Jump to ratings and reviews
Rate this book

কথার পিঠে কথা

Rate this book

248 pages, Hardcover

First published January 1, 2011

1 person is currently reading
17 people want to read

About the author

Shankha Ghosh

132 books67 followers
Shankha Ghosh (Bengali: শঙ্খ ঘোষ; b. 1932) is a Bengali Indian poet and critic. Ghosh was born on February 6, 1932 at Chandpur of what is now Bangladesh. Shankha Ghosh is regarded one of the most prolific writers in Bengali. He got his undergraduate degree in Arts in Bengali language from the Presidency College, Kolkata in 1951 and subsequently his Master's degree from the University of Calcutta. He taught at many educational institutes, including Bangabasi College, City College (all affiliated to the University of Calcutta) and at Jadavpur University, all in Kolkata. He retired from Jadavpur University in 1992. He joined the Iowa Writer's Workshop, USA in 1960's. He has also taught Delhi University, the Indian Institute of Advanced Studies at Shimla, and at the Visva-Bharati University.
Awards:
Narsingh Das Puraskar (1977, for Muurkha baro, saamaajik nay)
Sahitya Akademi Award (1977, for Baabarer praarthanaa)
Rabindra-Puraskar (1989, for Dhum legechhe hrit kamale)
Saraswati Samman for his anthology Gandharba Kabitaguccha[1]
Sahitya Akademi Award for translation (1999, for translation of raktakalyaan)
Desikottam by Visva-Bharati (1999)
Padma Bhushan by the Government of India (2011)

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
2 (100%)
4 stars
0 (0%)
3 stars
0 (0%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 2 of 2 reviews
Profile Image for Harun Ahmed.
1,744 reviews496 followers
August 27, 2025
শঙ্খ ঘোষ আমার প্রিয় কবি, প্রিয় প্রাবন্ধিক ও প্রিয় মানুষ। তার সাক্ষাৎকার পড়া একটা স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। তিনি সহজ, বিনীত, বিরুদ্ধ মতের মতে শ্রদ্ধাশীল কিন্তু অসংকোচ ও সত্য প্রকাশে দ্বিধাহীন। "মহীরুহ" বলতে যা বোঝায় শঙ্খ ঘোষ তা-ই। "কথার পিঠে কথা"য় ধরা রয়েছে কবির আন্তর ও বাহ্য অভিজ্ঞতার অনুপম উৎসারণ। নিজের লেখা, কাব্যভাবনা, জীবনদর্শন, রবীন্দ্রনাথ, অস্থিতিশীল রাষ্ট্রে যাপিত সময় ও করণীয়, সঙ্গীত, ছন্দ-সহ বহু বিষয়ে আলোচনা করেছেন তিনি। একবার পাঠে এ বইয়ের সম্পূর্ণ রসাস্বাদন করা সম্ভবপর নয়।


* বই থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি দেওয়ার লোভ সামলাতে পারছি না -

" সব সময়েই কবিতা নাড়া দেয় অল্প কিছু পাঠককে, অল্প পাঠকই কাছে টেনে নেন তাকে। তারপর কিছুদিন কেটে গেলে, কবিতা নয়, কবির নামটা লোকের কাছে পরিচিত হতে হতে একটা খেলনার মতো হয়ে দাঁড়ায়। এখন যে নিশ্বাসে নিশ্বাসে জীবনানন্দের নাম উচ্চারিত হয়, সেটা এজন্য নয় যে তিনি অনেক পাঠককে নাড়া দিয়েছিলেন তাঁর জীবনকালে (বস্তুত, অনেক উপেক্ষার অভিজ্ঞতা নিয়েই জীবন কেটেছে জীবনানন্দের), সেটা কেবল এইজন্যে যে ওই কবির নামটা এখন গৃহপালিত হয়ে গেছে। যাঁরা কবিতার প্রসঙ্গ উঠলেই জীবনানন্দের নাম বলেন, তাঁরা যে সবাই তাঁর কবিতাতে আলোড়িত হয়ে বলেন তা নয়, বলবার কোনো ঝুঁকি নেই বলে বলেন।"

"প্লেটোর আপত্তি ছিলো লেখকেরা মিথ্যে বলেন ভেবে। আর রাষ্ট্র আপত্তি করে লেখকেরা সত্যি বলেন জেনে।"

