কদল সশস্ত্র জঙ্গি বাড়িতে ঢুকে আচমকা পণবন্দি করে ফেলেছে প্রাক্তন আইপিএস অফিসার সান্যাল সাহেব আর তাঁর নাতনি সৌমিকে। তাদের লক্ষ্য সান্যাল সাহেবের মেয়ে ঈশানীকে দিয়ে কিছু কাজ করিয়ে নেওয়া। সেই কাজ করে না দিলে দু’জনকে মেরে ফেলা হবে। একটা ডেলিভারি করতে এসে পাঁচশ টাকা বখশিস পেয়ে সান্নিধ্য খুব অবাক হল। সেই টাকার সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারল শহরে জঙ্গিরা প্রবেশ করেছে। তবে জঙ্গিদের লক্ষ্য কলকাতা নয়, আগরা। আরও নিখুঁতভাবে বললে, তাজমহল। আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট চাঁদনি রাতে তাজমহল দেখতে চান। আর জঙ্গিরা চায় ওই সময় বিস্ফোরণ ঘটাতে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী দেশে বসে চলেছে এই নাশকতার পরিকল্পনা। শুধু সান্যাল সাহেবের পরিবার নয়, এই ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে গিয়েছেন আর্কিওলজিক্যাল সার্ভের কর্তাব্যক্তিরাও। ভারতের সিক্রেট সার্ভিস রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং এবং আমেরিকার সিআইএ একত্রে এই পরিকল্পনা বানচাল করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। শেষ পর্যন্ত কি তাজমহল সন্ত্রাসের হাত থেকে বেঁচে যাবে? ধরা পড়বে জঙ্গিরা?
কাজল ভট্টাচার্যের জন্ম কলকাতায়, ১৯৭১ সালে। পড়াশোনা কলকাতায়। আধুনিক ইতিহাসে এম. এ.। সাংবাদিকতা ও জনসংযোগ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা। লেখালেখির সূচনা কৈশোরে। প্রথম মুদ্রিত রচনা ১৯৮৪-তে একটি বিজ্ঞান পত্রিকায়, এ ছাড়া লিখেছেন আনন্দবাজার, বর্তমান, যুগান্তর, দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকা এবং বহু সাময়িকপত্রে। সংবাদপত্রে চাকরি দিয়ে পেশাপ্রবেশ, বর্তমানে রাজ্য সরকারের আধিকারিক। বই পড়তে, গান শুনতে এবং বেড়াতে ভালোবাসেন৷
The book is a spy thriller written in the Bengali language by Indian author Kajal Bhattacharya. The plot revolves around a terrorist conspiracy to blow up the Taj Mahal while the Vice President of the US is visiting the monument.
Like all books in this genre, the usual cast of secret agents, terrorists, cops, moles, traitors and ordinary people caught in the cross-fire populate the story.
I found the narrative to be crisp, fast paced and engaging.
If you are in the mood for a quick-read thriller, then I would recommend this novel.
