এরফানের সাত বছর বয়সের ছেলে কেবল একটা ছুরি আর পানির বোতল সম্বল করে, বিভিন্ন রকম বিপদের মোকাবিলা করে তিন বছর বয়সের মেয়ের সমস্ত ভার নিজের কাঁধে নিয়ে কিভাবে বাবার সাথে মিলিত হতে এত মাইল পথ পাড়ি দিল? তারই এক চমকপ্রদ বর্ণনা।
কাজি মাহবুব হোসেনের লেখা দিয়ে ওয়েস্টার্ন সিরিজের যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৩ সালে। কাজি মাহবুব হোসেন ওয়েস্টার্ন সিরিজ ছাড়াও পিশাচ কাহিনী ও অনুবাদের বেশ কিছু বই লিখেছিলেন যা অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। এবং তাঁর প্রথম বই অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছিলো ১৯৮২ সালে।
এরফানের সাত বছরের ছেলে জিম। বেড়াতে গিয়েছিল কলিন্সদের ফার্মহাউজে। কিছুদিন থাকার পর বাবার জন্য মন কেমন করায়,কলিন্সদের সাথে ওয়াগনে করে ফেরার পথ ধরলো। একদিন তাদের ওয়াগনে ইন্ডিয়ানদের আক্রমণ হলো। মিস্টার এবং মিসেস কলিন্স খুন হলেও, ভাগ্যগুণে বেঁচে গেলো জিম আর কলিন্সদের তিন বছরের মেয়ে লীয়া। কিন্তু বুনো পশ্চিমের পদে পদে বিপদ আর মৃত্যুর হাতছানি এড়িয়ে যেখানে বড়রাই টিকে থাকতে পারেনা,সেখানে দুই শিশু কীভাবে কী করবে?
বাবার কাছে শেখা বিদ্যা কাজে লাগালো জিম। এগিয়ে চললো সামনের দিকে। যেভাবেই হোক বাবা এরফান জেসাপের কাছে পৌঁছাতে হবে তাকে। সঙ্গী লীয়া,বিগ রেড নামের এক ঘোড়া আর পদে পদে ওৎ পেতে থাকা বিপদ। ওদিকে সাথে থাকা ঘোড়ার লোভে তাদের পিছু নিলো এক ইন্ডিয়ান। ঘটনাক্রমে আরও দুই খুনীর লক্ষ্যবস্তুুতে পরিণত হলো জিম, লীয়া আর বিগ রেডের ছোট্ট টিমটা। অচেনা পশ্চিমের অজানা বিপদ এবং বুনো জন্তুদের এড়িয়ে চললেই হবেনা, ভয়ানক দুই দুইটা দলের থেকেও নিরাপদ থাকতে হবে৷
শুরু হলো মানবসভ্যতার সেই আদিম তাড়না। বিপদের বিরুদ্ধে টিকে থাকার সংগ্রাম। ছোট্ট শিশুদুটো কী পারবে সমস্ত বিপদ এড়িয়ে এরফানের কাছে পৌঁছাতে? বইটা পড়ার সময় সারাক্ষণ এই দুশ্চিন্তাটা মাথায় ঘুরছিল। ছোট্ট বাচ্চা জিমের কর্মকাণ্ডে মুগ্ধতা উত্তরোত্তর বাড়ছিল। আবার কখনো দমবন্ধ করে অপেক্ষা করছিলাম চরম বিপদের মুখে সে কী করবে তার অপেক্ষায়। সবশেষে দারুণ মুগ্ধতা নিয়ে শেষ করেছি বইটা। চমৎকার গল্পের সাথে পশ্চিমের অসম্ভব সুন্দর বর্ণনা আচ্ছন্ন করে রেখেছিল পুরোটা সময়। এ যেন বই নয়, একটা সিনেমা দেখলাম।
This will always be one of the best wild west books to ever exist. Qazi Mahbub Hossain is the eternal king of the western genre in Bangla, this book is proof of that.