ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী তখন বিভক্ত হোয়াইট আর ব্ল্যাক টাউনে। এই কলিকাতা শহরেই হঠাৎ গুম হতে থাকল একের পর এক বাঈজী। আকস্মিকভাবেই কীভাবে যেন উধাও হয়ে যাচ্ছে তারা। কোথাও কোনও চিহ্নই নেই!
দালালদের অভিযোগের সূত্র ধরে শুরু হল পুলিশি তদন্ত। ক্রমশ উন্মোচিত হতে থাকল শহরের ইতিহাসে হয়তো-বা সবচেয়ে বড়ো স্ক্যান্ডাল- প্রবল প্রতাপশালী এক ধনাঢ্য জমিদার এবং তাঁর পরিবারের নারকীয় কুনীর্তি। সেই কেচ্ছার সঙ্গে একে একে জড়িয়ে পড়ল সমসাময়িক আরও অনেক রাঘববোয়ালের নাম। ঘটনাচক্রে তাঁরাও সকলে অভিজাত জমিদার শ্রেণি। স্বয়ং বড়োলাট উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের নামও জড়িয়ে পড়ে এই ঘটনায়! কিন্তু বর্তমান ইতিহাসে সেই ঘটনার কোনো উল্লেখ নেই।
কী সেই ঘটনা যাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এত আয়োজন? কে সেই নরপশু জমিদার যাঁর অপরিসীম লোভ, রিরংসা, ইন্দ্রিয়াসক্তি আর যৌনবিকৃতির শিকার একের পর এক অপরূপা সব নারী- নৃত্যগীত ছিল যাদের পেশা! কিছুটা ভিক্টোরীয় নীতিবাদী মানসিকতার প্রভাবে আর কিছুটা পরবর্তী প্রজন্মের হিরণ্ময় নীরবতায় কালের গর্ভে একসময় চাপা পড়ে যায় শোষণ, বঞ্চনা ও প্রতারণার সেই কুখ্যাত ইতিহাস। যু
গপৎ ধর্ষকামী ও মর্ষকামী সেই অন্ধকার সময়ের পর্দা- যার পিছনে অশ্রুত রয়ে গেছে অনেক নূপুরের ধ্বনি, অনেক অস্ফুট কান্না, অনেক হা-হুতাশ, দীর্ঘশ্বাস- পুনরায় উন্মোচিত হচ্ছে সৌরভ চক্রবর্তীর দুঃসাহসী ঐতিহাসিক থ্রিলার রাজনর্তকী উপন্যাসে।
স্মর্তব্য: দুর্বল হৃদয়, অপরিণতমনস্ক পাঠকদের জন্য এই উপন্যাস নয়। প্রাপ্তবয়স্করাই কেবল এই লেখা পড়বেন।
সৌরভ চক্রবর্তীর জন্ম ত্রিপুরার আগরতলায়। শৈশব কেটেছে ত্রিপুরার রাজধানীতেই। পড়াশোনা রাজন্য ঐতিহ্যবাহী উমাকান্ত একাডেমি বিদ্যালয়ে। বিজ্ঞান বিভাগের কৃতী ছাত্র ছিলেন। পরবর্তীকালে কারিগরি বিদ্যা নিয়ে স্নাতক। বিদ্যালয় জীবন থেকেই লেখার হাতেখড়ি। পরবর্তীকালে কলেজ জীবন থেকে ব্ল্যাকবোর্ড পত্রিকার মুখ্য সম্পাদক হিসেবে কাজ করা শুরু। একসময় চুটিয়ে করেছেন গ্রুপ থিয়েটার। বড়োদের জন্য গল্প লেখার শুরু তখন থেকেই। প্রথম প্রকাশিত গল্প 'ত্রিকালদর্শী' এবং প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'চতুর্থস্তন্ত' যথাক্রমে ২০০৭ এবং ২০১২ সালে। তখন থেকেই প্রেম-অপ্রেম, রহস্য-থ্রিলার, জীবনমুখী সমাজের সব লেখাতেই সমান স্বচ্ছন্দ। কিন্তু জঁর ফিকশন নিয়ে বাংলায় লিখে চলেছেন উল্লেখযোগ্য লেখা। ছোটোদের জন্যে লিখেছেন কিশোর-ভারতী, সন্দেশ-এর মতো ঐতিহ্যবাহী পত্রিকাগুলোতে। ত্রিপুরার শিশুমহল-এর জন্য একবছর টানা লিখেছেন জনপ্রিয় কমিক্স কলাম সিরিজ। এ ছাড়াও বিভিন্ন সংকলনে প্রকাশিত হয়েছে একাধিক জনপ্রিয় গল্প। 'শেষ গল্প'-র মতো অন্য ধারার গল্প লিখে বাংলা সাহিত্যের লেখক-পাঠক নির্বিশেষে পেয়েছেন অকুণ্ঠ ভালোবাসা। চন্দ্রহাস গ্রন্থের জন্য দেশ-বিদেশের পাঠকের কাছে সমাদৃত হয়েছেন। কলকাতা কসাইখানা-র মতো সাহসী রাজনৈতিক উপন্যাস লিখে পাঠকের হৃদয়ে চিরকালের মতো স্থায়ী আসন পেয়েছেন। একাধিক অডিয়ো স্টোরিতে পাঠ হয়েছে তাঁর লেখা। লেখকের লেখা থেকে ভবিষ্যতে তৈরি হতে চলেছে চলচ্চিত্র ও ওয়েব সিরিজ। ত্রিপুরায় রোগীদের স্বল্প মূল্যে চিকিৎসার জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন 'দ্য মেডিট্রাস্ট হেলথকেয়ার'। বর্তমানে কলকাতা নিবাসী, সময় পেলেই বিভিন্ন পরিচিত পত্রিকা ও ওয়েবজিনের জন্য কলম তুলে নেওয়া নিয়মিত অভ্যেস। গল্পের খোঁজে দেশ চষে বেড়ানো সাম্প্রতিককালে নেশায় পরিণত হয়েছে। প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ কলকাতা কসাইখানা, চন্দ্রহাস সিরিজ, মহাগুরু, উদ্ভব লিঙ্গ, মৃতকৈটভ সিরিজ, ব্রহ্মহত্যা, দেবী রাক্ষস ইত্যাদি।