জিয়াউল কবীর সাহেবের দাদা মারা যান যখন তখন নাকি তার বুকে ফুঁটে উঠেছিলো কালো পাঁচ আঙুলের দাগ!
বৃষ্টির সময় উনার চাচা মারা যান আম গাছের ডাল ভেঙে উপরে পড়ে৷ অথচ সেই সময়ে তার সেখানে থাকারই কথা ছিল না!
দীর্ঘদিন পর জিয়াঊল সাহেব ফিরে এলেন বন্ধ বাড়িতে৷ ততদিনে বাড়িটার নাম হয়ে গেছে জ্বীন-বাড়ি৷ আর ঘটতে কী সেই বাড়ি এবং এলাকার রহস্য? জিয়াউল সাহেব ফিরে আসবার পরে আরও সব রহস্যময় ঘটনা ঘটতে শুরু করলো৷ এই নিয়েই গল্প৷
দুনিয়ায় যে আমরা মানুষ ছাড়াও অদৃশ্য এক সৃষ্টি রয়েছে, তা আমাদের সকলেরই জানা। স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা কোরআনে এর অস্তিত্বের কথা বলেছেন। এরা আমাদের কারো কারো জন্য বিস্ময়কর এবং কৌতূহলদ্দীপক আবার কারো কারো জন্য আতঙ্কের নাম। যাহোক, আলোচনায় যাওয়া যাক।
“জ্বীন-বাড়ির রহস্য” পলায় পুরকায়স্থের লেখা একটি উপন্যাসিকা। নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে যে বইটি হরর জনরার অন্তর্ভুক্ত। কবীর সাহেব সারাজীবন গ্রামের বাইরে ছিলেন। গ্রামে তাদের একটা দোতলা বাড়ি আছে। সেটা নিয়ে অনেক কল্পকাহিনি লোকমুখে শোনা যায়। কবীর সাহেবের দাদার আর চাচার মৃত্যুও খুব অস্বাভাবিক ছিল। অবশ্য এসব কারণে নয়, বরং অন্য কারণেই কবীর সাহেব শহরে বড় হয়েছেন। ঢাকা থেকে বদলি হয়ে নিজের গ্রামের স্কুলে এসেছেন এসিস্ট্যান্ট হেডটিচার হিসেবে। এসে নিজের বাড়িতেই উঠলেন। যে বাড়ির নাম ইতোমধ্যে জ্বীন-বাড়ি হয়ে গিয়েছে। এই জ্বীন-বাড়িতে আসার পর কবীর সাহেবের সাথে অদ্ভুত এবং ভয়ংকর ঘটনা ঘটতে থাকে। অশরীরীর অস্তিত্ব অনুভব করা যায়। এর বাইরে গ্রামের চেয়ারম্যান সাহেব অনেকদিন থেকে জ্বীন-বাড়িখানা হাতিয়ে নেওয়ার ধান্দায় রয়েছেন। এ-কারণে কাহিনি মোড় নেয় আরেকদিকে। অদৃশ্য অস্তিত্ব আর চেয়ারম্যানের লোভকে কেন্দ্র করে গল্প এগিয়ে চলে তার গতিতে...
◽পাঠপ্রতিক্রিয়া (কিঞ্চিৎ স্পয়লার থাকতে পারে):
হরর লেখা খুব একটা পড়া হয় না বললেই চলে। তবে হরর অডিওবুক আমার আবার খুব প্রিয়। যাইহোক, গল্পটি খুব সাধারণ ছিল। গতানুগতিক ধারার বাইরের কোনো লেখা নয়। তবে কতগুলো ব্যাপার খুবই বিচ্ছিরি বা খারাপ লেগেছে। তার মধ্যে একটা হলো ভাষার ব্যবহার। ভাষাগত অনেক ভুল ছিল। যেমন, শুদ্ধ ভাষা আর আঞ্চলিক ভাষা গুলিয়ে ফেলা। উদাহরণের জন্য বইয়ের ৩০নং পৃষ্ঠা দেখা যেতে পারে। সেখানে ইমাম সাহেব একবার শুদ্ধ ভাষায় আবার পরেরবার আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলছেন কবীর সাহেবের সাথে। এরকম একই ভুল অনেক জায়গায় দেখলাম। যা আসলেই অত্যন্ত বিরক্তিকর ছিল এবং গল্পের প্রতি আকর্ষণটা কমে আসছিল।
একইভাবে কতগুলো জায়গায় যতিচিহ্নের ভুল। এটা যদিও সমস্যা নয়। তবে কিছু জায়গায় প্রশ্নবোধক চিহ্নের পরিবর্তে দাড়ি দেওয়া ছিল। এই জায়গাগুলো ডিস্ট্রাকটিভ ছিল। আবার এক জায়গায় দেখলাম লেখকের লেখার মারপ্যাঁচে দুজন চরিত্র এক হয়ে গিয়েছে। মানে ওই জায়গায় বোঝা যাচ্ছে না যে কাজটা বা কথাটা আসলে কোন চরিত্রের দ্বারা সংঘটিত হচ্ছে। এই ভুলগুলো সামান্য হলেও কিন্তু পাঠকের মনমানসিকতা নষ্ট করে দিতে পারে সহজেই। তাই এসব ব্যাপারে দৃষ্টি দিতে হবে।
এসবের বাইরে গিয়ে গল্পের টার্ন ছিল চমৎকার। একটা জ্বীন ভূতের রহস্য যেন আস্তে আস্তে গ্রামের নোংরা রাজনীতিতে প্রকাশ পেল। তবে অদৃশ্য অস্তিত্বের উপস্থিতি ছিল। কিন্তু আবার সেটাকে পরিষ্কার করা হয়নি। অর্থাৎ সেই জ্বীনের দ্বারা সংঘটিত ঘটনাগুলোর পেছনের উদ্দেশ্য, তার আবির্ভাব, আবির্ভাবের কারণ, ইত্যাদি বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়নি। যার কারণে গল্প শেষ হয়েও অপূর্ণ থেকে যায়। বিষয়গুলো স্পষ্ট করা উচিত ছিল। লেখক যদি পাঠকের উপর এর উত্তরগুলো ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করে থাকেন, তাহলে হয়তো তিনি ভুল করেছেন। কারণ এরকম করতে হলে যেভাবে এন্ডিংটা হওয়া দরকার, সেভাবে হয়নি। একটু বেশিই অপূর্ণ ও অস্পষ্ট ছিল।
বইয়ের প্রোডাকশন ছিল চমৎকার। এই দামে এই প্রোডাকশন অনেক চমৎকার। তাও আবার হার্ডকাভারে। বই অঙ্গনের বই এবারই প্রথম হাতে নেওয়া। ফার্স্ট ইমপ্রেশন দারুণ ছিল। সম্পাদনার প্রতি আরেকটু মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিব। বাকিসব ঠিকঠাক।
বই : জ্বীন-বাড়ির রহস্য লেখক : পলাশ পুরকায়স্থ প্রকাশনী : বই অঙ্গন - Boi Angan পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৯৬ মুদ্রিত মূল্য : ১৫০৳