একজন শোকগ্রস্ত বাবা; একটি নিষ্পাপ শিশু; মা হারা এক সন্তান; কয়েকটি নৃশংস খুন; আর চোখকে ঘিরে এক অলৌকিক রহস্য... ১৭২০ সালের এক অন্ধকার রাত, অজানা এক সময়ে দেবতাদের বিচারসভা আর একটি শক্তির পতন; এই তিন ধারা মিলেই জন্ম দেয় এমন এক সত্তার, যার অস্তিত্ব চাপা পড়ে ছিল লোককথা, প্রত্নতত্ত্ব আর রক্তাক্ত অসংখ্য ঘটনার আড়ালে। একটি চোখের বিনিময়ে শুরু হয় অজানা এক চুক্তি, যার শিকড় ছড়িয়ে আছে দেবলোক থেকে পৃথিবী পর্যন্ত। সময় বদলায়, যুগ পেরোয়; কিন্তু কিছু অভিশাপ ইতিহাস মানে না। পৌরাণিক নৃশংসতা ও আধুনিক অপরাধ মিলেমিশে তৈরি এমন এক অশুভ জাল; যেখানে একটাই প্রশ্ন উত্থিত হয়–মানুষ কি সত্যিই নিজের ইচ্ছায় পাপ করে, নাকি কেউ অদৃশ্য সুতোয় টান দিয়ে সেটা করিয়ে নেয়? যেখানে ক্ষমতার মূল্য মাপা হয় বাম চোখ দিয়ে আর নীরবে হেসে ওঠে মৃত্যু; যেখানে মৃত্যু হাসে বাঁ চোখে...
প্রচ্ছদে হলুদ রং আমার ভীষণ পছন্দের। তবে বইটার শুধু হলুদ রংটাই না, সম্পূর্ণ প্রচ্ছদটাই সুন্দর। গল্পটাও ভালো লেগেছে। শুধু ভালো না, বেশ ভালো। লেখকের প্রথম উপন্যাস হিসেবে এর চেয়ে ভালো আশা করা যায় না। লেখকের জন্য শুভকামনা। পরবর্তী বইয়ের জন্য অপেক্ষা করে থাকব☺️। শুভকামনা সতীর্থের জন্য। এবছর মাত্র দুটো বই (আরেকটা সাখওয়াত হোসেনের 'অবগুণ্ঠন') এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভালো লেগেছে। দুটোই সতীর্থের।
“মৃত্যু হাসে বাঁ চোখে” বইটি আসলে পুরাই স্ক্যাম! কেননা প্রকাশনার দাবি- উপন্যাসিকাটি লেখকের প্রথম মৌলিক বই। অথচ পড়ার সময় কিংবা পড়ে শেষ করে মনে হবে, লেখক মহাশয় ইতোপূর্বে দশ-বারোটি উপন্যাস লিখে ফেলেছেন। নইলে এত ঝরঝরে এবং অসাধারণ লেখনশৈলী কোনো নতুন লেখকের বইয়ে পাওয়া সম্ভব, তা বিশ্বাসই হবে না।
ক্লিকবেইট খতম! এবার মূল আলোচনায় আসি। পড়ে শেষ করলাম সামসুদ্দোহা রিফাতের অতিপ্রাকৃত বা ভৌতিক উপন্যাসিকা ‘মৃত্যু হাসে বাঁ চোখে’। বইটি সম্পর্কে যদি এক শব্দে কিছু বলতে বলা হয়, তাহলে বলব- দুর্দান্ত। কিন্তু বইয়ের কাহিনি সম্পর্কে যদি বলতে বলা হয়, তাহলে এক হাজার শব্দও কম পড়ে যাবে। এতটাই জটিল এবং প্যাঁচানো এর গল্প-কাহিনি। আর এখানেই লেখক ভূয়সী প্রশংসার দাবিদার। প্রথম বইতে তিনি সেইফ গেইম খেলেননি। বরং চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। বেছে নিয়েছেন জটিল গল্প। চমৎকারভাবে তা বইয়ের পাতায় ফুটিয়েও তুলেছেন। আর এটা মোটেও কোনো চাট্টিখানি ব্যাপার নয়।
অল্পকথায় এবং স্পয়লার ছাড়া কাহিনি তুলে ধরা মুশকিল। তারপরও সংক্ষেপে একটু বলা যাক। মোট দুটি স্তরে গল্প এগিয়ে গিয়েছে। একটিতে বর্ণিত হয়েছে প্রত্নতত্ত্ববিদ ইমতিয়ার কবিরের জীবন। অপরটি বর্ণিত হয়েছে সামসুল নামের এক পেশাদার খু*নির জীবন। এর বাইরে পৃথক আরও কয়েকটি সময়কালের উল্লেখ রয়েছে, যা হাজার বছরের পুরনো ঘটনার সাক্ষ্য বহন করে। কাহিনি পরিক্রমায় কবির তার পেশা ও ব্যক্তিগত জীবনে বেশ কতক বিপদের সম্মুখিন হয়। একাধিক চরিত্র এবং ঘটনার সুঁতো গিয়ে মিলিত হয় একটি বস্তুতে- বিধ্বস্ত কালো মূর্তি। যার মাথার মগজ রাজকীয় মুকুটের ন্যায়, সেইসাথে বাঁ চোখের কোনো অস্তিত্ব নেই। এমন বস্তুর কোনো অতীত ইতিহাস জানা নেই কবিরের। কিন্তু সে বুঝতে পারে, এটা একের পর এক বিপদ ডেকে নিয়ে আসছে তার জীবনে। সৃষ্টি করেছে অস্তিত্বের সংকট। এমনকি তার ৬ বছর বয়সী কন্যার প্রাণনাশেরও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কীভাবে এর থেকে পরিত্রাণ মিলবে? এসবের সূত্রপাতই-বা কোথা থেকে? উত্তর মিলবে উপন্যাসিকার পাতায়।
পৌরাণিক গল্পগাঁথা, প্রাগৈতিহাসিক ঘটনা, যাদুবিদ্যা, অতিপ্রাকৃত ঘটনাবিশেষের এক মলাটবন্দী পরিবেশনা ‘মৃত্যু হাসে বাঁ চোখে’। গল্প এত সাবলীলভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে, ১৯২ পৃষ্ঠার বইটি পড়তে কোথাও বিন্দুমাত্র খটকা লাগে না। কাল্পনিক কাহিনিকেও বাস্তব মনে হয়। পরিমিত সংলাপের সঙ্গে ঘটনার বিশদ বর্ণনা ভয়ের আবহকে বেশ সুন্দরভাবে গড়ে তুলেছে। মানব জীবনের অতি পরিচিত দুটি বিষয়- বংশ গৌরব এবং রক্তের টান; এ উপন্যাসিকার মূল ভিত্তি। যা অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। সবমিলিয়ে বইটির পাঠ অভিজ্ঞতা দারুণ ছিল।
সামসুদ্দোহা রিফাত; বইপ্রেমী অনেকের কাছেই নামটি চেনা পরিচিত লাগবে। বই সম্পর্কিত বিভিন্ন গ্রুপ, ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম এবং গুডরিডসে একজন সক্রিয় সদস্য। বিচক্ষণ পাঠক। প্রচুর বই পড়েন, চমৎকার রিভিউ লেখেন, দারুণ বইছবি তোলেন। তার পাঠক থেকে লেখক হয়ে ওঠার যাত্রাটা আমাদের অনেকেরই জানা। ব্যক্তিগতভাবে তার এই অগ্রগতি আমাকে প্রতিনিয়ত মুগ্ধ করে। একজন পাঠক হিসেবে চাওয়া থাকবে, আগামীতে আরও অনেক চমৎকার বই তিনি আমাদেরকে উপহার দেবেন। লেখকের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল।
