Jump to ratings and reviews
Rate this book

আমলার দিনলিপি

Rate this book
পঁচাত্তর ও তার পরবর্তী দিনগুলি দেশের জন্য ছিল এক দিক্‌ভ্রান্ত অস্থির সময়। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য হত্যাকান্ড, ষড়যন্ত্র, অভ্যুত্থান, পাল্টা-অভ্যুত্থানে জাতি ছিল সংকটে জর্জিত। এই সময় লেখক ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের পেট্রোলিয়াম ও খনিজ মন্ত্রণালয়ের সচিব। এই পদে থাকাকালে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অধিকারী নায়ক, উপ-নায়ক ও খলনায়কদের এবং তাদের পার্শ্বচরদের খুব কাছ থেকে দেখেছেন। সেই সময় তিনি যা দেখেছেন, শুনেছেন, অনুভব করেছেন দিনের পর দিন তাৎক্ষণিকভাবে তার দিনলিপিতে ধরে রেখেছিলেন। সেগুলোই সংকলিত হয়েছে এই বইয়ে।
এই দিনলিপিতে নভেম্বর ১৯৭৫ হতে ডিসেম্বর ১৯৭৭ পর্যন্ত অংশ এই গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।

160 pages, Hardcover

First published February 1, 1999

30 people want to read

About the author

Kazi Fazlur Rahman

9 books1 follower

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
2 (33%)
4 stars
4 (66%)
3 stars
0 (0%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 2 of 2 reviews
Profile Image for Shadin Pranto.
1,487 reviews572 followers
January 26, 2018
কাজী ফজলুর রহমান সিএসপি ছিলেন পাকিস্তান আমলে।পাকিস্তানি সামরিক সরকারের পূর্বপাকিস্তানের শোষণনীতি বাস্তবায়নের হাতিয়ার হতে চান নি বলে সামরিক জান্তা তাকে অবৈধভাবে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়। ১৯৭৭ এ উচ্চ আদালতের রায় নিয়ে আবার যোগ দেন প্রশাসনে। নিয়মিত দিনলিপি লিখতেন। তার দিনলিপির প্রথম খন্ড এটি। যার ব্যাপ্তি ১৯৭৫ সালের নভেম্বর হতে ১৯৭৭ সালের সমাপ্তি পর্যন্ত।
বঙ্গবন্ধু মারা যাবার পর টালমাটাল বাংলাদেশ,প্রশাসন ও জিয়ার আমলের ভেতরকার চিত্র উঠে এসেছে এই আমলার দিনলিপিতে।
পয়লা নভেম্বর, ১৯৭৭ এ যোগ দেন নবগঠিত পেট্রোলিয়াম ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে সচিব হিসেবে। দেশে তখন মোশতাকের রাজত্ব শেষ। বিচারপতি সায়েম রাষ্ট্রপ্রধান হলেও সহকারী সামরিক আইনপ্রশাসক হিসেবে জিয়াউর রহমান আছেন। কিন্তু তিনিই সর্বেসর্বা। বাদবাকী সব অনেকটা হাতের পুতুল মাত্র। যোগদানের প্রথম দিনই টের পেলেন প্রশাসনে অব্যবস্থাপনা। আবার, দেশের অবস্থা নিয়ে দিনলিপিতে লিখলে,
" চারদিকে যেসব কথা শুনছি, তাতে মনে হচ্ছে দেশের ভেতরকার অবস্থা বেশ খারাপ। টাঙ্গাইলে কাদের সিদ্দিকীর বাহিনী এখনও সক্রিয়।সেখানে নাকি এখনও দুই ব্রিগেড সৈন্য মোতায়েন রাখতে হয়েছে।আবার পনেরো আগস্টের হত্যাকান্ডের নায়ক ছয় মেজরের মধ্য কেউ কেউ বোধহয় বিদেশ চলে যাচ্ছে।"
প্রশাসনেও নানা শঙ্কা, গুজব। মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আজমের কথা উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন,
" তার ধারণা দেশ বিরাট সঙ্কটের সামনে,গৃহযুদ্ধ এড়ানো যাবে কি না সন্দেহ।"
যখন প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা এমন ভয়াবহ ধারণা করেন, তখন রাষ্ট্রের অবস্থা কেমন ছিল তা সহজেই বোঝা যায়। এদিকে খালেদ মোশাররফের সেনাপ্রধান হওয়া এবং ৭ নভেম্বরের পর জিয়ার দ্বিগুণ শক্তিতে ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের ঘটনাকে নিজের রোজনামচায় লিপিবদ্ধ করেছেন কাজী ফজলুর রহমান। সেসব ঘটনার সব নিজে দেখেনি, অনেক পরে ঘটনাই শুনেছেন।তখন যা ঘটছিল,
" অনেকক্ষণ ধরে হেলিকপ্টার আর মিগ জঙ্গি বিমান শহরের খুব নিচুতে ঘুরছিল। তখনই মনে হচ্ছিল কিছু একটা ঘটেছে।সকাল থেকে একটার পর একটা টেলিফোন আসতে লাগল, তাতে খবর পেলাম রাস্তায় আর্মি নেমে পড়েছে।"
৭ নভেম্বর পর্যন্ত কার্যত দেশে কোনো সরকার ছিল না। জিয়া আর খালেদ মোশাররফ পরস্পরের মুখোমুখির সেই সঙ্গিন সময়টাকে রোজনামচায় ভালোই বর্ণনা করেছেন লেখক।নিরপেক্ষ একটি বয়ান পাওয়া যায়।খানিকটা থ্রিল চলে আসে পড়তে গিয়ে। যেমনঃ ঢাকা রেডিও থেকে ঘোষণা করা হল খালেদ মোশাররফ সেনাপ্রধান। একটু পরেই রেডিও নীরব। সেখানে বারবার একই বাণী ঘোষিত হচ্ছে,
" কিছুক্ষণ পরেই আর একটি জরুরি ঘোষণা করা হবে। "
