পুজোর শহরে একের পর এক অদ্ভুত খুন। গার্হস্থ্য হিংসার শিকার যে মহিলারা, এই শহরে খুন হচ্ছে তাঁরা। খুনি তাদের অভিনয় ও মেকআপ শেখার টোপ দিচ্ছে। তারপর খুন করছে। এখানেও টুইস্ট আছে। যে মহিলারা মুখ বুজে সব সহ্য করছে, খুনি তাদেরকেই মারছে। লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের স্বয়ম্ভু সেন ও শিবাঙ্গী বসু তদন্তে নামে। সঙ্গে রাজারাম ও কৌশিক। খুনি ভিকটিমদের সামনে আসছে। ফাঁসাচ্ছে। কিন্তু কেউ খুনিকে চিনতে পারছে না। সিসিটিভি ফুটেজ, সারকমস্ট্যানশিয়াল এভিডেন্স সব ফেইল। কোথাও ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেই। ফুটপ্রিন্টও নেই। ফোন করছে, মেসেজ করছে কিন্তু লোকেশন মিলছে না। স্বয়ম্ভুর চারপাশে ছলনার মুখোশ পরে গোল গোল করে ঘুরে বেড়াচ্ছে কতগুলো মানুষ, বাণীকণ্ঠ, মন্দাকিনী, দিব্যময়, অতনু, বিমল, আয়ুষ্মান, সোমনাথ, কমলিনী এমনই আরও— আরও কিছু মুখ। আর আছে একটা শালিক পাখি। যার দুনিয়ায় পাপ বলে কিছু নেই। মিথ্যে বলে কিছু নেই। সবটাই সত্যি।
কিন্তু সত্যি বলে কি আদৌ কিছু আছে? নিজের টিমকে নিয়ে হারিয়ে যাচ্ছে স্বয়ম্ভু। ফেরার পথ দেখাবে কে?
শহর জুড়ে পূজোর তোড়জোড় তারই মাঝে একটা একটা করে খুন হয়েই চলছে। লালবাজারের দুঁদে গোয়েন্দা স্বয়ম্ভু সেন নেমে পড়েছে ময়দানে তাঁর টিমকে নিয়ে। রহস্যের পরোটার পর পরত খুলছে অথচ খুনির টিকি ধরতে নাভিশ্বাস উঠছে তাঁদের। এককথায় শিরদাঁড়া টান টান করে রাখব এই রহস্য, পাতার পর পাতা উল্টাতে বাধ্য করবে। মনের মধ্যে দাগ কাটবে নানা প্রশ্ন এই সমাজকে নিয়ে। এককথায় দারুন একটি উপন্যাস। কিন্তু, স্বয়ম্ভু সেন সিরিজ এর শুরু থেকেই স্বয়ম্ভু শিবাঙ্গী জুটিটা বড্ড মনে ধরে গেছে। দুজনের মনে দুজনকে নিয়ে আলতো অনুভুতি ও তার প্রকাশগুলো বড্ড ভালো লাগতো। সেখান রাজারাম এর উপস্থিতি একটু হতাশ করেছে আমায়, বিশেষ করে একদম শেষ পাতাটা। এটা অবস একান্ত ব্যক্তিগত মতামত। তবুও বলবো শিবাঙ্গীর সঙ্গে স্বয়ম্ভু কেই সবক্ষেত্রে মানায়।।