যারা অতিপ্রাকৃত, ভৌতিক কিংবা পুরাণ সম্পর্কিত গল্প-কাহিনি পছন্দ করেন, তারা অবশ্যই ‘মৃত্যু হাসে বাঁ চোখে’ বইটি পড়ে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং।
You will not find this story knocking on your door. It waits in the dark, staring from the corner of your left eye. Mrittu Hase Ba Chokhe (মৃত্যু হাসে বাঁ চোখে) by Md. Samsudduha Rifath (মোঃ সামসুদ্দোহা রিফাত) is a 192-page Bengali horror-thriller that blends mythology, cosmic dread, crime, and a father's raw love into something sharp, eerie, and surprisingly tender.
Three timelines. One curse. An exiled god named Brinmashwara. A dark pact in 1720. And present-day Bangladesh, where Kabir—an archaeology officer raising his daughter Mili alone after her mother's brutal, unexplained death—uncovers a supernatural mystery circling one haunting question: do humans choose evil, or are unseen hands pulling the strings all along?
But this isn't just a horror novel; it's a story about a father's war against an exiled god. The bond between Kabir and little Mili is the absolute soul of this novel. Their emotional warmth brings a tender, human heart to the shadows. It makes the horror personal—because when Mili is threatened, the stakes aren't just supernatural; they're visceral. As a father to a 21-month-old daughter myself, I felt every ounce of Kabir’s desperation.
Rifath’s narrative voice starts shaky at the beginning. Especially the first 30-40 pages—the frequent timeline shifts may leave readers briefly disoriented. But once the knot tightens, the pacing turns compulsive—the kind of book built for a rainy Dhaka night in one sitting.
The mythology is ambitious and refreshingly unafraid of scale, drawing echoes of hidden religions, forgotten scriptures, and divine politics. He weaves a mythology around Brinmashwara, whose banishment feels uncannily like the fall of Azazel or Iblis or Satan, mixed with a governing style reminiscent of Greek gods. Even the names carry a heavy Sanskrit flavor, creating a fascinating intellectual playground. Alokesh Ghosh feels genuinely fresh— rarely have I seen a gendered character like that in South Asian fiction. The author isn't playing safe; he's pushing boundaries.
However, even a promising debut novelist leaves loose threads. Kabir is an archaeologist, yet his professional life feels thin—I needed more "dirt under the fingernails" to truly believe his identity. And what happened after the crocodile farm massacre? Anyway, the dialogues mostly work, especially family scenes, but some conversations between Samsul and the evil force felt unnecessary. In someplace, it needs a bit more explanation. We know what happened to Rahima's mother but how? And then there is the "convenience trap." Finding every detail of Brinmashwara in a single journal felt too miraculous—almost prophetic. And Niten Hajra, who can barely speak, suddenly spills everything to Arindam when the plot needs him to? That felt too engineered. As we reached the climax, the atmosphere shifted from eerie dread to cinematic spectacle. The ending felt rushed, trading subtle, grounded horror for a fast-paced, magical showdown that felt like Netflix on 1.5x speed.
Despite these stumbles, this is a stunning debut with top-tier production quality—hardly a typo in sight (I think I found only two). Rifath kept the eerie atmosphere alive, made a left eye unforgettable, and gave us a father who fights gods with love. I finished the book. I didn't feel bored. It's a genuine page-turner that proves love is the ultimate weapon against the dark. By the end, the title earns itself. Death doesn't roar. It simply smiles. Quietly. From the corner of your left eye.
"আত্মত্যাগ প্রমাণ করে দিয়েছে, ভালোবাসা এই মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।(𝑺𝒂𝒄𝒓𝒊𝒇𝒊𝒄𝒆 𝒑𝒓𝒐𝒗𝒆𝒅 𝒕𝒉𝒂𝒕 𝒍𝒐𝒗𝒆 𝒊𝒔 𝒕𝒉𝒆 𝒎𝒐𝒔𝒕 𝒑𝒐𝒘𝒆𝒓𝒇𝒖𝒍 𝒘𝒆𝒂𝒑𝒐𝒏 𝒊𝒏 𝒕𝒉𝒊𝒔 𝒖𝒏𝒊𝒗𝒆𝒓𝒔𝒆.)"
