অবসরজীবনের কাছে চলে এসেছেন উপমন্যু। ছুটি নিয়ে ঘরে বসে থাকলেও হতো। কিন্তু তার সেটা পছন্দ নয়। তিনি নিজের মত করে তদন্ত করে চলেন। গড়পড়তা গোয়েন্দাদের মত তার কোন সাগরেদ নেই। সিস্টেমে থেকেই তিনি সমাধান করেন রহস্যের। যেখানে দেখিবে ছাই এবং নিখুঁত খুন উপমন্যুর প্রথম দুটি কাহিনি। যেখানে দেখিবে ছাই কাহিনিতে খুন হয়েছে উত্তরবঙ্গ থেকে এসে কলকাতায় পিজিতে থাকা মেয়ে। সে কেন খুন হয়েছে? বিপথে চালিত হবার জন্যই কি সেই খুন?
নিখুঁত খুনে খুন হয়েছেন গৃহবধূ। দুটি ক্ষেত্রেই কাহিনির থিম "কাম" রিপু। উপমন্যু কীভাবে সমাধান করলেন এই খুনগুলোর?
মফস্বল শহর অশোকনগরে বেড়ে ওঠা। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন হেরিটেজ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে। ছোটবেলা থেকেই পড়ার বইয়ের পাশাপাশি গল্পের বইয়ের নেশা ছিল। লেখার নেশা জাঁকিয়ে বসে কলেজে পড়াকালীন৷ ওই সময়েই "আদরের নৌকা" লিটল ম্যাগ প্রকাশের মাধ্যমে সাহিত্য জগতে প্রবেশ। প্রথম বই ২০০৮ সালের বইমেলাতে প্রকাশিত হয় , "এক কুড়ি গল্প"। পরবর্তী কালে অফিস থেকে ফিরে ফেসবুকে লিখতে বসা এবং ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পাওয়া।
গান গাইবার পাশাপাশি ঘুরতে, ফটোগ্রাফি করতে ভালবাসেন লেখক।
প্রথমে শুরু করা যাক এই উপমন্যু কে তাকে দিয়ে, প্রায় সকল গোয়েন্দা চরিত্রেই দেখা যায় কোন কমবয়সী যুবক বা যুবতী কে, সেখানে উপমন্যু হলেন প্রায় অবসরপ্রাপ্ত একজন কলকাতা গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ অফিসার তার অবসর জীবনের বাকি দু এক বছর , কোন সহকারী ছাড়া সিস্টেমের মধ্যে থেকে তিনি কেস গুলো সলভ করেন বা সলভ করার চেষ্টা করেন। এই উপন্যাস সংকলন টি হল উপমন্যু প্রথম ও দ্বিতীয় উপন্যাস, প্রথম উপন্যাসটি , নিখুঁত খুন সিরিয়াল কিলার দ্বারা এক গৃহবধূ খুন, স্বাভাবিকভাবেই কলকাতা পুলিশের থেকে কেসটি এসে পড়ে কলকাতায় ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের অফিসার উপমন্যুর হাতে, তদন্ত করতে করতে একে একে বেরিয়ে পড়ে গৃহবধূটির অবৈধ সম্পর্ক এবং তার স্বামী সুশান্তের অতীতের ড্রাগের রেকর্ড। তদন্ত চলাকালীন তিনি হঠাৎ করে খেয়াল করেন এই সুশান্ত ছেলেটি অত্যন্ত ভালো বা একটি খারাপ স্বভাব হলো সবকিছু খুব নিখুঁতভাবে করা ,খুনটিও কি সে করেছে, নাকি গৃহবধূটির অবৈধ প্রেমিক? নাকি খুনটির পেছনে অন্য কারো হাত আছে?