Bibhutibhushan Bandyopadhyay (Bangla: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়) was an Indian Bangali author and one of the leading writers of modern Bangla literature. His best known work is the autobiographical novel, Pather Panchali: Song of the Road which was later adapted (along with Aparajito, the sequel) into the Apu Trilogy films, directed by Satyajit Ray.
The 1951 Rabindra Puraskar, the most prestigious literary award in the West Bengal state of India, was posthumously awarded to Bibhutibhushan for his novel ইছামতী.
বইয়ের দৈর্ঘ্য দেখে ভয় পেয়েছিলুম শেষ হবে কি হবে না! ভদ্রলোকের যে দু খানা গল্প সমগ্র লেখা ছিল আগে জানতুম না । খোদার নামে যা থাকে কপালে ভেবে শুরু করে দিলুম ...
বিভূতির চিরন্তন লেখনশৈলী ধরেই এগিয়েছে গল্পগুলো। গ্রাম, প্রকৃতি, সাধারণ মানুষ, ছাপোষা মানুষ, বৈচিত্রহীন জীবন, ছোট-বড় দুঃখ-কষ্ট এসব ঘিরেই বেশিরভাগ গল্পের চিত্রপট। আমাদের এমন কি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যেও বিভূতির গল্পের প্রকৃতিপ্রিয়তা ফ্যান্টাসি হয়ে থাকবে। ৫মিনিটের পথ রিকশা ছাড়া চলতে না পারা মানুষজন ভেবে অবাক হবে আগে মানুষ পায়ে হেঁটে মাইলের পর মাইল, কোশের পর কোশ পথ কিভাবে পাড়ি দিত!
চাকরি বাকরি শুরু করার পর মনে হয় জীবন বিভূতির গল্পের গ্রাম্য ছাপোষা শিক্ষকদের মতন হয়ে গেছে। এসিওয়ালা রুমে পোলাপানের ক্লাস নেই - বাইরে কী রোদ, কী বৃষ্টি কিচ্ছু টের পাই না। সেইদিন তো অফিস থেকে বেরিয়ে রাস্তাঘাট ভেজা দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলুম - কই কখন বৃষ্টি হল কিচ্ছু টের পেলুম না! এরথেকে বুয়েটে ফ্যানওয়ালা জানলাওয়ালা ক্লাসরুমগুলা বেশ ছিল! কোন বৈচিত্র্য নাই এখন আর :/
বিভূতির গল্পের আরেকটা দিক ভাল লাগে - চরিত্রগুলা নিত্য সাধারণ মানুষ। খুব কায়ক্লেশে থাকা অপর এক চরিত্রের দুঃখ-কষ্টের কথা নিজের চিন্তায় ব্যস্ত থাকা সাধারণ মানুষগুলোর মন থেকে খুব অল্পতেই দূরে সরে যাচ্ছে। কোন অতিমানব, মহামানবতা দেখানোর আয়োজন নেই। চলতে ফিরতে হঠাত কোন ভিক্ষুককে দুটো-পাঁচটে টাকা দেয়ার মতন বা কোন এক রিকশাওয়ালার দুঃখের কথা শুনে তাকে সামান্য একটু সাহায্য করবার মতন - যা ক্ষণ যেতে না যেতেই মনের মধ্যে মিলিয়ে যায়। সাধারণ মানুষদের সামাজিক মানবিকতার বোধ যতখানি প্রসারিত হওয়া সম্ভব - তার থেকে বেশিও না, কমও না।
"বড়ো" হওয়ার পথে প্রাপ্তবয়স্ক খুনখারাপি আর শীর্ষেন্দু'র জটিল সম্পর্কের খতিয়ানে ভরা গল্পগুলোর পাশাপাশি আমাকে কিছুটা হলেও এগিয়ে দিয়েছিল এই বইয়ের গল্পগুলো। এদের মধ্যে এমন একটা অপাপবিদ্ধ সরলতা আছে যা গল্পের ব্যাকরণকে তুশ্চু করেও মনে স্থায়ী রেশ রেখে যায়। এখনও যদি না পড়ে থাকেন, তাহলে এই ত্রুটি সত্বর সংশোধন করুন।
বিভূতিভূষণের লেখায় মানুষ, জীবন-যাপন, নিসর্গের মতই আরো এক উপাদান আষ্টেপৃষ্ঠে ছেয়ে আছে, তা হচ্ছে মায়া; গল্পের প্রাণ, প্রকৃতি ও জীবনধারণের দৈনন্দিন কোলাহল আর নির্জনতার মধ্যে চমৎকারভাবে প্রোথিত হয়ে আছে লেখকের লেখনীর মায়া। গল্পের এই মায়ার সাথে পাঠকের সংযোগ প্রসঙ্গে বিভূতিভূষণের আরেক ছোটগল্প "মায়া"র কথা মনে পড়ে, গল্পের চরিত্র এক ভুতুড়ে বাড়ির মায়ায় পড়ে সেখান থেকে আর বেরোতে পারেনা।
অনেকদিন ধরে একটু একটু করে পড়ছিলাম, শেষ হয়ে যায় কিনা এই ভয়ে। বইয়ের মাঝামাঝি এসে কিছু ভূতুড়ে গল্পের দেখা পেয়ে অবাকই হলাম, বিভূতিভূষণ এর লেখনীর এই দিকটা এর আগে কোথাও দেখিনি, তারানাথ তান্ত্রিকের কাহিনী ছাড়া।