কল্লোল যুগের অন্যতম সাহিত্যিক ও চলচ্চিত্রকার শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় ১৯০১ সালের ২১ মার্চ (১৩০৫ বঙ্গাব্দের ৫ চৈত্র) বীরভূমের রূপসীপুরের হাটসেরান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
বাবা ধরনীধর মুখোপাধ্যায় ছিলেন আপনভোলা শিল্লী মানুষ। শৈলজানন্দর দু'বছর বয়সে মা হেমবরণী দেবীর মৃত্যু হলে ধনাঢ্য কয়লা ব্যবসায়ী মাতামহ রায়সাহেব মৃত্যুঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়ের আশ্রয়ে বড় হন। শিক্ষাজীবন শুরু হয় রানীগঞ্জ সিয়ারসোল স্কুলে। সেখানে কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন তাঁর সহপাঠী। দুজনে ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। কলেজের পড়া ছেড়ে কয়লাকুঠিতে চাকরি নেন। ১৯৩২ সালে চাকরি ছেড়ে সাহিত্যচর্চা শুরু করেন ৷ পরবর্তীকালে তিনি চলচ্চিত্রজগতে প্রবেশ করেন। লীলাবতীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
মাতামহের সঙ্গে মতান্তর হওয়ায় কলকাতায় এসে সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন। কালিকলম ও কল্লোল গোষ্ঠীর অন্যতম লেখক হয়ে ওঠেন। খনিশ্রমিক, সাঁওতাল ও অন্যান্য নিম্নবর্ণের অবহেলিত মানুষের জীবন অবলম্বনে তিনি অনেকগুলি উপন্যাস রচনা করেন। বসুমতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম উপন্যাস 'কয়লাকুঠীর দেশ'। তাঁর লেখায় সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জীবনের কথা ফুটে উঠেছে। অতি সাধারণ জীবনকথা তাঁর লেখনী স্পর্শে হয়ে উঠেছে অসাধারণ। উপন্যাস এবং গল্প মিলিয়ে তাঁর গ্রন্হ সংখ্যা প্রায় দেড়শো।
তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলি হল --- কয়লা কুঠীর দেশে , ডাক্তার , বন্দী , আজ শুভদিন , ঝড়ো হাওয়া , মাটির ঘর , পাতালপুরী ,গঙ্গা-যমুনা , রূপবতী প্রভৃতি৷ 'ডাক্তার' উপন্যাস অবলম্বনে 'আনন্দ আশ্রম' সিনেমাটি নির্মিত হয়৷ তিনি ছিলেন একাধারে কাহিনীকার , চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক৷ তিনি আকাশবানীর নাট্যবিভাগেও কাজ করেছেন৷ দীর্ঘদিন কালিকলম পত্রিকা সম্পাদনা করেন তাঁর অনেক উপন্যাস চলচ্চিত্রায়িত হয়েছ ৷ তিনি নিজেও একজন পরিচালক ছিলেন। নন্দিনী , শহর থেকে দূরে , বন্দী , অভিনয় নয় , রং-বেরং , কথা কও প্রভৃতি তাঁর পরিচালিত সিনেমা। তাঁর প্রথম ছবি পাতালপুরী । সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য আনন্দ পুরস্কার , উল্টোরথ পুরস্কার এবং যাদবপুর ও বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি.লিট্ পান ।
পক্ষাঘাতে শয্যাশায়ী হয়ে ১৯৭৬ সালের ২ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
এই বইটা কেনা, পড়া এবং এটাকে ১ তারা দেবার যাবতীয় দোষ একান্তই আমার। বাংলা ভাষার কথাসাহিত্যিকদের মধ্যে যে অল্প কয়েকজন ঝাড়খণ্ড বা তার সীমান্তবর্তী বাংলার জীবন, ভাষা, প্রকৃতি নিয়ে লিখেছেন তাঁদের মধ্যে শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় অন্যতম। তাঁর লেখা পড়ার আগের ভালোলাগার স্মৃতি এই বইয়ে এসে বিভীষিকায় পরিণত হয়েছে। এই বইয়ের কাহিনী, ভাষা, চরিত্রচিত্রণ ষাটের দশকে বানানো বাংলা চলচ্চিত্রের মধ্যে সবচে' বস্তাপঁচাটার সাথে তুলনীয়। এই বই পড়া সময়ের বিশুদ্ধ অপচয় ছাড়া আর কিছুই না। ০ তারা দেবার উপায় থাকলে তাই দিতাম।