⁉️ 𝐐𝐎𝐓𝐃: Do you think people become monsters by choice, or does power slowly turn them into one?
⛉ 𝐋𝐢𝐤𝐞𝐝 𝐭𝐡𝐢𝐬 𝐩𝐨𝐬𝐭 or found it helpful? Hit the ❤️, save it 🔖, and 𝐒𝐇𝐀𝐑𝐄 it ↗️ with fellow readers who dare to explore cosmic horror!
🔔 𝐅𝐨𝐥𝐥𝐨𝐰 𝐦𝐞 for more bookish ramblings, reviews, and recommendations. 🔗 𝑮𝑶𝑶𝑫𝑹𝑬𝑨𝑫𝑺: Nazmus Sadat → goodreads.com/dsony7 📸 𝑰𝑵𝑺𝑻𝑨𝑮𝑹𝑨𝑴: @dSHADOWcatREADS
𝔹𝕆𝕆𝕂 𝕀ℕ𝔽𝕆ℝ𝕄𝔸𝕋𝕀𝕆ℕ 📖 𝐓𝐢𝐭𝐥𝐞: মৃত্যু হাসে বাঁ চোখে / Mrittu Hase Ba Chokhe (Death Smiles Through the Left Eye) ✍️ 𝐀𝐮𝐭𝐡𝐨𝐫: মোঃ সামসুদ্দোহা রিফাত / Md. Samsudduha Rifath 🌐 𝐆𝐞𝐧𝐫𝐞: Supernatural Mystery | Cosmic Horror | Bengali Mythology | Dark Fantasy 📅 𝐏𝐮𝐛𝐥𝐢𝐬𝐡𝐞𝐝: First published in February 2026 by Sathirtha Prokashona / সাথীর্থ প্রকাশনা 📊 𝐌𝐲 𝐑𝐚𝐭𝐢𝐧𝐠: ⭐⭐⭐☆☆
একজন শোকগ্রস্ত বাবা; একটি নিষ্পাপ শিশু; মা হারা এক সন্তান; কয়েকটি নৃশংস খুন; আর চোখকে ঘিরে এক অলৌকিক রহস্য...
১৭২০ সালের এক অন্ধকার রাত, অজানা এক সময়ে দেবতাদের বিচারসভা আর একটি শক্তির পতন; এই তিন ধারা মিলেই জন্ম দেয় এমন এক সত্তার, যার অস্তিত্ব চাপা পড়ে ছিল লোককথা, প্রত্নতত্ত্ব আর রক্তাক্ত অসংখ্য ঘটনার আড়ালে। একটি চোখের বিনিময়ে শুরু হয় অজানা এক চুক্তি, যার শিকড় ছড়িয়ে আছে দেবলোক থেকে পৃথিবী পর্যন্ত। সময় বদলায়, যুগ পেরোয়; কিন্তু কিছু অভিশাপ ইতিহাস মানে না।
পৌরাণিক নৃশংসতা ও আধুনিক অপরাধ মিলেমিশে তৈরি এমন এক অশুভ জাল; যেখানে একটাই প্রশ্ন উত্থিত হয়–মানুষ কি সত্যিই নিজের ইচ্ছায় পাপ করে, নাকি কেউ অদৃশ্য সুতোয় টান দিয়ে সেটা করিয়ে নেয়?
যেখানে ক্ষমতার মূল্য মাপা হয় বাম চোখ দিয়ে আর নীরবে হেসে ওঠে মৃত্যু;
যেখানে মৃত্যু হাসে বাঁ চোখে...
পাঠপ্রতিক্রিয়া:—
গল্প, সংলাপ, বর্ণনা— একটা উপন্যাসের বর্ননা এবং সংলাপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ( আমার কাছে মনে হয়) অনেক লেখকের বইয়ে দেখা যায় সংলাপ এবং বর্ননায় ব্যালেন্স রাখতে পারেন না, হয় সংলাপ বেশি না-হয় বর্ণনা বেশি কিন্তু এখানে লেখক এই জিনিসটা চমৎকার ভাবে ভারসাম্য রাখতে পেরেছেন, যতটুকু সংলাপ হলে গল্পের সৌন্দর্য নষ্ট না হয় ঠিক ততটুকু ছিল, সংলাপে দক্ষতা ছাপ স্পষ্ট আপনি পড়তে গিয়ে মনে হবে না এটা লেখকের প্রথম উপন্যাস।
প্রকৃতি আর আশেপাশের পরিবেশকে যেভাবে ডিটেইলসে ফুটিয়ে তুলেছেন, তাতে গল্পের আবহটা আরও গভীর ও বাস্তব মনে হয়েছে, এটা আমার কাছে ভালো লেগেছে।
প্লট, টুইস্ট—
আমার ডার্ক হরর-থ্রিলার উপন্যাস হয়তো খুব বেশি পড়া হয়নি কিন্তু উপন্যাসের প্লট বেশ ইউনিক, দেবতাদের বাসস্থান থেকে বিতাড়িত এক অপদেবতা, যার প্রধান অস্ত্র কাম।
পুরো উপন্যাস ছিল গতিময়, একটুর জন্যও বিরক্ত তৈরি হয়নি, একের পর এক রহসজাল সৃষ্টি করে গেছেন এবং শেষে সেই জাল একটু একটু করে গুটিয়ে নিয়েছেন। গল্পে টুইস্ট তৈরি করতে পারলেও দেখা যায় বেশির ভাগ লেখক শেষে গিয়ে তাড়াহুড়ো করে ফেলেন এবং মজাটা নষ্ট করেন লেখক এখানেও সার্থক। বলা হয়ে থাকে লেখক লেখার ক্ষেত্রে সর্বেসর্বা আর পাঠক পড়ার ক্ষেত্রে সর্বেসর্বা, একেক পাঠক একেক ভাবে পাঠ করবে একেক ভাবে আবিস্কার করবে আমার কাছে এটা একটা সফল ভৌতিক থ্রিলার উপন্যাস।
চরিত্র— উপন্যাসে চরিত্রের উপস্থিতি কম নয় কিন্তু তারা এক ঝলক দেখিয়ে পার্ট চুকিয়েছেন। কবির, সামসুল, মিলি, অরিন্দম উপস্থিতি বেশি ছিল। কবির এবং মিলি বাবা-মেয়ের দুষ্ট, মিস্টি সম্পর্কটা উপন্যাসে একটা আলাদা মাত্রা দিয়েছে তাদের এই কেমিস্ট্রিটা উপভোগ করেছি।
