বস্তুত এমন সময় কখনোই আসেনি,যখন আমি শ্রদ্ধেয় তারাশঙ্কর বাবুর লেখা পড়ে হাপিত্যেশ করেছি,মুষড়ে পড়েছি এই কারণে যে লেখাটা বাজে ছিল। এমন কখনোই হয় নি।
আমার এখনো "কবি" পড়ার স্মৃতি মনে পড়ে। অনেক আগে পড়েছিলাম,তখন বোধহয় আমি এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছি সবে। ঐ বয়সে কবি পড়েছিলাম বলে,এক বড় ভাই ইঁচড়েপাকা ও বলেছিল। তার ভাষ্য ছিল,যেটা বোঝার বয়স হয়নি,সেটা পড়ার মানে অনর্থক সময় নষ্ট করা। যাইহোক,আমি তখন কবি পড়েছিলাম। বইটার অর্থ আমি আমার মতো করে খুঁজে নিয়ে আনন্দ পেয়েছিলাম। অদ্ভুত আনন্দ। আর তখন থেকেই তারা বাবু আমার ভীষণ প্রিয় লেখক,ভীষণ। সেই যে কবি দিয়ে শুরু করেছিলাম,এরপর আর থামাথামি নাই,গাড়ি চলছেই। তারা বাবুও যেন পণ করেছেন,তাঁর সব কয়টা বই দিয়ে আমাকে মুগ্ধ করে যাবেন শুধু।
এবার পড়লাম " জঙ্গলগড় "। গল্পের শুরুটা বেশি কাঠখোট্টা। কারণ বিভিন্ন জায়গার বর্ণনা আর পরিচিতির মাধ্যমে লেখক শুরু করেছেন গল্পটা। পড়তে একটু কষ্ট-ই হচ্ছিলো। তারপর যেন " চোরাবালি " তে পা দিয়েছি। খালি ডুবতেই আছি। এটাই তারা বাবুর স্পেশালিটি। পাঠককে গল্পে একদম বুঁদ করে রাখেন।
গল্পটা চন্দনগড় নামক জায়গার রাজা আর জাত হারানো রাজপুত শ্রেণির এক কণ্যা রুক্ষ্মিণী নিয়ে। একে একে গল্পে আসে বর্গির গল্প। এই বর্গির ছলের কারণে প্রাণ হারান চন্দনগড়ের রাজা। তখন থেকে জাত হারানো যাযাবর সম্প্রদায় আর শিশু পুত্র কে নিয়ে একা হয়ে পড়ে রুক্ষ্মিণী আর তার বাবা। তারা পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেয়,একটা জঙ্গলে। সেখানেই গড়ে তোলে "জঙ্গলগড় " নামক স্থান। এখান থেকে শুরু হয় আরেক গল্প...