাসের অধিক সময়ের জন্য গেলেন সোভিয়েত ইউনিয়নে। লেখকের ভাষায়,"আমার খুব বড় স্বপ্ন ছিল একবার সোভিয়েত দেশে যাইব।"

সোভিয়েত ইউনিয়নে গিয়ে জসীম উদদীন প্রথমে কিঞ্চিত বিড়ম্বনায় পড়েন।কেননা সেদেশের লোকেরা সেভাবে ইংরেজি জানেন না আর কবি জানেন না রুশ ভাষা। একজন দোভাষী জোগাড় হল।লেখক এবার বেরিয়ে পড়লেন সোভিয়েত দর্শনে।

প্রথমেই তিনি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ১৮৩৫ সালে নির্মিত রাশিয়ার বিশাল ঘড়ি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। সাংবাদিকের সাথে কথা প্রসঙ্গে বেশ খোলাখুলি বলেন তিনি ইসলামিমনা সাহিত্যের পক্ষপাতী।

জসীম উদদীন সোভিয়েটের নানা দর্শনীয় স্থান ঘুরে ঘুরে দেখেন। শিক্ষাব্যবস্থার তুলনামূলক আলোচনা করেন। কৃষিক্ষেত্রে সাফল্য দেখে উৎসাহিত হন। তৈমুর লঙের স্ত্রী কর্তৃক নির্মিত মসজিদ ভ্রমণের সময় সেই মসজিদ নিয়ে প্রচলিত কাহিনীকে চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছেন।

রুশি লেখকসংঘের কথা বিস্তারিতভাবে এসেছে।সমবায় খামার আর জলবিদ্যুৎকেন্দ্র দেখে বারবার স্মরণ করেছেন তার দুঃখী জন্মভূমির কথা।থিয়েটারে গিয়ে মুগ্ধতার সাথে উপভোগ করেছেন নাটক। শোষণহীন সমাজব্যবস্থার প্রতি অকুন্ঠ প্রশংসা করতে গিয়ে খুঁজে বেরিয়েছেন কেন তাঁর বাংলায় এমন সমাজ গড়া সম্ভব নয়। আর সেই সাথে তার কবিতা তো ছিল বোনাস।

সাতলানা, এই মেয়েটির নাম উল্লেখ না করলেই নয়। কবির দোভাষী মেয়েটি রুশ সমাজে মেয়েরা কতোটুকু স্বাধীনতা ভোগ করে তার একটা ধারণা পেয়েছেন আর কবির একটি আলাদা টানই ছিল প্রাণচ্ছল সাতলানার প্রতি।

৪ তারকা দেয়ার কারণ-

ভ্রমণকাহিনীর একটি সাধারণ সমস্যা আছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লেখক যেখানে ঘুরতে যান সেখানকার সবকিছুই সুপারহিট মনে হয় তার কাছে, পদে পদে তুলনাকরে বসেন স্বদেশের সাথে। তুলনা নিয়ে সমস্যা নেই, সমস্যা হচ্ছে লেখকের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার যথাযথ ব্যবহার না করায় তিনি শুধু একপাক্ষিক দেখেন যা অনেকটা অর্ধসত্যের মত। জসীম উদদীনের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে পল্লীর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসাওয়ালা এই মানুষটি সহজ-সরল দৃষ্টিতে সবকিছু দেখেছেন তাই পড়তে গিয়ে মনে হয়েছে সোভিয়েতের পুরোটা বুঝি লেখকের বোঝা হল না আর পাঠক রইল বঞ্চিত।
Profile Image for প্রিয়াক্ষী ঘোষ.
364 reviews34 followers
November 25, 2023
পল্লীকবি জসীম উদদীনের ভ্রমণ কাহিনি ' যে দেশে মানুষ বড়' বইটা প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে। সেই সময়ের সোভিয়েত ইউনিয়ন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়েই এই বই।

রাষ্ট্রীয় সফরে সাধারণত দলবেঁধে যাওয়া হয়। লেখকের এটা পছন্দ নয়। কারণ কোন একটা জায়গায় বেশী সময় নিয়ে দেখতে বা বুঝতে চাইলে দলের অন্য সঙ্গীদের কথা ভেবে তা আর হয়ে ওঠে না। তাই লেখকের ইচ্ছায় একাই নিমন্ত্রণ করে নেওয়া হয়। তাছাড়া লেখকের এভাবে নিয়ে যাওয়ার অন্য একটা উদ্দেশ্য হয়তো ছিল- সোভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ ও তাদের দেশটাকে নিয়ে ভালো দিক প্রচার করা। সেই সময় বাস্তবতা টাও ঠিক এখনের মত ছিল না, বাংলাদেশের সাথে যোগাযোগ ও এতোটা সহজ তখন হয়নি, সবে হয়তো শুরু।

