রফিককে তান্ত্রিক বলব, না অলৌকিক শক্তির অধিকারী বলব, ভেবে পাচ্ছি না। ওর জীবনটাই অলৌকিক ঘটনায় ভরা। অসহায়ের পাশে দাঁড়িয়ে ভয়ংকরের সঙ্গে লড়ে যাওয়া এক চরিত্র রফিক… তার জীবনের কিছু ভয়ংকর ঘটনা নিয়ে আগেই প্রকাশিত হয়েছিল ‘রফিক সমগ্র’, আরও কয়েকটি লেখা নিয়ে প্রকাশিত হল ‘রফিক সমগ্র ২’।
বাংলায় অন্ধকারের বিরুদ্ধে যোদ্ধার সংখ্যা নেহাত কম নয়। কিন্তু তাদেরও মধ্যে শংকর চ্যাটার্জির সৃষ্টি রফিক একটি অতি বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। তাত কারণ, একটি মাজারের রক্ষণাবেক্ষণ করতে থাকা মুসলিম হলেও সনাতন ধর্ম, শাস্ত্র, তন্ত্র বিষয়ে তার জ্ঞান অপরিসীম। সেই জ্ঞান এবং সাধনালব্ধ কৌশল ও মনোবলের সাহায্যে সে অপশক্তির দ্বারা আক্রান্ত মানুষকে সাহায্য করে। এই ছিমছাম, সুমুদ্রিত পেপারব্যাক বইয়ে তার তিনটি আখ্যান আছে। তারা হল~ ১. আঁচড়ের দাগ: এই নভেল্লাটি বইয়ের অর্ধেকের বেশি জুড়ে আছে। গল্পটি আপাত ঘরোয়া পরিবেশেও এমন ভয়োৎপাদক আবহ সৃষ্টি করছিল যে ফ্যান বন্ধ করে, রীতিমতো দেওয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে পড়তে হয়েছিল। এ একেবারে ভিন্টেজ শংকর চাটুজ্জের লেখা! ২. আত্মহত্যা মহাপাপ: এই গল্পটিও অত্যন্ত ঘরোয়া পরিবেশে শুরু হয়ে ক্রমে মারাত্মক চেহারা নেয়। ভালো লেখা, তবে অত ভালোও নয়। ৩. আঁধারে আলো: এই গল্পটা সাধারণ লয়ে চলতে-চলতে শেষে গিয়ে হঠাৎই মারাত্মক হয়ে গেছে। শেষটা পড়তে গিয়ে 'ভূত ভুতুম'-এর দিনগুলোর কথা মনে পড়ছিল— যখন লেখকের গল্প পড়ে দিনেদুপুরেও চাপ হয়ে যেত। অনেকদিন পর একটা গা-ছমছমে এবং ভীষণভাবে সম্ভাব্য ভূতের গল্পের বই পড়তে পেলাম। লেখককে সেজন্য ভরপুর ধন্যবাদ ও প্রণাম জানাই।
📕 বই~রফিক সমগ্র ২ ✒️ লেখক~শঙ্কর চ্যাটার্জি 🖼️ প্রচ্ছদ+🎨 অলংকরণ~কৃষ্ণেন্দু মন্ডল 🖨️ প্রকাশনা~অরুণ্যমন প্রকাশনী 💷মুদ্রিত মূল্য~২০০/- 📋পৃষ্ঠা~ ১৪৮
✨ আমার কথায়:-আগের পাঠ প্রতিক্রিয়াতেই জানিয়েছিলাম সিরিজ যখন শুরু করেছি,সেটা ভালো-মন্দ যাই লাগুক সে সিরিজটা কমপ্লিট করবোই।❝রফিক সমগ্র❞তার ব্যতিক্রম নয় বৈকি!বেশ এনগেজিং লাগছে পড়তে।