দুর্বল দিক— ইমতিয়ার কবির প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের কর্মকর্তা হলেও উপন্যাসে শুধু একটা অভিযানই উল্লেখ আছে, এই জিনিসটা আমার কাছে বেখাপ্পা লেগেছে, যদি আরো দুয়েকটা অভিযান বা ঘটনা উল্লেখ করতেন তাহলে পরিচয়টা বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠত, এছাড়া গল্পের মাঝে একটু ছন্দপতন ঘটেছিল যদিও তা একটু সময়ের জন্য তবুও আশা করি পরবর্তী বইয়ে এই ঘাটতি পূরণ করতে পারবেন।
বানান, প্রোডাকশন কোয়ালিটি— সতীর্থের দুইটা জিনিসের জন্য আমার অন্যতম পছন্দের প্রকাশনী, এক তাদের বইয়ে বানান ভুল, ছাপার ভুল থাকে খুব কম, দ্বিতীয় বাঁধাই, প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন কোয়ালিটি দুর্দান্ত হয়।
শেষ কথা— আমাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় উপন্যাসটা কি তোমাকে পরিতৃপ্তি দিতে পেরেছে? আমার জবার হবে "হ্যা"।
সত্যি এই উপন্যাস আমি কোন প্রকার এক্সপেক্ট ছাড়া হাতে নিয়েছি, লেখকের এটা প্রথম উপন্যাস হলেও এর আগে অসংখ্য গল্প লিখেছেন, এইজন্যই বয়োজ্যেষ্ঠ লেখকরা উপদেশ দিতেন উপন্যাস লেখার আগে প্রথমে ছোট গল্প লিখে হাত পাকাতে এবং এই উপন্যাস পড়ে মনে হয়েছে লেখক এই সুফল ভালো ভাবে পেয়েছেন।
"মৃত্যু হাসে বাঁ চোখে" বইয়ের নামটি সার্থক, বইয়ের গল্পের সঙ্গে মানানসই এরচেয়ে ভালো নাম হয় না।
এই বই পড়ার ক্ষেত্রে দুইটা জিনিস মাথায় রাখবেন, 'এক, বইটা ধীরে সুস্থে পড়তে পড়বেন, দুই, বইটা রাতে নিরিবিলি পড়বেন, দিনে পড়লে বিশেষ ক্ষতি নেই তা-ও লেখাটাকে পুরাপুরি উপভোগ করতে রাতে পড়লে ভালো হয়।
আক্ষেপ একটাই যে, বইটিকে চাইলে আরো বিস্তৃত করা যেত। তবে প্রথম বই হিসেবে লেখক যথেষ্ট ভালো কাজ দেখিয়েছেন। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চমৎকার একটি আবহ ধরে রাখতে পেরেছিলেন লেখক।
গোছানো লেখার ধরণ। ভুলভ্রান্তি চোখে পড়ে নি। লিখনশৈলী ছিল ভালো। অল্প কথায় কোনো ঘটনা ব্যাখ্যা করার গুণ লেখকের আছে।
রেকমেন্ড করলাম। আশা করি ভালো লাগবে। পরবর্তী বইয়ের জন্য লেখকের জন্য রইল শুভকামনা। আরেকটি ভালো বই উপহার দিবেন সেই আশা করতেই পারি।
আমি বরাবরই চেষ্টা করি নবীন লেখকদের লেখা পড়ে দেখতে। তাদের লেখনীশৈলী বা লেখার ধাঁচ কেমন তা বুঝতে। তবে পড়তে গিয়ে এক্সপেক্টেশনও রাখি না। এর আগে লেখক সামসুদ্দোহা রিফাতের কিছু লেখা বিচ্ছিন্ন ভাবে পড়া হয়েছে কিছু সংকলনে; যেমন: বিবলিও হরর, বিবলিও সংকলন, নিশুতি ৬, থ্রিলার ম্যানিয়াতে। লেখকের থ্রিলার ঘরানার গল্পের ব্যাপারে আইডিয়া আছে তাই। তবে 'মৃত্যু হাসে বাঁ চোখে' শিরোনামের একটা আস্ত উপন্যাস নিয়ে দ্বিধায় ছিলাম যে কেমন হবে! আমার সেই দ্বিধায় সম্পূর্ণ পানি ঢেলে দিয়েছে রিফাত।
চমৎকার একটা প্লট নিয়ে কাজ করেছে রিফাত। অতীত সময়কে আবদ্ধ করে কাহিনীতে যে পৌরাণিক এবং মনস্তাত্বিক ব্যাপারের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে সেটা অনেক ভালো লেগেছে। এ বছর যতগুলো বই পড়া হয়েছে আমার তার মধ্যে অন্যতম পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে এই ডার্ক হরর থ্রিলার বইখানা ।
লেখকের লেখনীশৈলী বেশ শক্তিশালী ছিলো। লেখায় কোন আড়ষ্টতা বা কৃত্রিমতা নেই। বেশ প্রাঞ্জলতা লক্ষনীয়। তবে চার-পাঁচ জায়গায় বানান ভুল পেয়েছি। আশা করি পরের মুদ্রনে এগুলো সংশোধন করা হবে।
আগে দর্শনদারী তারপর গুণবিচারী কথাটা ইদানীং বই কেনার বা পড়ার ব্যাপারে পাঠককে বেশ আগ্রহী করে। সেই দিক থেকে বলতে গেলে পরাগ ওয়াহিদের নান্দনিক প্রচ্ছদের জন্য 'মৃত্যু হাসে বাঁ চোখে' বইটি একশোতে একশো পাওয়ার মতো। সুন্দর থিম, শিরোনামের ফন্ট ডিজাইন আর রঙের মিশেলে পুরো বইটিরই অন্যরকম এক আবেদন সৃষ্টি করেছে। বইয়ের দিকে তাকালেই পড়ার আগ্রহ জাগে।