উপমন্যু কি পারবে এটি সমাধান করতে? যেখানে দেখিবে ছাই উত্তরবঙ্গ থেকে পড়তে আসা এক তরুণী জয়িতা হঠাৎ করেই তাকে কেউ খুন করে ফেলে রেখে যায় রাস্তায় এবং তার ফোনটি উধাও হয়ে যায়, এবারও তদন্তের ভার গিয়ে পড়ে উপমন্যু কাছে, তদন্ত চলাকালীন জয়িতার ভিন্ন সম্পর্ক, উৎশৃংখল জীবন যাপন ও তার সাথে সাথে তার কল সেন্টারে চাকরি ছেড়ে অন্য এক চাকরির প্রস্তুতি ধরা দেয় উপমন্যুর সামনে। ২১ বছরের মেয়েটিকে কারা বা কে খুন করল? নাকি জয়িতা কিছু জানতে পেরেছিল, জয়িতার ফোনটি বা কোথায় গেল? কোন মানুষের ফোন ছাড়া কি তাকে চেনা সম্ভব? পারবে কি উপমন্যু কেসটা সলভ করতে? পুরোটা জানতে হলে উপন্যাসটা পড়তে হবে। এই গেল উপন্যাস দুটি কথা, এবার আসা যাক উপন্যাসটি পড়ে আমার কেমন লাগলো ,অত্যান্ত টানটান এবং সহজ সরল লেখনি এবং দুটি উপন্যাসেরই লাস্টের টুইস অসাধারণ। পড়তে পড়তে একবারও গেস করতে পারবেন না খুনি কে। এক কথায় অসাধারণ এক উপন্যাস সংকলন যাদের পড়া নেই প্লিজ পড়বেন।
📖 লালবাজারের গোয়েন্দা উপমন্যু । তিনি কোনো 'সুপারকপ' নন । গড়পড়তা গোয়েন্দাদের মত তার কোনো সাগরেদ নেই । তিনি নিজের মত করে তদন্ত করে চলেন । সিস্টেমের মধ্যে থেকেই তিনি সমাধান করেন রহস্যের । অবসরজীবনের কাছাকাছি চলে এসেছেন উপমন্যু । ছুটি নিয়ে ঘরে বসে থাকলেও হতো । কিন্তু তার সেটা পছন্দ নয় ।
▫️এই বইয়ে আছে লেখক অভীক দত্তের লেখা 'উপমন্যু' সিরিজের প্রথম দুই উপন্যাস - 'যেখানে দেখিবে ছাই' এবং 'নিখুঁত খুন'।
📖 'যেখানে দেখিবে ছাই' কাহিনিতে খুন হয়েছে উত্তরবঙ্গ থেকে এসে কলকাতায় পিজিতে থাকা একটি মেয়ে । উপমন্যুর হাতে কোনো ক্লু নেই । খুনটাও করা হয়েছে ভীষন পেশাদারী কায়দায় । কেন খুন হয়েছে মেয়েটি ? বিপথে চালিত হবার জন্যই কি সেই খুন ?
📖 'নিখুঁত খুন' কাহিনীতে খুন হয়েছেন এক গৃহবধূ । এই খুনটিও কোনো পেশাদার খুনির কাজ । আপাতদৃষ্টিতে সন্দেহ গিয়ে পড়ে মৃতার স্বামীর দিকে, যিনি পেশাগত এবং সামাজিক দুটি ক্ষেত্রেই নাকি ভীষন 'নিখুঁত' কাজকর্ম করে থাকেন । কিন্তু খুনের প্রমাণ কই ?
▫️দুটি অপরাধের ক্ষেত্রেই মূল ভূমিকা একটি বিশেষ 'রিপু'র । কোন্ রিপু ? উপমন্যু-ই বা কীভাবে সমাধান করলেন এই খুনগুলোর ?
📕 পাঠ-প্রতিক্রিয়া : দুর্দান্ত !!
