অফিস থেকে বাড়ি ফেরার সময়ে রাহুল ফুটপাথ থেকে হঠাৎই একটা পুরোনো বই দেখতে পায়। বইটা প্রাচীন বিজয়নগর রাজ্যের রাজধানীর এবং তার নানা রহস্যময়তা নিয়ে লেখা। বইটা কেনার মুহূর্তে হঠাৎই একজোড়া ছেলে-মেয়ে উপস্থিত হয় এবং বইটা দাবি করে। কথা কাটাকাটি হলেও রাহুল বইটা ছাড়ে না। তারা দু-জন রাহুলের পেছনে পেছনে ধাওয়া করে বাড়ি অবধি। রাহুল বুঝতে পারে যে, বইটা কেনার পর থেকেই তার নানারকম অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হয়ে চলেছে।
এদিকে তার কলেজের বন্ধু পূষণ আর মিত্রা তাদের রাজীব জেঠুর সঙ্গে এক অভিযানে হাম্পিতেই যাচ্ছে। হয়তো সেখানে হেরুকের এক অজানা রহস্য উদ্ঘাটিত হবে। জানতে পেরে আর ওই বইটা পড়ে আগ্রহী হয়ে রাহুলও স্ত্রী সোহিনী আর মেয়ে রুমিকে নিয়ে তাদের সঙ্গে যোগ দেয়।
এদিকে, এই রহস্য অনুসন্ধানের খোঁজ পেয়ে প্রত্নচোরেরা এবং এই অভিযানের বিরোধী একটা গুপ্তসংঘ সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
শেষ অবধি কী হবে? হেরুকের রহস্য কি উদ্ঘাটিত হবে, নাকি, তা থেকে যাবে লোকচক্ষুর আড়ালেই?
সৌমিত্র বিশ্বাস-এর জন্ম ১৯৬৫ কলকাতায়। শিক্ষা নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুলে। পরে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের অর্থনীতির ছাত্র। অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর পাঠ শেষে রাজ্য সরকারের আধিকারিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। বাংলার অধ্যাপিকা মৈত্রেয়ী সরকারের অনুপ্রেরণায় আরও মনোযোগী হয়ে ওঠেন সাহিত্যে। দেশ পত্রিকা আয়োজিত রহস্য গল্প প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান লাভ করে তাঁর ‘মুখোশ’ গল্পটি। দ্বিতীয় গল্প ‘নাস্তিক’ও প্রশংসিত। প্রথম উপন্যাস ‘হেরুক’। আবাল্য সত্য সাইবাবার শিক্ষায় অনুপ্রাণিত মানুষটি ভালবাসেন আড়ম্বরহীন, সৎ জীবনযাপন আর সমাজসেবা। বই ও বন্ধুদের সঙ্গে মননশীল আড্ডায় সমান উৎসাহী।
Book Review 🔹 নাম – হেরুক ২ 🔹 লেখক – সৌমিত্র বিশ্বাস 🔹 দাম – ৩৯৫ টাকা 🔹 প্রকাশক – Book Farm 🔹 রেটিং – ৮/১০
পড়ে শেষ করলাম এবারের বইমেলার বহু প্রতীক্ষিত বই হেরুক ২!!
হেরুক ১ পড়ার পর অনেক প্রতীক্ষা করতে হয়েছে, আজ তার সমাপ্তি। এই গল্পে ফিরছে পুষণ, মিত্রা, রাজীব এবং তাদের সঙ্গে আছে রাহুল ও সোহিনী। এবার এই বইয়ের একটা রিভিউ দেওয়া যাক।
📌 ১. গল্প 🧩 এবারের গল্পের পটভূমি হাম্পি!! যেখানে আগে ছিল বিজয়নগর সাম্রাজ্য। কিন্তু তারও আগে সেখানে বেশ কিছু বৌদ্ধ তান্ত্রিক তন্ত্রসাধনা করতেন। কিন্তু বিজয়নগরের রাজা কৃষ্ণদেব রায়ের আমলে তিনি এই তন্ত্রসাধকদের উৎখাত করেন, আর তারাও তাদের আরাধ্য দেবতাকে লুকিয়ে ফেলে!!
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে রাজীবের ওপর ভার পড়েছে সেই লুকোনো ইতিহাস খুঁজে বার করার!! - কিন্তু সেই ইতিহাসটা কি আদৌ সত্যি, নাকি একটা গল্প? - কোনো একটা গ্রুপ কি চায় না যে এই ইতিহাসটা খুঁজে বার করা হোক? - কেউ কি ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে রাজীব আর তার সঙ্গে থাকা পুষণ, মিত্রা, রাহুল এবং সোহিনীকে? তারা কারা? - রাজীব কি পুরোনো ইতিহাস খুঁজে পাবেন? এই সবকিছু নিয়েই এই গল্প।
গল্পের গতি দুর্দান্ত। আর একবার পড়তে শুরু করলে সত্যিই ছাড়তে বেশ কষ্ট হয়। কারণ মনে হয়—আর একটু পড়ি, তাহলে এর পরে কী হয়েছে জানতে পারব।
📌 ২. পাতার কোয়ালিটি ও ছাপা 📄 বুক ফার্মের বই মানেই যে দারুণ সুন্দর করে বানানো বই—সেটা তো নিউটনের চতুর্থ সূত্রের মতোই establish করে নেওয়া যায়। কাজেই এটা নিয়ে আর কিছু বললাম না।
📌 ৩. Presentation 🎨 বইয়ের প্রেজেন্টেশনও বেশ ভালো লেগেছে। পয়েন্ট বাই পয়েন্ট বলি তাহলে—
1️⃣ প্রচ্ছদ – বইটার প্রচ্ছদ দুর্দান্ত। কালো, লাল, হলুদ রং একসঙ্গে একটা ভয় এবং একটা অমোঘ আকর্ষণের আবহ তৈরি করেছে, এবং একই সঙ্গে এই প্রচ্ছদে হেরুক ১-এর প্রতি একটা সুন্দর callback আছে।
2️⃣ Illustrations – খুব বুদ্ধির সঙ্গে এই বইয়ের illustrations গুলো বানানো হয়েছে, আর সেটা ভালো লেগেছে। তবে কোনো একটা ছবিতেও রাজীব, পুষণ, মিত্রা, রাহুল বা সোহিনীকে দেখতে পেলাম না! দেখতে পেলে ভালো লাগত।
📝 শেষ কথা সব মিলিয়ে দুর্দান্ত বই। তবে একটা কথা বলতেই পারি—গল্পের শেষে মনে হতে পারে যে এখান থেকে আবার অপেক্ষার শুরু। কিছু clue পাওয়া যেতে পারে গল্প পড়তে পড়তে। আমরা কি পেয়েছি, সেটা বললাম না, কারণ অন্যদের পড়ার মজা নষ্ট করতে চাই না। তবে বইয়ের শেষে যে প্রশ্নটা সবাই প্রকাশককে করবে, সেটা হলো— হেরুক ৩ কোথায়?