তীব্র শীত আর তুষারপাতের মধ্যে পাহাড়ে আটকা পড়েছে উইল ক্যালকিন। পর্যাপ্ত খাবার নেই, গরম কাপড় নেই, নেই যথেষ্ট জ্বালানীও... শীতে অনভিজ্ঞ নাতচিরা বোঝা হয়ে দাড়িয়েছে ওদের জন্য, কিন্তু কিছুই করার নেই। না চাইলেও এদের দায়িত্ব নিতে হলো উইলকে। সুযোগের অপেক্ষায় ওঁৎ পেতে আছে নাকাপা, শীত বা তুষার আটকাতে পারবে না ওকে, জানে উইল। নাতচীরা গ্রামে ফিরে যেতে উদগ্রীব, কিন্তু যাবে কীভাবে? নৃশংস কনেজেরো, উতে আর টেনসারা ছাড়াও রয়েছে নাকাপার দলবল। যে কোন মূল্যে ইশাকোমিকে কব্জা করতে চায় নাকাপা। উটকো ঝামেলা হয়ে দেখা দিলো স্পেনিশরা, না চাইলেও ওদের সঙ্গে ব্যক্তিত্ব আর ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ল উইলরা... শুরু হলো টিকে থাকার মরণপণ লড়াই। সাধারণ যোদ্ধাদের নিয়ে রুখে দাঁড়াল উইল। পণ করেছে, মরবে তবু কাউকে ছাড় দেবে না! এটা পশ্চিমের সেই সময়ের গল্প, যখন হাজার মাইলের মধ্যেও একজন বন্ধু বা শুভাকাঙ্ক্ষী জুটত না; সাদা, স্পেনিশ, ইন্ডিয়ান কিংবা এমনকী বুনো পশু... সবার পরিচয় - শত্রু। করণীয়ও একটাই -হয় মারো, নয়তো মরো!
প্রথমেই বলে রাখি "ওসমান + স্লোন +ক্যালকিন" তিনটি সিরিজ লুই লামুরের " স্যাকেট " সিরিজ থেকে নেয়া। এই বইটা পড়ার পূর্বে রওশন জামিল ভাইয়ের " জলদস্যূ +নীলগিরি " বই দুইটা পড়ে নিতে হবে। কারন এই বইয়ের কাহিনী নীলগিরি বইয়ের ঠিক পরের কাহিনী। এই বইটা আসলে ওসমান সিরিজে থাকা উচিৎ ছিলো।
উইল ক্যালকিন তার বাবা ব্রায়ান ক্যালকিনের নির্দেশে গহীন পশ্চিমে যাত্রা করে এক নতুন বসতির খোজে। ওকে ট্রেইল করে ক্যাল্প শিকারী এক কিকাপু ইয়োটাহ ইন্ডিয়ান। এক সময় শত্রু পরিণত হয় বন্ধুতে। তার কাছেই উইল জানতে পারে বাবার মৃত্যুর খবর। এবার দুজন মিলে গ্রেট রিভার পেরিয়ে চলছে ফার সীয়িং ল্যান্ড এর খোজে। যেখানে গড়ে তোলা যাবে নতুন ক্যালকিন বসতি। এ্যাকশন, এ্যাডভেঞ্চার আর সারভাইভালে ঠাসা পুরো মাত্রার একটা রোমাঞ্চকর বই।