"সুবিমল (মিশ্র) খুব শক্তিমান লেখক কিন্তু আমার তত প্রিয় নন। পরীক্ষা নিরীক্ষা করছেন প্রচুর, একটু বেশিই।... প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা একটা খুব বড়ো ব্যাপার। কিন্তু প্রতিষ্ঠানবিরোধিতার কথা যদি কারো মাথায় ঢুকে যায় আর সেটা নিয়েই কেউ লেখেন, তাহলে ফল বড়ো ভালো হয় না।"

"এক সময়ে লিখেছিলাম যে সত্যি কথা বলাই হলো কবিতার একমাত্র কাজ। যথার্থ কবিতার স্বরূপ বলতে এইটেকেই বুঝি আমি এখনও। কিন্তু সত্যি কথা যে কাকে বলে, সেই নিয়েই মুশকিল। আমাদের একটা ব্যক্তিগত সত্য আছে, সমাজের সত্য আছে, গোটা জীবনেরও কোনো সত্য প্রচ্ছন্ন আছে কোথাও। তিনদিক থেকে এসে কোনো-এক বিন্দুতে এদের সংঘর্ষ হয় একটা, আর সেটাই হয়ে ওঠে কবিতার সত্যের মুহূর্ত। যোগ্য কোনো ভাষা যদি হঠাৎ ছুঁতে পারে সেই মুহূর্তটিকে, একবার কিংবা বারে বারে, তার থেকেই তবে জন্ম নিতে পারে সত্যিকারের কবিতা। অল্প সময়েই হয়তো ঘটে সেটা।"

"কোনো লেখকেরই একটা মূর্তি তৈরি হয়ে ওঠে পাঠকমনে। পাঠকমন সেই মূর্তি দিয়ে তাঁকে একরকম বেঁধে ফেলে বলা চলে। সেরকম মূর্তিকেও আমি ভাঙতে চাই। খুবই খুশি হয়েছিলাম যখন 'লাইনেই ছিলাম বাবা' বইটির নাম শোনামাত্রই অনেকেই ছি-ছি করে উঠেছিলেন, বলেছিলেন, 'এ আপনাকে মানায় না।' অর্থাৎ আমার কল্পিত স্থিরীকৃত মূর্তির সঙ্গে ও-নামটার সামঞ্জস্য নেই। তা, সে আর কী করা যাবে। সামঞ্জস্যটাকেই ভাঙতে হবে। মৃত্যুর আগেই মূর্তি স্থির হয়ে গেলে তো মুশকিল।"

" প্রশ্ন : সরাসরি কোনো প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্ত না হয়েও দেখা যায় অনেক কবি বা লেখক প্রতিষ্ঠানের প্রতি সেবামূলক মনোভাব পোষণ করে এবং ধ্বংস হয়ে যায়, এটাই বা কেন হয়?

শঙ্খ ঘোষ : যা সচল এবং বহুল, তার প্রশ্রয় পেলে সমকালীন সফলতার সম্ভাবনা বাড়ে, এইটেই হয়তো দুর্বল মনের পক্ষে মস্ত এক আকর্ষণ। যে-কোনো শিল্পের মধ্যেই আছে এক অমান্যতা, অবাধ্যতা। প্রতিষ্ঠান চায় মান্যতা আর বাধ্যতা। তাই অনিবার্য হয়ে ওঠে ভিতরে-ভিতরে এক লড়াই! দুর্বলেরা যে সে-লড়াইতে ধ্বংস হয়ে যাবে, সে তো স্বাভাবিক।"

"প্রশ্ন: আপনি কবি হলেও একজন সংসারী মানুষ, সাংসারিক দায়-দায়িত্ব ও কর্তব্য আপনার কবিসত্তার ক্ষতি করে না?

শঙ্খ ঘোষ: যখন লিখতে পারি না কিছু, কিংবা লিখে মনের মতো হয় না একেবারেই, তখন মনে মনে সাব্যস্ত করি যে সাংসারিকতার জন্যই ঘটল এই বিপর্যয়। সেটা যে নিজেরই কোনো অক্ষমতা বা ব্যর্থতা, তা স্বীকার করতে ইচ্ছে করে না। অন্য কিছুর উপর দায় চাপিয়ে দেওয়া আমাদের মর্মগত অভ্যাস। কিন্তু দীর্ঘকাল ধরে কবিতা আর জীবনের সম্পর্ক বিষয়ে যেভাবে ভেবেছি আমি, তাতে সাংসারিক দায়-দায়িত্ব থেকে পালাবার কোনো উপায় নেই। তাকে মেনে নিয়েই, তার চূড়ান্ত সংঘর্ষসূত্রে যে সত্তা জেগে ওঠে, তাকে আমি কবিসত্তা বলে মনে করতে চাই।"

"প্রশ্ন: কবি হিসাবে কবিতাকে সাধারণ পাঠকের বোধের কাছে কতটা নিয়ে যেতে চাইবেন, নাকি পাঠককেই কবিতার কাছে আসতে বলবেন?