ভারতে আসছেন মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি। তাজমহল— যার সৌন্দর্যের খ্যাতি তিনি শুনে এসেছেন আজন্ম— রয়েছে তাঁর দ্রষ্টব্যের তালিকায়। এই খবর পেয়ে, কূটনৈতিক অবস্থানের দিক দিয়ে ভারতকে চূড়ান্ত অপদস্থ করতে তাজমহলে নাশকতার ছক কষল এক প্রতিবেশী রাষ্ট্র। কিন্তু নিরাপত্তার বেষ্টনী পেরিয়ে তাজের মধ্যে তারা বিস্ফোরক রাখবে কীভাবে? তার জন্য ভয়ংকর চাপ সৃষ্টি করা হল তাজে কর্মরত এক প্রত্নতাত্ত্বিকের উপর। তাঁর পরিবারকে পণবন্দি করে ফেলা হল। তারপর? আর কে-কে জড়িয়ে আছে এই ষড়যন্ত্রে? সামান্য সন্দেহ হলেই যেখানে বন্দিদের জন্য অপেক্ষা করছে অত্যাচার, এমনকি মৃত্যু, সেখানে কীভাবে ভারতীয় নিরাপত্তা বলয়কে এই বিষয়ে জানানো হবে? কীভাবে মুক্ত হবে বন্দিরা? কীভাবে ব্যর্থ করা যাবে এই ষড়যন্ত্রকে? ঘরোয়া রাজনীতির নিরিখে এপার বাংলায় বেশ কিছু পলিটিক্যাল থ্রিলার লেখা হয়েছে সম্প্রতি। কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনীতি, কূটনীতি, সন্ত্রাস— আর তাদের সবাইকে চালিত করা ধর্মীয় বিদ্বেষ নিয়ে কিছু লেখা বড়োই কঠিন কাজ। শুধু লেখনী নয়; এমন রচনার জন্য প্রয়োজন কঠোর রিসার্চ, মিলিটারি ইনটেলিজেন্সের বাস্তবিকতা, আর সাহস। কাজল ভট্টাচার্যের লেখনী, গবেষণার গভীরতা এবং চরিত্র-চিত্রণ নিয়ে কোনো সংশয়ের অবকাশ ছিল না। তবে এই লেখাটি পড়া শুরুর আগে একটাই কথা মনে হয়েছিল। এই দীর্ণ উপমহাদেশে এমন এক বিস্ফোরক বিষয় নিয়ে থ্রিলার কি শেষ অবধি থ্রিলিং হবে, নাকি তা পর্যবসিত হবে সরকারি প্রোপাগান্ডায়? বইটি শেষ করে দায়িত্বের সঙ্গেই বলতে পারি, প্রথম থেকে শেষ অবধি এই বই এক রুদ্ধশ্বাস থ্রিলার। এতে বিভিন্ন ঘটনা ও চরিত্রকে চালিত করেছে রাজনীতির মন্ত্রীরা। বোড়ে হয়ে মরেছে নানা ধর্মের, নানা ভাষার মানুষ। কারও ঘটেছে উত্তরণ, কেউ বা তলিয়ে গেছে রিপুর জালে। এমনকি অন্তিম লাইনে গিয়েও বইটা আমাদের মনে-মনে তৈরি করেছে এই অন্তহীন চতুরঙ্গের পরের মোলাকাতের জন্য। কিন্তু বইটা এক মুহূর্তের জন্যও পাঠককে শিথিল হতে দেয়নি— সত্যিকারের থ্রিলারের ঠিক যেমন হওয়া উচিত! বইটিতে কিছু অনভিপ্রেত মুদ্রণ-প্রমাদ আছে। গল্পের গতিতে সেগুলো পেরিয়ে যাই ঠিকই, তবে পরবর্তী মুদ্রণে এগুলো শুধরে নেওয়াই কাঙ্ক্ষিত। বইটাতে একটাও ছবি নেই বলে কিঞ্চিৎ হতাশ হলাম। এমন একটা দুর্দান্ত গল্পে কিছু সাদা-কালো অলংকরণ, আর কিছু মানচিত্র বা স্কেচ-ম্যাপ বড্ড জরুরি ছিল। পরবর্তী সংস্করণে কি এই নিরিখে কিছু করা সম্ভব? হলে বড়ো ভালো হয়। সব মিলিয়ে এই বই এপার বাংলায় আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও সন্ত্রাস নিয়ে লেখা সেরা ক'টি উপন্যাসের মধ্যে অন্যতম বলেই আমার ধারণা। যদি গতিময়, অ্যাকশন ও ইমোশনে ঠাসা থ্রিলার পছন্দ করেন, তাহলে এই বইটি আপনার জন্যই লেখা হয়েছে।
'Unputdownable' this word can only be attributed to this work. Better than many popular international thrillers.. Detailed research work of the author shows up in every part of the book... Very realistic and yet it will hook you up till the last page.