লেখক মস্ক, তাসখন্দ, তাজিকিস্তান, সমরখন্দ ভ্রমণ করেন এবং তাঁর মূল্য বান অভিজ্ঞতা টা এই বইয়ে তুলে ধরেছেন।
ভ্রমণ কাহিনি মানেই দিনপঞ্জি নয় তা এই বইটা স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেয়। দিন তারিখ ধরে ধরে বর্ণনা নয়, প্রসিদ্ধ স্থান ও তার ইতিহাস ঐতিহ্য, সে দেশের সংস্কৃতি লোকাচার, বিজ্ঞান, কৃষি, শিল্প ও শিক্ষা ব্যবস্থা কিছু ই বাদ যায় নি।

লেখক সব লেখাই কেমন একটা সহজ সরল ভাব অথচ দারুণ সব বিষয়।
Profile Image for Sanjoy Dey.
5 reviews3 followers
June 28, 2019
'যে দেশে মানুষ বড়' ভ্রমকাহিনীটি জসীম উদদীন লিখেছিলেন ১৯৬৭ সালে। তার সোভিয়েত ইউনিয়ন ভ্রমণের স্মৃতিকথা-ই এই বইটির আলেখ্য। সোভিয়েত দেশে ভ্রমণ নিয়ে তিনি যে খুব বিস্তারিত কিছু লিখেছেন তেমন নয়, বরং অনেক স্থানেই পাতা ভরিয়েছে তাঁর স্বরচিত কবিতা। এদিকে এবার ৬৭ সালের রচনা, এর মাঝে কেটে গেছে প্রায় পঞ্চাশ বছর. সেই সোভিয়েত দেশ ও নেই, সেই পশ্চিম পাকিস্তান ও নেই. তাই বর্তমান বাস্তবার সাথে মেলাতে গেলে পাঠক হোঁচট খেতে পারে।

সোভিয়েত দেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে অবধারিতভাবেই এসেছে দক্ষিণের উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান ভ্রমণের প্রসঙ্গ। অবধারিতভাবেই বললাম একারণে যে, পাকিস্তান বা বাংলাদেশের যে সকল মুসলিম কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক কে সোভিয়েত দেশে ভ্রমণের আমন্ত্রণ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হত, তাদেরকে একপ্রকার ঠেলে ধাক্কিয়ে দক্ষিণের এই প্রজাতন্ত্র গুলোতে পাঠানো হত. তারপর নিয়ে যাওয়া হত সোভিয়েত অর্থে পুনর্নির্মিত মাদ্রাসা, মসজিদে, নিয়ে যাওয়া হত জুম্মা বারের নামাজে, মোলাকাতের ব্যবস্থা করা হত স্থানীয় ইমামদের সাথে। একটা সূক্ষ্ম ক���রণ ছিল এর পেছনে। যাতে করে এঁরা দেশে গিয়ে প্রচার করতে পারেন, সোভিয়েত দেশ পুরোপুরি ধর্ম বিরোধী , সেটি একেবারেই সত্য নয়. কারণ, সোভিয়েত ইউনিয়ন জানত, এই রটনা চালু থাকলে মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশগুলোতে দেশগুলোতে সমাজতন্ত্র ভিত্তিক রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার কঠিন হবে.

পুরো ভ্রমণ কাহিনীতে যে ব্যাপারটি পল্লীকবিকে সবচেয়ে মুগ্ধ করেছে সেটি হল মস্কোর বলসই থিয়েটার। তিনি এতে এতটাই মজে যান যে, তিন তিনবার টিকেট কেটে দেখতে যান. বইটির একটি বড় অংশ জুড়ে আছে তেমন কিছু যাত্রা পালার কাহিনী সংক্ষেপ। তার বাচনভঙ্গির মাহাত্মে সেই কাহিনী চলমান হয়ে পাঠকের সামনে ধরা দিতে পারে।