📝পাঠ অনুভূতি ১.এখানে লেখক তার মায়াময় লেখনীতে,আবার দক্ষ হাতে পর্বের ব্যবহার করেছেন।সর্বসাকুল্যে এতে তিনটি গল্প আছে।প্রথম দুটির আকার বেশ বড় (আঁচড়ের দাগ,আত্মহত্যা মহাপাপ) এবং শেষেরটি (আঁধারে আলো) তুলনায় অনেকটাই ছোট। ২.আঁচড়ের দাগ-"আঁচড়ের দাগ" শিরোনামের গল্পটি পড়ে, রীতিমত গায়ে কাঁটা দিচ্ছিল! উফফ! ৩.আত্মহত্যা মহাপাপ-আত্মহত্যা যে সত্যিই মহাপাপ, সেটা যে কোন মহৎ কার্য নয়,তার ছাপ রয়েছে এই গল্পটির রন্ধ্রে রন্ধ্রে। একটি মানুষ আত্মহত্যা করতে চাইছে এবং তার মাধ্যমেও যে,প্রেতের উপস্থিতি হতে পারে এই গল্পটি না পড়লে বুঝতে পারতাম না।গল্পটির বিল্ড আপ যথেষ্ট ভালো। ৪.আঁধারে আলো-সোহমের হাসিখুশি জীবনে নেমে এসেছে বিপদের ছায়া, লেগেছে তার শরীরে দুই আত্মার টানাপোড়েন, রফিকের দ্বারা সে কি ভালো হবে? সত্যি বলতে গল্পটির এক্সিকিউশন মন্দ ছিল না। তবে আমার মনে হয় লেখাটি শুরু করতে করতেই হঠকারিতা করে শেষ করে দিলেন লেখক।গল্পটি পড়ে আমার মনটা কোথাও গিয়ে ক্ষুন্ন হলো।
🦇যা কিছু ব্যক্তিগত এবং থিম বর্ণনা:- ১.প্রথমেই আমি বলেছি, লেখক এখানে রফিককে "তান্ত্রিক" নাকি "অলৌকিক শক্তির অধিকারী"বলতে চেয়েছেন সেটা নিয়ে নিজেই দ্বিধায় রয়েছেন, পুরোটাই তিনি পাঠকের উপরে ছেড়েছেন। আমিও তাই রফিককে আলাদাভাবে "তান্ত্রিক" আখ্যায় আখ্যায়িত করছি না,সেটি আপনারা নিজেরাই পড়ে বিবেচনা করুন। ২."রফিক সিরিজের"মেইন ইউএসপি হচ্ছে গল্প বলার ধরন(Storytelling), সেখানে রফিকের মাধ্যমে হালকা তন্ত্রকে যোগ করা হয়েছে।মোট কথা বলতে গল্প বলার সঙ্গে হালকা আঁচে তন্ত্রের ইন্ধনক্রিয়া জোগানো হয়েছে। ৩.এখানে রফিকের উপস্থিতি অনেকটাই সুপারহিরোর মত। কিন্তু তাই বলে এই নয় যে গোটা গল্পে বা স্ত্রিনেই তার উপস্থিতি (Presence) রয়েছে! যেটুকু সময়/সুযোগ (Time/Scope) তাকে দেওয়া হয়েছে সে সেটুকুই লুফে নিয়ে,গেম চেঞ্জ করে দিয়েছে। অতএব এক কথায় সে গেমচেঞ্জার (Game Changer) চরিত্র। ৪.প্রথম দুটো গল্প খুবই ভালো।শেষ গল্পটিতে লেখক, শঙ্কর জেঠুমনি নিজেই নিজের একটি ক্যামিও এনেছেন সেখানে। আমি ভেবেছিলাম গল্পটা কোথাও গিয়ে এগোচ্ছে, কিন্তু মূল ঘটনা ঘটার সময় বুঝতে পারলাম ঘটনা গুলো খুব জলদিই ঘটে গেল😬, ভাবার অবকাশই পেলাম না যে,কোথা থেকে কি হল!অর্থাৎ এখানে লেখকের চেনা ছন্দের যেন পতন ঘটল। অ্যাভারেজ লাগলো গল্পটা। ৫.❝রফিক সমগ্র ১❞এ যেরকম মুদ্রণ প্রমাদ পেয়েছিলাম,❝রফিক সমগ্র ২❞তে কিন্তু সেরকম মুদ্রণ প্রমাদ আমার চোখে আসেনি।যেটা সত্যি কথা বলতে খুব ভালো সাইন! তবে ওই যে আক্ষেপ! আরো কয়েকটা অলংকরণ থাকলে জমে যেত!এটাই মিস করছিলাম 🥹 আশা করছি সিরিজের পরবর্তী লেখাগুলোতে থাকবে ✨🌼 🌻পাঠ সুখকর হলো