বস্তুর গুণাগুণ জানা ও ব্যাখ্যাই এই সিরিজের লক্ষ্য।
দৈনন্দিন জীবনে আমরা নিত্য যেসব গেজেট ব্যবহার করি তারা প্রায় সবাই কঠিন বস্তুর বিচিত্র বৈশিষ্ট্যের কোনো-না-কোনো প্রয়োগের ফলেই সম্ভব হয়েছে। কি মুঠোফোন, কি ল্যাপটপ, অথবা টেলিভিশন বা ইন্টারনেট – সর্বত্রই নানারকম কঠিন বস্তু ব্যবহৃত হচ্ছে। আর কাজে লাগানো হচ্ছে তাদের বিচিত্র ইলেকট্রনীয় গুণাগুণ। অর্ধপরিবাহী পদার্থ আজ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু অর্ধ-পরিবাহী পদার্থের এই বিস্ময়কর জগৎ সম্পর্কে আমাদের বিজ্ঞান শিক্ষার্থীরা কিঞ্চিত বিমুখ। কারণ সেখানে মুগ্ধতা ও বাংলা বইয়ের অভাব। আজকের সেমিকন্ডাকটর ইন্ডাস্ট্রিতে বহু সংখ্যক বাংলাদেশী বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী কর্মরত আছেন। বিদেশে আমাদের সোনার সন্তানেরা দারুন ফসল ফলাচ্ছেন। গর্বের এই জায়গাটা ধরবার জন্য অপেক্ষাকৃত সহজ বাংলায় এই লেখনী-প্রয়াস। বইটি ১৬-থেকে-২৪ বছর বয়সের যেকোনো বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীর কাজে লাগবে।
ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী বিজ্ঞান পড়েন এবং পড়ান, বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করেন, সংগঠন করেন, লেখালেখিও করেন। তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞান-চর্চার নানা কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। বুয়েট থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেছেন, এখন সেখানেই পড়ান। ক্যানাডার ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি। বাংলা একাডেমীর একজন জীবন-সদস্য। উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা: ‘অপূর্ব এই মহাবিশ্ব’ (যৌথ, ২০১১), ‘মহাকাশের কথা (২০১১)’, ‘ন্যানো(২০১০)’, ‘অংকের হেঁয়ালি ও আমার মেজোকাকুর গল্প(২০০৭)’, ‘জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞান পরিচিতি(২০০০)’ এবং ‘জ্যোতির্বিজ্ঞান শব্দকোষ(১৯৯৮)’। বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত পাঁচ খণ্ডের বিজ্ঞান বিশ্বকোষের তিনি অন্যতম লেখক-সংকলক ছিলেন। তিনি বাংলা একাডেমী থেকে বাংলা ১৪০৫-১৪০৬ সনের ‘হালিমা-শরফুদ্দিন বিজ্ঞান লেখক পুরস্কার’ পেয়েছেন।