এটা এমন এক সময়ের গল্প যখন পশ্চিমের বেশিরভাগ অংশ অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে, শুধু ইন্ডিয়ানদেরই বসবাস ওখানে; আবার এমনও জায়গা আছে, যেখানে দুঃসাহসী ইন্ডিয়ানরাও যাওয়ার সাহস করে না। কিন্তু উইল ক্যালকিনের কাছে এগুলো কোন বাধাই নয়। নতুন বসতির খোঁজে পশ্চিমে রওনা দিয়েছে সে; এমন জায়গায়, যেখানে কখনও পা রাখেনি কোন সাদা মানুষ। নাতচি এক ওঝা প্রায় অসম্ভব একটা দায়িত্ব চাপিয়ে দিল ওর কাঁধে। নাতচি অভিযাত্রী দলটাকে খুঁজে বের করতে হবে, রাজকন্যা ইশাকোমিকে সংবাদ পৌঁছে দিতে হবে। দলটার নেতৃত্ব দিচ্ছে ইশাকোমি। নাতচিদের সর্বচ্চো সম্মানের অধিকারী-গ্রেট সান হবে মেয়েটি, কিন্তু আগে তো গ্রামে ফিরে যেতে হবে! হিংস্র নাকাপা পণ করেছে জোর করে হলেও বিয়ে করবে ইশাকোমিকে। দলবল নিয়ে আগেই রওনা দিয়েছে সে, চলার পথে একের পর এক খুন করে চলেছে। শত মাইল দীর্ঘ যাত্রায় কতই না বিপদ! খোদ প্রকৃতি সবচেয়ে নিষ্ঠুর শত্রু! দুর্ধর্ষ কোমাঞ্চিরা নির্বিচারে খুন করছে অন্যদের, সে সাদা বা ইন্ডিয়ান যেই হোক। রয়েছে হিংস্র স্প্যানিশরা। ইশাকোমিকে রক্ষা করবে কি, নিজের জান বাঁচানোই কঠিন হয়ে পড়ল উইলের জন্য।
প্রথমেই বলে রাখি "ওসমান + স্লোন +ক্যালকিন" তিনটি সিরিজ লুই লামুরের " স্যাকেট " সিরিজ থেকে নেয়া। এই বইটা পড়ার পূর্বে রওশন জামিল ভাইয়ের " জলদস্যূ +নীলগিরি " বই দুইটা পড়ে নিতে হবে। কারন এই বইয়ের কাহিনী নীলগিরি বইয়ের ঠিক পরের কাহিনী। এই বইটা আসলে ওসমান সিরিজে থাকা উচিৎ ছিলো।
উইল ক্যালকিন তার বাবা ব্রায়ান ক্যালকিনের নির্দেশে গহীন পশ্চিমে যাত্রা করে এক নতুন বসতির খোজে। ওকে ট্রেইল করে ক্যাল্প শিকারী এক কিকাপু ইয়োটাহ ইন্ডিয়ান। এক সময় শত্রু পরিণত হয় বন্ধুতে। তার কাছেই উইল জানতে পারে বাবার মৃত্যুর খবর। এবার দুজন মিলে গ্রেট রিভার পেরিয়ে চলছে ফার সীয়িং ল্যান্ড এর খোজে। যেখানে গড়ে তোলা যাবে নতুন ক্যালকিন বসতি। এ্যাডভেঞ্চার আর সারভাইভালে ঠাসা পুরো মাত্রার একটা রোমাঞ্চকর বই।