সতীর্থ প্রকাশনার এই বইয়ের প্রোডাকশন কোয়ালিটি অনেক ভালো ছিলো। তবে ডাস্ট কভারটা আরেকটু মোটা হলে ভালো হতো। লেখকের জন্য অনেক শুভ কামনা।
এক নজরে: বইয়ের নাম: মৃত্যু হাসে বাঁ চোখে লেখক: সামসুদ্দোহা রিফাত প্রচ্ছদ: পরাগ ওয়াহিদ প্রকাশনী: সতীর্থ প্রকাশনা প্রথম প্রকাশের সাল: ২০২৬ পৃষ্ঠা: ১৯২ মুদ্রিত মূল্য: ৩৬০ টাকা
লেখকের আগের অনেক ছোট গল্প পড়া হয়েছিল—সেই ছোট গল্পগুলোর মধ্যেই তিনি তার লেখার ধরন স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিয়েছেন।
এবার তার নতুন উপন্যাস “মৃত্যু হাসে বা চোখে”—সত্যি বলতে, নামটাই প্রথমে আমাকে ভীষণ টেনেছিল। পড়ার পর মনে হয়েছে, গল্পের সাথে নামের যথার্থ মিল রয়েছে, যা বইটিকে আরও গভীরতা দিয়েছে।
প্রথম উপন্যাস হিসেবেই লেখক দারুণ কিছু করে দেখিয়েছেন। প্রতিটি অধ্যায়ের শেষে এমন এক টানটান উত্তেজনা থাকে, যা পাঠককে বাধ্য করে পরের অধ্যায়ে ডুব দিতে। চরিত্র সংখ্যা কম হলেও, বাবা-মেয়ের মধুর খুনসুটি গল্পে আলাদা এক আবেগ যোগ করেছে।
পুরোনো ইতিহাসকে ঘিরে লেখা গল্পটি শেষ পর্যন্ত সুন্দরভাবে গেঁথে রাখা হয়েছে, যা পড়ার অভিজ্ঞতাকে আরও তৃপ্তিদায়ক করে তোলে।
এটি লেখকের যাত্রার শুরু—সামনে তার আরও চমৎকার কাজের অপেক্ষায় রইলাম।
কিছু বই খুব দ্রুত শেষ করতে ইচ্ছে করে। অথচ পড়ার পরে মনে হয় এত দ্রুত শেষ না হলেও পারতো। 'মৃত্যু হাসে বাঁ চোখে' তেমনই একটি বই।
বিশ্বে এমন অনেক ধর্ম, ধর্মগ্রন্থ ও পুরাণ আছে যা আজও অজানা, পড়ে আছে লোকচক্ষুর আড়ালে। বইতে উল্লিখিত হয়েছে এমনি এক অজানা পুরাণের এক নির্বাসিত দেবতার প্রতিশোধের গাঁথা। বইয়ে আছে দু'জন প্রধান মানব চরিত্র, সামসুল ও কবির। দু'জনের জীবন আলাদা। শৈশব ও পথ চলার ধরন আলাদা। কিন্তু অপরিচিত দু'জন মানুষের ভাগ্য একই সুতোয় বাঁধা। কিন্তু এই বন্ধনের রচয়িতা কে?
বইটা এক কথায় অশুভ শক্তির উপরে শুভ শক্তির জয়ের কাহিনী। কিন্তু এই বিজয়ের জন্য ভয়ঙ্কর মূল্য দিতে হয়েছিল। বইয়ের নাম সার্থক হয়েছে। বই পড়ার সময় কোনো একঘেয়েমি আসবে না। রোমাঞ্চকর কাহিনী। প্রচ্ছদও চমৎকার।
নেগেটিভ দিক বলতে হলে বলব, এক জায়গায় হ্যারি পটারের মতো লেগেছে। মানে 'গবলেট অফ ফায়ার'র শেষ অংশের মতো। ঐখানে আমার এক্সাইটমেন্ট বেশ কমে গিয়েছিল। কারণ বইয়ের বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটা অধ্যায় ছিল সেটা। তবে এটা হয়তো সমপাতন মাত্র।
লেখক সামসুদ্দোহা রিফাতের প্রথম উপন্যাস হিসেবে বেশ ভালো একটা কাজ 'মৃত্যু হাসে বাঁ চোখে'। যারা ডিটেইলড গল্প পড়তে পছন্দ করেন তাদের এটা অবশ্যই ভালো লাগবে। থ্রিলার পাঠকদের জন্য তো রেকোমেন্ডেড বটেই।
মৃত্যু মানেই এই জগতের সাথে সকল সম্পর্ক শেষ। কিন্তু এই মৃত্যুর মাধ্যমে সবকিছু শেষ না হয়ে যদি সেটা একটা খেলাতে পরিণত হয় তাহলে বিষয়টা কেমন হয়? আর এই খেলাটা খেলতে খেলতে আপনি যখন মুখোমুখি হন আপনার সবচাইতে ভয়ঙ্কর ও অপ্রত্যাশিত কোনো অতীতের, তাহলে বিষয় টা কেমন হয়? জ্বি, সামসুদ্দোহা রিফাত ভাই তার এই অসামান্য প্রথম মৌলিক থ্রিলার বইটিতে এই ভয়ংকর খেলাটাকে খুব সুচারুরূপে উপস্থাপন করেছেন যেটা কোনো উদীয়মান তরুণ লেখকের জন্য অনেকটাই কষ্টসাধ্য বলে আমি মনে করি, যদিও তিনি এর আগেও অনেক সংকলনে লিখেছেন। আমার মতে এটিই তার এখন পর্যন্ত সেরা একটি সৃষ্টি। তার উপরে তিনি লিখেছেন মিথোলজি নিয়ে, যা লিখার জন্য অনেক মেধা ও শ্রমের প্রয়োজন। এই পুরো পৌরণিক রহস্যে ঘেরা একটি বইকে আমাদের সামনে উপস্থাপন করতে গিয়ে লেখক ও প্রকাশনীর চেষ্টা ও পরিশ্রমের কোনও কমতি ছিল না। তার ফলাফল এবারের বইমেলা থেকেই আমরা দেখতে পাচ্ছি। পুরো বইটির ঘটনাটি আবর্তিত হয়েছে একটি চোখ নিয়ে এবং পারিবারিক কিছু মধুর সম্পর্ক, আবেগ এবং ভয়ঙ্কর কিছু অপ্রত্যাশিত অতীত নিয়ে। যদি বইটি এখনও না পড়ে থাকেন, তবে আজই যেকোনো অনলাইন শপ থেকে অর্ডার করে পড়ে ফেলুন এই অসাধারণ বইটি, এম নাহয় আপনি বঞ্চিত হবেন একটি অসাধারণ শিল্পকর্মের স্বাক্ষী হতে। হ্যাপি রিডিং।