এই থিয়েটার নিয়ে একটা ঘটনা না উল্লেখ করে পারছি না. একদিন রাতে তিনি থিয়েটার দেখে হোটেলে ফিরছেন। হেঁটেই ফিরছেন। এমন সময়ে পথ হারালেন। একটা নদীর পাশে পার্কের মাঝ দিয়ে হাঁটছেন তিনি। একটু পর পর বেঞ্চে বসা যুবক যুবতী। নিঝুম রাতে আবিষ্ট হয়ে তারা প্রেমময়তায় আচ্ছন্ন। এই ব্যাপারটি তাকে খুব আন্দোলিত করল. আফসোস করে তিনি বললেন, 'এরা কি চমৎকার ভাবে দ্বিধাহীন ভাবে নিজেদের মতো করে ভাবের আদান প্রদান করছে। এই বয়সের আবেগকে চেপে ধরে রাখলেই বরং তা বিদ্রোহী হয়ে ওঠে. অথচ আমাদের ঢাকায় বুড়িগঙ্গায় নৌকা নিয়ে যুবক যুবতী ঘুরতে গেলে পুলিশ লেলিয়ে আটক করা হয়।" এই জায়গাটি পড়তে পড়তে ভাবলাম, ৬৭ সালের সেই অবস্থা ঢাকায় আজও খুব বদলেছে কি? এখনো কি ঢাকায় উঠতি বয়সের প্রেমিক প্রেমিকা নির্জনে নিরালায় নিজেদের মতো করে সময় কাটাতে পারে?
Profile Image for Zinat.
108 reviews64 followers
December 8, 2018
১৯৪৭-১৯৭১ এই টাইমলাইনের লেখকরা আসলে কিভাবে দেখতেন পূর্ব পাকিস্তানকে? পাকিস্তানের শাসকদের প্রতিই বা তাদের মনোভাব কেমন ছিল? যদিও বইটা মূলত ভ্রমণ কাহিনী, কিন্তু এতে বারবারই চলে এসেছে ধর্মীয় ভিত্তিতে লেখকের পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ এর পক্ষে কথা এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে নিজেদের স্বকীয়তা ঘোষণা। আবার কোথাও সমরখন্দ বোখারার লোকজনদের প্রতি ধর্মীয় কারণে আত্মিক টান, কোথায়াও মস্কোতে ছেলেমেয়েদের অবাধ মিলনের সু্যোগকে বাহবা প্রদান- সব মিলিয়ে কিভাবে ভাবতেন আসলে তিনি? নাকি পূর্ব বাংলার মানুষ সবাই ছিল এমন ধর্ম সংস্কৃতির ভিত্তিতে দ্বিধান্বিত?
তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের অনেক প্রশংসা করেছেন লেখক, বইয়ের প্রতিটি পাতায় তার সংবেদনশীল মনের পরিচয় পাওয়া যায়। ভালো লাগল।
Profile Image for StellaN.
38 reviews10 followers
November 27, 2025
রূপবতীকে দেশ ও দেশের মানুষের দুঃখের কথা বললে সুন্দরীর মুখ ম্লান হয়ে যাবে তাই বললেন না।
This entire review has been hidden because of spoilers.
38 reviews1 follower
April 13, 2025
সরকারী আমন্ত্রণে কবি জসীমউদ্দিনের সোভিয়েত ইউনিয়ন সফরের অভিজ্ঞতার আলোকে এই ভ্রমণকাহিনী। ব্যর্থ সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে তাঁর বালসুলভ উচ্ছ্বাস লৌহ যবনিকার পতন পরবর্তী সময়ের পাঠককে কিছুটা আমোদিত করে বৈকি। সত্যিকারের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা ঋদ্ধিলাভ করে ভ্রমণকৃত দেশের আবেগী উচ্ছসিত প্রশংসার পাশাপাশি তার নৈর্ব্যক্তিক, যৌক্তিক সমালোচনার মিশেলে। আর তথাকথিত "প্রগতিশীল" সাহিত্যিকদের মতোই কথায় কথায় "মোল্লাতন্ত্র"-কে দেশের যাবতীয় উন্নতি অগ্রগতির পক্ষে প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করাটা যথেষ্টই হাস্যকর, বিশেষ করে যাবতীয় ধর্মীয় ভাবাবেগ মুক্ত হওয়ার পরও নিদারুণভাবে ব্যর্থ একটি সমাজতন্ত্রী রাষ্ট্রকে যখন তার বিকল্প হিসেবে তুলে ধরা হয়। তবে বিষয়বস্তুর যতই সমালোচনা থাকুক, একটি কথা বলতেই হয়-পল্লীকবির পদ্যের মতো তাঁর গদ্যতেও গ্রামীণ সোঁদামাটির গন্ধ আর সারল্যপূর্ণ অভিব্যক্তির খোঁজ মেলে।
Displaying 1 - 9 of 9 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.