▫️লেখক অভীক দত্তের লেখনীর সাথে আমার প্রথম পরিচয় এই বইটির মাধ্যমেই । বুঝলাম তিনি ঠিক কেন এত জনপ্রিয় । এই বইয়ের উপন্যাস দুটির সম্পর্কে এককথায় বললে বলতে হয় 'আনপুটডাউনেবল্'।
▫️দুটি উপন্যাসেই উঠে এসেছে ভীষন বিশ্বাসযোগ্য পুলিশি তদন্ত, এতটাই সাধারণ যে কোথাও একেবারের জন্যেও লেখাটিকে 'অবাস্তব' মনে হয়নি । ছোট ছোট বাক্য এবং নির্মেদ লেখনীতে সাজানো এই দুটি কাহিনীর গতি 'দুদ্ধর্ষ' । রহস্যের সমাধান এবং ক্লাইম্যাক্স অংশগুলি পড়তে পড়তে রীতিমতো স্তব্ধ হয়ে যেতে হয় । এছাড়াও 'উপমন্যু'র মতো একটি চরিত্র সৃষ্টি করার জন্য লেখককে অনেক কুর্নিশ জানাই ।
অভিক দত্তের ‘উপমন্যু প্রথম দুই’ পড়তে গিয়ে একদম আলাদা ধরনের একজন ডিটেকটিভের সঙ্গে পরিচয় হল।
উপমন্যু কোনও ‘সুপারহিউম্যান’ গোয়েন্দা নন। তিনি একজন একেবারে সাধারণ মানুষ, তবে CID-এর একজন অভিজ্ঞ অফিসার। তাঁর ডিডাকশনে সেই চমক দেখানোর চেষ্টা নেই—খুব স্বাভাবিক, বাস্তবসম্মত পুলিশি পদ্ধতিতেই তিনি অপরাধের কিনারা করেন। আর এই স্বাভাবিকতার মধ্যেই ধীরে ধীরে বোঝা যায় তাঁর অসাধারণ বুদ্ধি, পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা এবং অভিজ্ঞতার গভীরতা।
এখনকার বাজারে যেখানে অনেক ডিটেকটিভ চরিত্রকেই অতি-মানবিক deduction আর লোক দেখানো বুদ্ধির প্রদর্শন দিয়ে আলাদা করে তোলার চেষ্টা করা হয়, সেখানে উপমন্যু একেবারেই অন্যরকম। কবজির নিচে নীল দাগ দেখে কেউ কখন সকালে ঘুম থেকে উঠেছে—এমন ম্যাজিকের সঙ্গে একজন crime solver-এর কী সম্পর্ক, সেটা সত্যিই বুঝি না! 😄
উপমন্যু স্যার ঠিক তার উল্টো—তিনি বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকা একজন গোয়েন্দা। তাঁর তদন্তের পদ্ধতি যতটা স্বাভাবিক, তাঁর বুদ্ধিমত্তাটা ততটাই অসাধারণ।
প্রথম দুই কেস পড়েই চরিত্রটা বেশ ভালো লেগে গেল। এবার বাকি কেসগুলোও খুব তাড়াতাড়ি পড়ে ফেলতে হবে। উপমন্যুর সঙ্গে আরও কিছুটা সময় কাটানোর অপেক্ষায় রইলাম।
এই বইতে দুটি উপন্যাস আছে , "নিখুঁত খুন" আর "যেখানে দেখিবে ছাই" ।
দুটোতেই নায়ক সিআইডি এর গোয়েন্দা উপমন্যু। দুটোই বেশ ভালো থ্রিলার খুন নিয়ে। গল্পের টান এতটাই বেশী যে গত দুদিন যখনই সময় পেয়েছি পড়েছি। শেষ অব্দি খুনি কে জানার উৎসাহ বজায় রাখতে পেরেছেন লেখক। এ বিষয়ে তাঁর সাধুবাদ প্রাপ্য। তবে এখানে লেখক পাঠকদের আগে থেকে সব ক্লু দেননি , তাই গল্পের চমকটা বেশি ঠেকেছে। সব মিলিয়ে আমার পড়া অন্যতম সেরা গোয়েন্দা চরিত্র , সময় পেলে পড়ে নেবেন।
Radio Milan এ শুধু বিষ গল্পটি শুনে প্রথমবার উপমন্যু স্যার এর গল্প পড়ার ইচ্ছা হয়, তাই এবছর বইমেলা থেকে এইটা কিনেই নি | দুটি দারুণ গল্প দিয়ে উপমন্যু বোসের সাথে পরিচয় হয় | গল্প গুলো পরে রিয়ালিস্টিক feel হয়
We are Introduced to new Sleuth Upamanyu a police officer from the Kolkata Detective Department—in the last year or two of his retirement... নিখুঁত খুন is a great whodunit অত্যান্ত টানটান এবং সহজ সরল লেখনি এবং দুটি উপন্যাসেরই লাস্টের টুইস অসাধারণ। The author did not provide the readers with all the clues beforehand, which made the story's twist all the more striking. যেখানে দেখিবে ছাই delves into human psychology and its course very good story with a shocking twist.