শঙ্খ ঘোষ: কোনোটাই চাইব না, কোনোটাই বলব না। নিজের বোধের কাছে সত্য না থেকে কবিতা লেখা যায় না।যদি সে রোধের প্রকাশ এমনই হয় যে সাধারণ পাঠক তার থেকে দূরবর্তী হয়ে পড়ছেন, তাহলে সেজন্য দুঃখবোধ করা যায়, লেখা পালটানো যায় না। পাঠকও যে অনেক চেষ্টাচরিত্র করে নিজের মনকে কবিতার অভিমুখী করে তুলবেন, সেটাও খুব হয়ে ওঠে বলে মনে হয় না। কিন্তু সত্যিকারের পাঠক যে কোথাও আছেন অনতিগোচর দূরত্বে, এ নিয়ে আমার কোনো সংশয় হয় না।"
Profile Image for Anik Chowdhury.
187 reviews44 followers
March 12, 2026
"যে-মানুষ বেঁচে আছে তার অসংখ্য অপূর্ণতা নিয়ে, মৃত্যু আর প্রকৃতি দিয়ে পদে পদে খণ্ডিত যে-মানুষ, অথচ যে-মানুষ, তারই মধ্য দিয়ে নিজের বিকাশ খুঁজে চলেছে কেবল, তার সেই চলনটাকেই বলি মানবিকতা।"
- শঙ্খ ঘোষ
শঙ্খ ঘোষের গদ্য পড়তে গিয়ে চমৎকৃত হতাম। বিশেষ কিছু পড়া না হলেও ছোটদের নিয়ে তার রচনাগুলো পড়েছি আনন্দ নিয়েই। পড়ে কে বলবে যে এসব রচনা ছোটদের জন্য রচিত। তার পাশাপাশি পড়া হয়েছে 'মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে'। তার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে দেওয়া বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে একত্রিত করে 'কথার পিঠে কথা' বইটি। শঙ্খ ঘোষের  সাক্ষাৎকারে যে বিষয়টি লক্ষ তা হলো স্পষ্টতা। যেকোনো বিষয় নিয়ে ভণিতা ছাড়া যথাযথ বলে যাওয়া। সাক্ষাৎকারের বিভিন্ন অংশ তুলে ধরা হলো।

> আপনার কবিতায় কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতবাদের ছাপ পাওয়া যায় না, তবে কি আপনি বিশ্বাস করেন যে কোনো ধরণের রাজনৈতিক দর্শনের দ্বারা মানুষের সার্বিক মুক্তি সম্ভব নয়?
=> সার্বিক মুক্তি কথাটার সত্যি কোনো মানে যদি থাকে, তাহলে এটা ঠিক যে কোনো রাজনৈতিক দর্শনের মধ্য দিয়ে সেটা পাওয়া সম্ভব নয়। নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক মত থাকলে কোনো যে অসুবিধা আছে তা নয়, কেননা সেই সার্বিক মুক্তির আগেও মানুষের কোনো কোনো প্রাথমিক মুক্তি দরকার। আর, সন্দেহ নেই যে তেমন মুক্তির পথ তৈরি করে দিতে পারে কোনো রাজনৈতিক দর্শন। কিন্তু মতবর্তী হওয়া এক কথা, আর দলবর্তী হওয়া হলো আরেক কথা। আর এও সত্যি যে, মত থাকা মানেই এ নয় যে কবিতাকে করে তুলতে হবে সেই মতের কয়েকটি পদ্যসংস্করণ মাত্র। কবিতায় বিশ্বাস-অবিশ্বাসের ব্যাপারটা অনেক সময়েই প্রতিফলিত হয় খানিকটা তির্যকভাবে, অনেকটা ভিতরের দিক থেকে তার সমস্ত জটিলতা নিয়ে। 

