অল্প কিছুদিনের মধ্যে গ্রামের অন্ধকারেও বিদ্যুৎ হানা দিলো। কানধরা বালকের মতো খাম্বাগুলো একটার পর একটা দাঁড়িয়ে পড়লো গাছের পাশে। রোদে তারা হাসে না, বাতাসে তারা দোলে না, অবিচল দাঁড়িয়ে থেকে শাস্তিভোগ করছে শুধু। পাখিরা এইসব খাম্বাগুলোকেও অবহেলা করে না, ওড়াওড়ি থেকে ক্ষণিক অবসর নিয়ে এখানে বসে পৃথিবীটাকে দেখে, নিজেদের মধ্যে আলোচনা সভা বসায়, খোশগল্প করে, অথবা দুটি পাখি গা ঘেঁষাঘেষি করে প্রেম করে, অভিমান ভাঙ্গে। সন্ধ্যায় অন্ধকারের পেট ফেঁড়ে আলো ফুটে উঠে গ্রামে, রাতের পাখিরা তখন বিভ্রান্ত হয়, পানকৌড়িটা ঘন ঘন পথ হারায়। গ্রামের প্রায় কেউই বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত হল না, শুধু আমিই অন্ধকার পুষে বিদ্যুৎহীন রইলাম। গ্রামবাসীর কাছে আমার বাড়িটা আগের চেয়েও বেশি রহস্যময় এবং আরো বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠলো। ঘরে ঘরে আলো পৌঁছালেও মানুষের মনের গহীনে যে অন্ধকার ঘাপটি মেরে পড়ে আছে, একশো ওয়াটের বাল্বও সেই অন্ধকারের নাগাল পেল না।