পরীক্ষা এবং বিভিন্ন ব্যস্ততার জন্যে বইটা শুরু করলেও শেষ করা হয়ে উঠেনি। তো অবশেষে শেষ করলাম রিফাত ভাইয়ের ‘মৃত্যু হাসে বাঁ চোখে’। বইটা নিয়ে কিছু কথা না বললেই নয়। • বইয়ের প্রথম ৩০-৪০ পৃষ্ঠা খাপছাড়া লেগেছে। দুম করে কাহিনি এপাশ থেকে ওপাশ আবার ওপাশ থেকে এপাশে ঘুরছিল। স্লো লেগেছে তখন, এরপর অবশ্য কাহিনি টেনে নিয়ে গিয়েছে। • বইয়ের প্লট বেশ ইউনিক। মিথলজিক্যাল এলিমেটগুলো দারুণভাবে ফুটিয়েছেন ভাইয়ে, দারুণ লেগেছে সেগুলো। সংলাপ বেশ ভালো লেগেছে আমার কাছে। ব্যালেন্সড। • কবির ও মিলি, পিতাকন্যার সম্পর্কটা দারুণভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাদের খুনসুটি বেশ উপভোগ্য ছিল। পড়ে আনন্দ হচ্ছিল। • ডার্ক ফ্যান্টাসি, কাল্টের মিশ্রণে রহস্যোপন্যাস পড়ে ভালোই লেগেছে। তবে আমার এন্ডিংয়ে কিছু ব্যাপার নিয়ে বলতে হয়- • প্রথমত এন্ডিংয়ে তাড়াহুড়োর ছাপ স্পষ্ট। একটু ফাস্ট ট্রানজিশন ঘটেছে। যেটা ভালো লাগেনি। • এন্ডিংয়ের একশন এবং জাদু, শক্তির কথা ভাইয়ে উল্লেখ করেছে ওইগুলা আমার কাছে ভালো লাগেনি। অনেকটা সিনেম্যাটিক মনে হয়েছে। এন্ডিংয়ে এই একটা জিনিস আমার কাছে নেগেটিভ। বাদাবাকি অল ওকে।
সর্বোপরি ভাইয়ের প্রথম বই হিসেবে দারুণ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। সামনে আরো লেখা পাবো আশা করি। পাশে আছি রিফাত ভাই, আগাই যান!
হরর সাহিত্যে নতুন কিছু তুলে ধরার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। বাকিটা আপনারাই বলতে পারবেন কেমন হয়েছে বইটা। হরর বই পড়ুন, হরর সাহিত্যকে দেশে এগিয়ে নিতে সাহায্য করুন।
হুমায়ুন আহমেদ বলেছিলেন, "পৃথিবীতে একটাও খারাপ বাবা হয় না।"এই একটি বাক্য আমাদের প্রত্যেকের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী আলাদা মত ধারণ করে। আমার কাছে এই বাক্যের সংজ্ঞা একটু আলাদা—বাবা তারাই, যারা সন্তানকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিতে জানে, যারা সন্তানকে কখনো অন্ধকারে ছেড়ে যায় না।এতক্ষণ ধরে 'বাবা' শব্দটির ওপর জোর দেওয়ার একটি বিশেষ কারণ আছে। সম্প্রতি পড়া 'মৃত্যু হাসে বাঁ চোখে' বইটিকে আমি স্রেফ একটি ভৌতিক উপাখ্যানের দৃষ্টিতে দেখিনি বরং আমি দেখেছি এক নিরীহ সন্তানকে বাঁচানোর তাগিদে একজন পিতা কতটা শক্তিশালী ও অকুতোভয় হতে পারেন সেই দৃষ্টিতে । একই সাথে, অন্ধভক্তি কীভাবে একজন মানুষের ভেতরের আলোকিত অংশকে ধ্বংস করে তাকে চরম নৃশংস বানিয়ে তুলতে পারে—তাও এই বইয়ের অন্যতম প্রধান সারমর্ম।
গল্পের শুরুটা হয়েছিল এক মহাজাগতিক শক্তির পতনের মাধ্যমে, যা পরবর্তীতে তিনটি আলাদা সময়ের সুতোয় গিয়ে বেঁধে যায়। সাধারণত মিথলজির ওপর ভিত্তি করে সাজানো যেকোনো গল্পই খুব আকর্ষণীয় হয়। কিন্তু সেই মিথলজি যদি হয় লেখকের নিজের তৈরি করা, তবে আগ্রহের পারদ শতগুণ বেড়ে যায়। লেখক এই বইয়ে 'ত্রিদলয়' নামক বিচার সভা আর দেবতাদের পরিচয় দিয়ে যে অপার্থিব জগৎ তৈরি করেছেন, তা এক কথায় দারুণ! পাঠককে শুরুতেই গল্পের গভীরে ডুবিয়ে দেওয়ার জন্য এমন দৃশ্যপটই যথেষ্ট।