>আত্মবিশ্লেষণ বা আত্মসমালোচনা কত দূর গেলে আত্মপীড়ন হয়ে ওঠে?
=>এটা হিসেব করে বলা শক্ত। তবে, একটু হালকা করে বলতে ইচ্ছে করে, আত্মসমালোচনায় মন যখন বেশ খুশি খুশি লাগে তখন নিশ্চয়ই বুঝতে হবে ওটা আত্মপীড়ন পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। মর্ষকামিতার মধ্যে একটা আনন্দ আছে না, তৃপ্তিবোধ? আত্মপীড়ন করে দেয় নিষ্ক্রিয়। আর আত্মসমালোচনা—সত্যিকারের আত্মসমালোচনাই যদি হয়—তাতে তৈরি হয় খানিকটা মানসিক উত্তরণ বা নবোদ্যমের সম্ভাবনা।

>তাহলে কবির ধর্ম কী?'—একটু বিস্তারিত বলুন কোন��� পরিস্থিতিতে, কী ধরণের ভাবনা থেকে এই অমোঘ পঙক্তির জন্ম।
=>সমাজজীবনে কখনো কখনো তো এমন প্রবল কোনো সংকটমুহূর্ত দেখা দেয় যখন তার সমাধানচেষ্টায় সবাইকেই এগিয়ে আসতে হয়। কে কীভাবে এগোবেন, সেটা অবশ্য তাঁর নিজস্ব বিবেচনা। একজন কবি বা শিল্পী যদি ভাবেন যে সৃষ্টির চর্চা ছাড়াও সেসব মুহূর্তে তাঁর তাৎক্ষণিক অন্য কিছু প্রত্যক্ষ কাজ করবার আছে, তাহলে কি তাঁর স্বধর্মচ্যুতি হবে? এরই ইঙ্গিত ছিল কথাটায়। কথাটা মনে হয়েছিল গুজরাত-নিধনকাণ্ডের সময়ে। অনেকেরই নিশ্চয় মনে হয়েছিল সেটা।

>ভালো ও ব্যাপক অনুবাদের অভাবে বাংলা সাহিত্য বাইরে বড়ো একটা পৌঁছতে পারছে
=>হ্যাঁ, অনুবাদের অভাব একটা খুবই বড়ো সমস্যা। অন্যান্য ভারতীয় ভাষার সাহিত্যের অনুবাদ বেশ কিছু হচ্ছে, কিন্তু বাংলা সাহিত্যের অনুবাদ সেভাবে হয়নি-এক নম্বর সমস্যা। আর অনুবাদ যদি ব্যাপকভাবে হয়, তাহলেও একটা সমস্যা থেকে যাবে। সেটা হলো, আমাদের এখানে পশ্চিম একটা বড়ো মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা কিছুই লেখা হচ্ছে ওই মানদণ্ডে বিচার করা হচ্ছে। এটা হওয়া উচিত নয়। আবার ভারতীয় ভাষায়, বিশেষ করে বাংলায়, এমন কতগুলি ভাষাগত আবহাওয়া আছে, অন্যদের কাছে যা বিশেষ পরিচিত নয়। ফলে যত ভালো জার্মান, ফরাসি বা ইংরেজি অনুবাদই করা হোক না কেন, বিদেশীদের কাছে তা খানিকটা হয়তো পৌঁছবে, কিন্তু পুরোপুরি পৌঁছতে পারবে না। কিন্তু ফরাসি, ইংরেজি বা জার্মান ভাষার মধ্যে পারস্পরিক অনুবাদ অনেক বেশি সফল হয়। কারণ তাদের চেনা-জানার ও ভাবনার জগৎ মোটামুটি কাছাকাছি। আমাদের জীবনানন্দের কিছু কিছু অনুবাদ হচ্ছে...

>কবিতা কি রাজনীতির দ্বারা প্রভাবিত হয়?
=>'প্রভাবিত' শব্দটিকে একানে সংগত মনে করি না। রাজনৈতিক চেতনা বা রাজনৈতিক ঘটনা কবিতার একটা পরিপ্রেক্ষিত তৈরি করতে পারে, কবিমনে একটা অভিঘাত তৈরি করতে পারে, স্মরণীয় অনেক কবিতারই সৃষ্টি হয় তার থেকে, এই পর্যন্ত বলা যায়।
Displaying 1 - 2 of 2 reviews