ইত্তেফাকের বরাতে খালেদ মোশাররফের বৃদ্ধা মা আর ভাইয়ের সেই মিছিলের কথা লিখলেন কাজী ফজলুর রহমান। সেই মিছিল খালেদ মোশাররফের ভাগ্যকে একেবারে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে কম রসদ যোগায় নি। আর জিয়ার ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করেছিল।
মার্শাল ল চলছে। রাজনীতি নিষিদ্ধ। কিন্তু জিয়াউর রহমান নিজে সবদিকে টোকা মেরে দেখছেন।কাদের নিজের দলে ভেড়ানো যায়। উল্লেখ্য, তখনও জিয়া দল গঠন করেন নি এবং সায়েমও বহাল তবিয়তে রাষ্ট্রনায়ক পদেই আছেন। বিচারপতি সায়েম সাহেব আদতেই কতটা অর্থব ছিলেন তার প্রমাণ বইয়ের পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় আছে। জিয়া সহকারী আইন প্রশাসক তথা ডিসিএমএলএ। কিন্তু অন্য দুই আইন প্রশাসক পুরো নির্ভর করতেন জিয়ার ওপর। করতেন বললে বোধহয় কম বলা হচ্ছে। বিমান এবং নৌ প্রধান আসলে জিয়া কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ব্যতীত কিছুই ছিলেন না। জিয়ার সেই শাসনামলের আরো একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কথা কাজী ফজলুর রহমানের লেখনীতে উঠে এসেছে। এই জেনারেলের মনের ভাষা কেউ বুঝতে পারত না। তিনি যা সিদ্ধান্ত নিতেন তা পূর্বে আন্দাজ করা প্রায় অসম্ভব ছিল। দেখা যেত যেসব লোক কোনোদিন ভাবতেই পারেন নি তারা সরকারি কর্মকর্তা হতে পারেন। তাদের হুটহাট মন্ত্রী তথা উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দিয়ে সবাইকে চমকে দিতেন জিয়া। আর সেই সৌভাগ্যবানদের ভাগ্য নির্ভর করত জেনারেল কতটা সন্তুষ্ট থাকেন তার ওপর। একটু এদিক সেদিক হলেই চাকরী নট!
সচিব হিসেবে কাজ করতে গিয়ে কাজী ফজলুর রহমান অনেকবার প্রধানের(জিয়াকে এই নামেই সম্বোধন করেছেন বইতে)মুখোমুখি হতে হয়েছে। বারবার লেখক দেখেছেন বেসামরিক আমলাদের ওপর জেনারেলের ক্ষোভ। অনেকবার সাক্ষী হয়েছেন এমন ঘটনার যেখানে বৈঠকে জিয়া সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাকে ছোট কোনো ভুলের জন্য অত্যন্ত অপমান করেছেন। যেন রীতিমত আনন্দ নিয়ে এই কাজ করতেন জেনারেল!
কাজী ফজলুর রহমান নিজ মন্ত্রণালয়ে প্রথমে মন্ত্রী হিসেবে পান এয়ার ভাইস মার্শাল তোয়াবকে। যে লোক কোনোদিন বাংলাদেশকে ভালোবাসেনি।মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় পাকিস্তানিদের সাথে কাটিয়েছে সেই তোয়াব হয়ে যায় বিমানবাহিনী প্রধান! হয় মন্ত্রী। তোয়াবের চরিত্র ভালোই বিশ্লেষণ করেছেন লেখক।বোঝা যায়, স্বাধীন বঙ্গেও কতশত পদধারী পাকিস্তান সিনড্রোম কাটিয়ে উঠতে পারে নি।
ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জিয়ার কাছে ধরাশায়ী হয়ে বিদায় নেয় তোয়াব। এবার বিমানবাহিনী প্রধান হন বাশার। এক বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান বাশার। হাজির হন মাহমুদ। তিনি বিমান প্রধান।
এদিকে সায়েমকে সরিয়ে নাটক সমাপ্ত করেন জিয়া। একই সাথে রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান। নিঃসন্দেহে তথাকথিত গণতন্ত্র বজায় রেখে এমন পদবী ধারণ নিঃসন্দেহে অভূতপূর্ব। এরই মাঝে ঢাকায় জাপানি "বামপন্থী" দলের ছিনতাই করা বিমান নিয়ে ঢাকায় অবতরণ। মুক্তিপণের ঝঞ্জাটের মধ্যে বিমানবাহিনীতে বিদ্রোহ। দেশকে উত্তপ্ত করে তোলে। সরকারি হিসেবে, ১১ বিমান ও ১০ সেনা কর্মকর্তা মারা যায়। তারপর শুরু হয় বিমানবাহিনীতে আসল অভিযান। বগুড়ার সেনাবিদ্রোহকে কঠোর হাতে দমন করেন জিয়া।
এবার নিজেকে বৈধতাকে দিতে 'গণভোট' এর আয়োজন করেন জিয়া।রীতিমত 'আসল' প্রচারণা চালানো হয়। টিভিতে, রেডিওতে যেন সার্কাস শুরু হয়ে যায়। আর ভোট তো রেকর্ড করে ফেলে!
জিয়ার শাসনামল নিয়ে আরো বিস্তারিত ও গভীরভাবে জানতে কাজী ফজলুর রহমানের দিনলিপির প্রথম খন্ড খুবই সহায়ক বই। তবে যেহেতু এটি ব্যক্তির দিনপঞ্জি, তাই অনেক ব্যক্তিগত কথা এসেছে। পেশাদার আমলা কাজী ফজলুর রহমানের অভিজ্ঞতা বইকে সমৃদ্ধ করেছে আর আগ্রহীজনের জন্য রেখেছে বিশেষ আকর্ষণ।
১৫৬ পৃষ্ঠার বইটি প্রকাশ করেছে মাওলা ব্রাদার্স। স্বনামধন্য এমন একটি প্রকাশনীর বইতে যখন বানান সম্পাদনায় ঘাটতি পাই, প্রিন্টিংয়ে অযত্ন দেখি তখন সত্যিই খারাপ লাগে।
Profile Image for Emtiaj.
237 reviews86 followers
March 5, 2015
একটা ডায়েরি। সময়কাল ১৯৭৫ এর নভেম্বার ১ থেকে ১৯৭৭ এর ডিসেম্বার ৩১ পর্যন্ত। সময়টা খুব খারাপ ছিল বাংলাদেশের জন্য। এই সময়ের ঘটনাবলী লিখে রেখেছিলেন লেখক। উনি তখন কর্মরত ছিলেন পেট্রোলিয়াম ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে।