এই উপন্যাসের কাহিনিগুলো যখন এক টাইমলাইন থেকে অন্য টাইমলাইনে জাম্প করে, তখন গল্পের গতি কোথাও তেমন একটা থমকে দাঁড়ায়নি। পুরো বইটিই মূলত একটি পেজ-টার্নার। পড়ার সময় এক মুহূর্তের জন্যও মনে হয়নি এটি কোনো নতুন লেখকের বই। অবশ্য এর একটি বড় কারণ হলো—লেখক আগে থেকেই ছোটগল্প লিখে নিজের হাত পাকিয়ে নিয়েছেন। এই গল্পের খলনায়ক চরিত্রটি পর্যাপ্ত স্ক্রিনটাইম পেয়েছে, যা বইটির আরেকটি বড় পজিটিভ দিক। প্রতিটি খুনের পেছনেই ভালো লজিক খাটিয়েছেন লেখক। আর সেই অদ্ভুত ও অলৌকিক সত্ত্বার প্রতি খলচরিত্রের যে তীব্র মোহ তা পুরো গল্পজুড়েই দারুণভাবে ফুটে উঠেছে দারুন ভাবে।আমি যখন প্রথমবার বইটির বেটা রিড করেছিলাম তখন ছোটখাটো সমস্যাগুলো চোখে পরেছিল। কিন্তু অত্যন্ত প্রশংসনীয় বিষয় হলো, লেখক পরবর্তীতে খামতিগুলো খুব সুন্দরভাবে সংশোধন করেছেন।
তবে বইটিকে নিয়ে আমার একটা বড় আক্ষেপও রয়ে গেছে। লেখক চাইলে এই বইটিকে আরও বড় ক্যানভাসে লিখতে পারতেন। কয়েকটা বিশেষ চরিত্রের এন্ট্রি সুন্দর হয়েছিল,তাদের প্রতি আরো ফোকাস করলে ভালো হতো।আর কুমির ফার্মের দৃশ্যটা আরেকটু বড় হলে মন্দ হতো না।আর এই মিথলজিকাল জগৎটাকে যদি আরও একটু বিস্তৃত করা হতো, তবে বইটি হয়তো আরও দুর্দান্ত হতে পারতো।
লেখকের আগের ছোটগল্পগুলোর প্লট চয়েজ যেমন দারুন তেমনভাবে এই বইয়ের প্লট চয়েজও চমৎকার ছিল।পরাগ ভাইয়ের বানানো প্রচ্ছদটা দারুনভাবে মিলে গেছে গল্পের সাথে।প্রোডাকশন কোয়ালিটি ভাল লেগেছে। সব মিলিয়ে তৃপ্তির সাথেই বইটি শেষ করা গেছে। বিশেষ সমাপ্তিটাও বেশ গোছানো হওয়ায় সেই তৃপ্তি বেড়ে গিয়েছে।আশা রাখি লেখক পরবর্তীতে আরো ভালো উপন্যাস উপহার দিবেন আমাদের।তবে একটাই রিকোয়েস্ট -যেই গল্প বড় পরিসর ডিজার্ব করে সেটাকে নির্দিষ্ট গন্ডিতে বেঁধে রাখবেন না।
রিফাত ভাইয়ের লেখার সাথে পরিচিত হই তার ছোটগল্পের ইবুক সংস্করণ “ছায়া ও কায়ার কিসসা ” পড়ে। তারপর নিশুতি ৭ ও তোমার চোখে জুলাই'য়ে ভাইয়ের লেখা পড়েছি।
মূলত তার গল্পের থিমটা বা প্লটটা একেবারেই ইউনিক হয় সবসময়। এজন্যই খুব করে চাইছিলাম তার মৌলিক বই আসুক। উপন্যাসেও ব্যাপারটা ধরে রেখেছেন।
কাহিনি শুরু হয় সাল ১৭২০'র একটা ঘটনা দিয়ে। যেখানে দেখা যায় এক লোক তার প্রভুকে খুশি করতে নিজের বাম চোখ বিসর্জন দেয়। তরপর দৃশ্য পরিবর্তন হয় — সাল ১০১২'এর ঘটনা। দেবতালোকে দেবতা “বর্জুশ্বর” সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করায় শাস্তি হিসেবে তাকে পৃথিবীতে প্রেরণ করা হয়। তারপর বর্তমান সময়ে কাহিনি এগোতে থাকে।
বইয়ে লেখক যেকোনো ছোটখাটো ঘটনার একেবারে নিখুঁত বর্ণনা দিয়েছেন , যেটা অতিরিক্ত-ও নয়। পড়ার সময় মনে হয়েছে যেন চোখের সামনে সবকিছু ঘটছে। যদিও শুরুর দিকে মূল কাহিনীতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত লেখা সামান্য ধীরগতির ছিল , বাট কাহিনিতে ঢোকার পরে পাঠককে একেবারে শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে গিয়েছে। গল্পের ফ্লো হারায়নি সামান্য সময়ের জন্য-ও। চরিত্রায়ন গুলোও ভালো হয়েছে
ছোটখাটো একটা ভুল নজরে আসছে। আর শেষ দিকে একটা মাত্র বানানে ভুল পেয়েছি। সম্পাদনায় আরেকটু খেয়াল রাখলে ভুল দুটো হতোনা বলেই বিশ্বাস।
বইয়ের নামকরণ যথাযথ হয়েছে। প্রচ্ছদটাও সুন্দর , বাট লাল ও কালোর সংমিশ্রণ দিলে আরও ভালো লাগতো। ডাস্ট কভারটা হার্ড হলে ভালো লাগতো।
আর বইয়ের নামের ফ্রন্টটা , বইয়ের তুলনায় সামান্য বড় হয়ে গিয়েছে মনে হলো। আরেকটু ছোট হলে ভালো লাগতো।
ক্রাউন সাইজের বইটার পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৯২। মুদ্রিত মূল্য ৩৬০৳। প্রচ্ছদ করেছেন পরাগ ওয়াহিদ ভাই। বানান সংশোধন করেছেন শারমিন আক্তার ও আবু আনন্দ নিটু। বইটা সতীর্থ প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত। বইটার জনরা সম্ভবত ‘অতিপ্রাকৃত রহস্যোপন্যাস’।
একদিকে আছে শোকগ্রস্ত মানুষ, পারিবারিক ট্র্যাজেডি, আর নৃশংস খুনের ঘটনা। অন্যদিকে আছে এক রহস্যময় “চোখ”কে ঘিরে অলৌকিক শক্তি, চুক্তি এবং অভিশাপ। গল্পের শুরুটা খুব সাধারণ মনে হলেও ধীরে ধীরে সেটা পৌরাণিক ও অদৃশ্য শক্তির দিকে মোড় নেয়। ১৭২০ সালের এক অন্ধকার ঘটনার সঙ্গে বর্তমান সময়ের অপরাধগুলো জুড়ে গিয়ে তৈরি হয় এক ভয়ংকর সংযোগ। অমৃতযুগ ১০১২, পৃথিবীর বাহিরে কোনো এক অজানা স্থান। দেবতাদের মধ্য থেকে এক দেবতার বাম চোখ তুলে আনা হলো। একটি চোখের বিনিময়ে শুরু হলো অজানা এক চুক্তি, যার শিকড় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আসে পৃথিবীর পর্যন্ত। সময় বদলায়, যুগ পেরোয় কিন্তু কিছু অভিশাপ ইতিহাস মানে না।
সামসুদ্দোহা রিফাত ভাইয়ের লিখা বই এর আগে আমার পড়া হয় নাই। তার লিখা প্রথম উপন্যাস — " মৃত্যু হাসে বাঁ চোখে " পড়েই মনে হয়েছে ভাই একজন চমৎকার লেখক। বইটিতে মাঝে বেশ কিছু প্লট অসংলগ্ন মনে হয়েছে তারপরও বলতে হয় সামসুদ্দোহা রিফাত ভাইয়ের লেখনশৈলী এমন যে, গল্প শেষ হয়, কিন্তু তার ছায়া শেষ হয় না।
আশা রাখি, লেখকের আগামী দিনের লেখাতেও এমনই কিছু থাকবে কিংবা এর থেকেও আরো স্পষ্ট কিছু নিদর্শন থাকবে।
ত্রিদবনী পুরাণের কামদেবতা বর্জুশ্বর। তার ছলে ত্রিদলয়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে সেখান থেকে দেবতারা তাকে বহিষ্কার করে। কেড়ে নেয় তার কামশক্তি। তাকে শাস্তি দিতে দেবতারা তার বাম চোখ তুলে নিয়ে তাকে নিক্ষেপ করে পৃথিবীতে।বর্জুশ্বরকে নিষ্ক্রান্ত করে দেয় ত্রিদলয় থেকে।পৃথিবীতে নেমে আসার পরই সে এক ভয়ংকর অপদেবতায় পরিণত হয়.....
এদিকে ইমতিয়ার কবির এবং তার মা হারা মেয়ে মিলি; তারা এক অদ্ভুত রহস্যের জালে আটকে পড়ে।কি দোষ নিষ্পাপ এই মেয়েটির!! ভাড়াটে গুন্ডা সামসুল,যার পেশাই মানুষ খুন করা! সে কি নিজের ইচ্ছায় এসব করছে নাকি শেষ পর্যন্ত কেউ এর পেছনে কলকাঠি নাড়ছে!কি তার স্বার্থ!
রুনীসিনাম নামের রহস্যময় চরিত্রটি'ই বা কে!
আপাতদৃষ্টিতে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটি শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত সব এক সূত্রে গেথে যায়। পুরাণ,অতীত,তার অতীত এবং বর্তমান কে ঘিরে লেখক এক আদিভৌতিক ও রোমাঞ্চকর প্লট তৈরী করেছেন।তবে একটা ব্যাপারে আমার একান্ত ব্যক্তিগত অভিমত, গল্পের যেসব জায়গায় মন্ত্রের উল্লেখ রয়েছে, সেসব তন্ত্র-মন্ত্র গুলোতে সংস্কৃত শ্লোক বা এজাতীয় শব্দ বা বাক্যের ব্যবহার করলে সেই জায়গাগুলো আরও বেশি রিয়েলিস্টিক লাগতো। ইতোপূর্বে লেখকের বেশ কিছু ছোট গল্প বিভিন্ন সংকলন এবং রহস্য পত্রিকায় পড়া হয়েছে। তবে প্রথম উপন্যাস হিসেবে এবারে লেখক বেশ মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন।পড়ে মনেই হয়নি যে এটা তার প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস।আমার মনে হয় লেখকের ঘরে খুঁজলে এরকম আরও ২/৪ টা উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি পাওয়া যাবে।😛 শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গল্পবুনন এবং এত বিস্তৃত প্লট হওয়া সত্বেও উপন্যাসে লেখক কোনো ফাঁক-ফোকর রাখেননি। সবশেষে,ভূমিকায় তাহমিদ ভাইয়ের কথার সাথে একমত হয়ে বলতে চাই,একজন নতুন লেখক উপযুক্ত সমালোচনা পেলে উন্নতি করতে বাধ্য।আর যে নতুন লেখকের মাঝে লেখার ক্ষুধা রয়েছে সেই লেখকের উন্নতি তো অবধারিত।সামসুদ্দোহা রিফাত ভাই তেমনই একজন লেখক। একজন পাঠক হিসেবে আমারও অনুরোধ থাকবে আপনারা সবাই নতুন লেখকের বই কিনুন, বই পড়ুন এবং গঠনমূলক সমালোচনা করুন।
ব্যক্তিগত রেটিংঃ⭐⭐⭐⭐(৪.২/৫)
📖বইঃ মৃত্যু হাসে বাঁ চোখে ✒️লেখকঃ সামসুদ্দোহা রিফাত 🪧প্রকাশনীঃ সতীর্থ