দেশটা আসলেই পাকিস্তানের পথে হাঁটছিল। একটা উদাহরণ দিলেই বোঝা যায়। (So Called) মন্ত্রী হয়ে এলেন এয়ার ভাইস মার্শাল তোয়াব। উনি ১৯৭১ এ পাকিস্তানীদের হয়ে যুদ্ধ করেছেন, পরাজিত হয়ে চলে গিয়েছিলেন জার্মানিতে। পরবর্তীতে দেশে এসে বিমান বাহিনীর প্রধান হয়ে গেলেন! ভদ্রলোক সব কিছুর জন্য দায়ী করেন 'মালাউনদের'। কথায় কথায় ধমকান, বলেন, 'দেখে নেব সব'!

মন্ত্রণালয়ের ��েতরের খবর ছাড়াও দেশের অন্যান্য খবর বেশ জানা গেল। অরাজক পরিস্থিতি, অভ্যুত্থান, পাল্টা অভ্যুত্থান, প্রতিশোধ গ্রহণ, রাজনীতির পল্টিবাজ ইত্যাদি, ইত্যাদি।

১৯৭৭ সালের নির্বাচন নিয়ে কয়েকটা লাইন পড়ে আমি না হেসে পারলাম না :D
অন্যদিকে টেলিভিশন, রেডিওতে জোর প্রচার চলছে, নাটক হচ্ছে। কোন কোন নাটকের মর্ম হলো ৩০ মে বিয়ে বন্ধ রাখব, মেয়েরা বাপের বাড়ি নাইওর যাওয়া বন্ধ রাখবে - কারণ ভোট দিতে হবে দেশের মঙ্গলের জন্য, ১৯ দফা বাস্তবায়নের জন্য।

সার্চ দিয়ে দেখলাম এ বইয়ের তিন খন্ড আছে। তিন খন্ড একসাথে প্রকাশ করলেই ভালো হত। অতৃপ্তি রয়ে গেল যে।
Displaying 1 - 2 of 2 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.